বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন

পাহাড়ের ১৫০ ফুট নিচে মিলল নিখোঁজ মা-মেয়ের লা/শ
ব্যুরো প্রধান, পার্বত্য অঞ্চল: ডেভিড সাহা / ২৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬
বান্দরবানে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার
বান্দরবানে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

Views: 10

পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ভেঙে বান্দরবানে এক মর্মান্তিক ও রহস্যময় ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। পর্যটন নগরী বান্দরবান শহরের মেঘলা এলাকায় পাহাড়ের প্রায় দেড়শ’ ফুট গভীর খাদ থেকে এক মা ও তাঁর মাত্র চার বছর বয়সী শিশু কন্যার নিথর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো মেঘলা ও তঞ্চঙ্গ্যা পাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহ দুটি নিখোঁজ মা রমেসিং মারমা (৩০) ও তাঁর শিশুকন্যা বৃষ্টি মারমার (৪) বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে বান্দরবান শহরের মেঘলা লালমোহন বাগান সংলগ্ন তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার একটি গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। নিহতরা মেঘলার কানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত থেকেই রমেসিং মারমা ও তাঁর শিশুকন্যা বৃষ্টিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে তল্লাশি চালিয়েও তাঁদের কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা পাহাড়ের চূড়া থেকে প্রায় দেড়শ’ ফুট নিচে গভীর খাদে দুটি দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের শনাক্ত করেন।

মরদেহ উদ্ধারের পর বান্দরবান সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। গভীর ও দুর্গম খাদ হওয়ায় মরদেহ দুটি উপরে তুলে আনতে পুলিশ ও স্থানীয়দের বেশ বেগ পেতে হয়। উদ্ধার শেষে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, পাহাড়ের খাড়া চূড়া থেকে পা পিছলে বা অন্য কোনো কারণে নিচে পড়ে গিয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে পাহাড়ি এলাকার গহীন অংশে এভাবে মা-মেয়ের মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা হত্যাকাণ্ড লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসী এই রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং যদি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এর সাথে জড়িত থাকে, তবে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মান্না দে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মেঘলা এলাকা থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।

বান্দরবানের মেঘলা এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে মা ও শিশু কন্যার এই করুণ মৃত্যু পাহাড়ি জনপদে এক শোকাতুর পরিবেশ তৈরি করেছে। পুলিশি তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা ছিল নাকি অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা। সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের তৎপরতার দিকে তাকিয়ে আছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update