বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ন

পাম্পে যে পরিচয়পত্র দেখালেই দ্রুত মিলবে জ্বালানি তেল
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা / ১৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬
ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সংগ্রহের দৃশ্য এবং জরুরি সেবার অগ্রাধিকার সংক্রান্ত ব্যানার।
ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সংগ্রহের দৃশ্য এবং জরুরি সেবার অগ্রাধিকার সংক্রান্ত ব্যানার। ছবি: AI

Views: 14

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে জরুরি সেবায় নিয়োজিত পেশাজীবী যেমন—চিকিৎসক, পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির খুলনা বিভাগীয় কমিটি যৌথভাবে এই নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। জনস্বার্থে জরুরি সেবাগুলো যেন ব্যাহত না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এক প্রেস নোটিশের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের মজুদ থাকা সাপেক্ষে এই তিনটি খাতের পেশাজীবীরা অগ্রাধিকার পাবেন। যেহেতু চিকিৎসক, পুলিশ ও সাংবাদিকরা সার্বক্ষণিক জরুরি সেবায় নিয়োজিত থাকেন, তাই তাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফিলিং স্টেশনগুলোতে এই সকল পেশাজীবীদের জন্য প্রয়োজনে আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করতে হবে অথবা তাদের অফিশিয়াল পরিচয়পত্র প্রদর্শনের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে জরুরি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না।

বিভাগীয় কমিটির পক্ষ থেকে খুলনা বিভাগের সকল ফিলিং স্টেশন মালিকদের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাম্প কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তটি স্টেশনের যে কোনো দৃশ্যমান স্থানে বোর্ড বা পোস্টার আকারে প্রদর্শন করতে হবে, যাতে সাধারণ গ্রাহক এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। এটি মূলত পাম্পগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং একটি সুশৃঙ্খল বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে সীমিত সম্পদের সঠিক বণ্টন এবং জরুরি সেবা সচল রাখা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীর সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ এবং তথ্য প্রবাহ সচল রাখা সংবাদকর্মীরা যেন জ্বালানি সংকটের কারণে দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত না হন, সেটিই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য। খুলনা বিভাগের এই মডেলটি সফল হলে পরবর্তীতে অন্যান্য অঞ্চলেও এমন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে এই নির্দেশনা মেনে চলার এবং পাম্প কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে জরুরি সেবাগুলো কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই পরিচালিত হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update