বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত
নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৩৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
বগুড়ার সান্তাহারে তিলকপুর স্টেশনের কাছে নীলসাগর এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে থাকা বগিগুলো ও পাশে উৎসুক মানুষের ভিড়।
বগুড়ার সান্তাহারে তিলকপুর স্টেশনের কাছে নীলসাগর এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে থাকা বগিগুলো ও পাশে উৎসুক মানুষের ভিড়।

Views: 14

রাজধানী ঢাকা থেকে নীলফামারীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। আজ বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে বগুড়ার সান্তাহার জংশনের নিকটবর্তী তিলকপুর এলাকায় ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনার ফলে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেলযোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, যা এই রুটের হাজার হাজার যাত্রীর জন্য চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে।

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে নীলফামারী যাওয়ার পথে ট্রেনটি যখন তিলকপুর স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন বিকট শব্দে বগিগুলো লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনের মাঝখানের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের ওপর কাত হয়ে পড়ে আছে। ভাগ্যক্রমে এখন পর্যন্ত বড় ধরণের কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে বগিগুলো ছিটকে পড়ার সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই সান্তাহার রেলওয়ে জংশন এবং আশপাশের স্টেশন থেকে উদ্ধারকারী কর্মীরা ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছেন। তবে ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় রেললাইনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মেরামত করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করছেন রেল প্রকৌশলীরা। সান্তাহার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করবে। তবে লাইন সচল হতে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে ঠিক কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গমুখী বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে। এর মধ্যে দ্রুতযান, একতা ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসসহ গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলো বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে গরমের মধ্যে বনের ভেতরে বা ছোট স্টেশনে আটকে থাকা শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে। অনেক যাত্রী বিকল্প হিসেবে সড়কপথ ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন, ফলে মহাসড়কগুলোতেও যানবাহনের বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। লাইনের ত্রুটি নাকি যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে বর্তমানে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে লাইনটি দ্রুত সংস্কার করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার ওপর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন যাতে রাতের মধ্যেই অন্তত একটি লাইন সচল করা যায়।

নীলসাগর এক্সপ্রেসের এই দুর্ঘটনা উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক স্থবিরতা নিয়ে এসেছে। উদ্ধার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে রেলওয়ে বিভাগের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update