Views: 6
গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্যতম নেতা শফিকুল ইসলাম এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পবিত্র কুরআন শরীফ হাতে নিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ও ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছেন। একই সাথে তিনি তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে চালানো মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নগরীর আউটপাড়া এলাকার একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বৈধভাবে একটি বাজারের ইজারাদার নিযুক্ত হয়েছেন। ইজারাদার হিসেবে তিনি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী চান্দনা চৌরাস্তা কাঁচাবাজার থেকে খাজনা আদায় করে আসছেন, যা সম্পূর্ণ আইনসম্মত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, কয়েকদিন আগে ‘সত্যের সন্ধানে’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপির পরিচয়ে একজন ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ওই তথ্যগুলো সম্পূর্ণ মনগড়া, ভিত্তিহীন এবং তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শফিকুল আরও জানান, আগামী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি ১৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি দীর্ঘকাল ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের সুখে-দুখে পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কুচক্রী মহল তাকে এবং তার রাজনৈতিক দল বিএনপিকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে শফিকুল ইসলাম অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ হাতে তুলে নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেন, “আমি এই পবিত্র কুরআন ছুঁয়ে শপথ করে বলছি, আমি কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নই। আমি একজন বৈধ ব্যবসায়ী এবং জনগণের সেবক হতে চাই।” এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যারা তার সম্মানহানি করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি খুব শীঘ্রই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সংবাদ সম্মেলনে তার পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতিতে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকা প্রয়োজন, কিন্তু ব্যক্তিগত চরিত্রহনন কাম্য নয়। শফিকুল ইসলামের এই চ্যালেঞ্জ এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নিয়ে শপথের বিষয়টি বর্তমানে গাজীপুরজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন