Views: 12
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্ভরশীল মৎস্যজীবীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ হলরুমে তিন দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় জেলেদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং জলজ সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মিজানুর রহমান। কর্মশালাটির সভাপতিত্ব করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী এ অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং এই নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। মৎস্য আহরণের ক্ষেত্রে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করলে নদী থেকে টেকসইভাবে মাছ উৎপাদন সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কাপ্তাইয়ের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোঃ এরশাদ বিন শহিদ এবং রাঙামাটি সদরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা টিপু সুলতান। এছাড়া কাপ্তাই উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বিমল জ্যোতি চাকমাসহ স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে কর্ণফুলী নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কর্ণফুলী নদীর উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায় থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে মোট ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন। এই সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের আধুনিক মৎস্য আহরণ পদ্ধতি, মাছের গুণগত মান বজায় রেখে দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ করার কৌশল, জলজ সম্পদ রক্ষা এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষকরা আশা করছেন, এর মাধ্যমে জেলেরা কেবল মাছ ধরাই নয়, বরং নদীর বাস্তুসংস্থান রক্ষায়ও সচেতন হয়ে উঠবেন।
আয়োজক কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জেলেদের পেশাগত দক্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। কর্ণফুলী নদীর জলজ সম্পদ সংরক্ষণ ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই কর্মশালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নিয়মিত বিরতিতে এমন প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হলে জেলেদের মাঝে সচেতনতা বাড়বে এবং তারা সরকারি বিধিনিষেধ মেনে সুশৃঙ্খলভাবে মৎস্য আহরণ করতে সক্ষম হবেন।
কর্ণফুলী নদীর মৎস্য সম্পদের টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে এই প্রশিক্ষণ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। জেলেদের দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে নদীকেন্দ্রিক নীল অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি শক্তিশালী হবে এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ সুগম হবে।
আরও পড়ুন
কাপ্তাইয়ে প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনায় অশ্রুসিক্ত সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা