শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন

নওগাঁয় জীবিত গাছকে মরা গাছ বানিয়ে দরপত্রে বিক্রির অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার / ৪২৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০

Views: 1

একেএম কামাল উদ্দিন টগর,নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ

নওগাঁর রানীনগর উপজেলা পরিষদে জীবিত গাছকে মৃত গাছ হিসেবে দেখিয়ে দরপত্রে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ভেতরে কোনো ভেঙ্গে পরা গাছ না থাকলেও এখানে টেন্ডার হয়েছে ঝড়ে ভাঙ্গা ৯টি মরা গাছ কর্তনের। দরপত্রের ইজারা গ্রহীতা আব্দুস সালাম এক লক্ষ টাকা মূল্যে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন জীবিত ৯টি গাছ।
জানা গেছে, গত ২২ মার্চ নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দপ্তর থেকে ৪৬.৪৩.৬৪৮৫.০০৬.০৩৪.৩৪.২০-৩৩৭ নং স্মারকে টেন্ডারের মাধ্যমে ঝড়ে ভাঙ্গা ও মরা গাছ কর্তনের টেন্ডার হয়। দরপত্রে উল্লেখিত গাছগুলোর অবস্থান উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে। অথচ ইউএনও ইজারা গ্রহীতার সঙ্গে যোগসাজস করে নামমাত্র মূল্যে জীবিত গাছগুলো বিক্রয় করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলা চত্বরে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা মরা কোন গাছ নেই। তাই ইজারা গ্রহীতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজস করে জীবিত গাছগুলি কেটেছেন। সবগুলি গাছ কর্তন করা হলেও রেইনট্রি গাছটি ডালপালা ছাঁটা অবস্থায় গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে। ইজারা গ্রহীতার পক্ষের লোকজন ক’দিনে উপজেলার পরিষদের অভ্যন্তরের জীবিত ৮টি ইউক্যালিপটাস গাছ কর্তন করেছে। তবে ছায়াবৃক্ষ ১টি রেইনট্রি গাছের ডালপালা কর্তন করা হলেও কাজ বন্ধ থাকায় গাছটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত এলাকায় ঝড়ে ভাঙ্গা ও মরা ৯টি গাছ কর্তনের নিলাম হয়। কিন্তু তা না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঁতাত করে নামমাত্র টেন্ডার দেখিয়ে বিশালাকারের সবুজ ৯টি ছায়াবৃক্ষ কাটা হয়েছে। গত ৫ বছরে রাণীনগরে গাছপালা ভেঙ্গে যাওয়ার মতো কোন ঝড় হয়নি এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরে কোন গাছ ঝড়েও ভাঙ্গেনি, মরেও যায়নি। মাঝখান থেকে বিভিন্ন সময় গাছগুলির নিচে বসে যে বিশ্রাম নিতাম এখন থেকে সে যায়গাটুকুও রইলোনা।
টেন্ডার কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সাইদুর রহমান মিয়ার সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, গাছ কাটার বিষয় নিয়ে আমি আজকে কথা বলতে চাচ্ছিনা আপনি আগামী রবিবার কথা বলেন। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন একটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ হচ্ছে কিছু গাছ মরাও ছিল এসব ডিস্ট্রিক কমিটির অনুমোদন নিয়ে কাটা হচ্ছিল। আর বাঁকী বিষয় ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিউজ না করতে এবং সরাসরি দেখা করতে অথবা তার কাছে প্রতিবেদকের প্রতিনিধিকে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেন। অন্য একটি প্রশ্নে তিনি এ সংশ্লিষ্ট কোন কাগজপত্র দিতে বা দেখাতে অনিহা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update