Views: 23
গাজীপুরের শ্রীপুর রেঞ্জের বনাঞ্চলে আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুম শুরু হতে না হতেই এই বনাঞ্চলগুলোতে আগুন লাগার ঘটনা যেন একটি নিয়মিত এবং উদ্বেগজনক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। আগুনের লেলিহান শিখায় বনের বিশাল অংশজুড়ে থাকা লতাগুল্ম ও ঝরা পাতা পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে বনের সামগ্রিক বাস্তুসংস্থান মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে, এবারের অগ্নিকাণ্ড বনের গভীরে ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।
বনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত আগুনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বন্যপ্রাণী। আগুনে পুড়ে মারা যাচ্ছে ছোট কীটপতঙ্গ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরীসৃপ ও ঝোপঝাড়ে বাস করা পাখির ছানা। অগ্নিকাণ্ডের ফলে বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আবাসস্থল মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অনেক বন্যপ্রাণী বাঁচার তাগিদে লোকালয়ে চলে আসছে, যা মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক। বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় প্রাণীরা তাদের বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রও হারিয়ে ফেলছে।
বনের মাটিতে জমে থাকা ঝরা পাতা এবং ছোট ছোট লতাগুল্ম পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় পশুপাখিরা তীব্র খাদ্য সংকটে পড়ছে। মাটির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বনের স্বাভাবিক পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গাজীপুরের এই বনাঞ্চলকে ‘ঢাকার ফুসফুস’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বন ধ্বংস হওয়ার ফলে বায়ুদূষণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। এই বনাঞ্চলটি স্থানীয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা এখন হুমকির মুখে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বনাঞ্চলে আগুন লাগার পেছনে অনেক সময় অশুভ উদ্দেশ্য কাজ করে। অনেক ক্ষেত্রে ভূমিদস্যুরা বনের জমি দখল করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে শুকনো পাতায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে গাছ মরে গেলে জমি দখল করা সহজ হয়। এছাড়াও অসাবধানতাবশত পথচারী বা কাঠুরেদের ফেলে দেওয়া সিগারেটের আগুন থেকেও অনেক সময় বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। তবে বনের ভেতরে আগুনের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো তদন্তের দাবি উঠেছে।
আমাদের অমূল্য বনসম্পদ রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। শ্রীপুর রেঞ্জের এই মূল্যবান বনাঞ্চলকে বাঁচাতে হলে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ খুঁজে বের করে এর পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে বন রক্ষায় স্থানীয় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করা হলে এই পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হবে।