বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

বগুড়ায় ২২ সদস্যের পরিবারে ১৬ জনই জন্মান্ধ, জন্মান্ধ পরিবারটির নেই স্থায়ী ঘর।
নাজমুল হাসান নাজির / ১৯৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট রবিবার, ৪ মে, ২০২৫

Views: 0

বগুড়ায় ২২ সদস্যের পরিবারের ১৬ জনই কখনো পৃথিবীর আলো দেখেনি। প্রকৃতির সব রূপই তাদের কাছে অচেনা। বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দান হাটা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ছোবাহানপুর গ্রামে এই পরিবারটির বসবাস।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল জব্বার ছিলেন জন্মান্ধ। চোখে দেখেন এমন একজনকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস! তাদের ঘরে জন্ম নেয়া ৬ সন্তানের কেউই চোখে দেখেন না। এই পরিবারের এখানেই শেষ নয়। আবদুল জব্বারের ৩ ছেলে শহিদুল, বুলু, টুলুর ঘরে জন্ম নেয়া কোনো সন্তানই পৃথিবীর আলো দেখার সৌভাগ্য নিয়ে জন্মেনি। তাদের মেয়ে জহিলা, সহিদা ও মমেনার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। বিয়ে হলেও গর্ভের সন্তান অন্ধ হতে পারে, এই ভয়ে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক রাখতেন না। একপর্যায়ে আবারো দৃষ্টিহীন সন্তান জন্ম দেওয়ায় হয়ে যায় বিবাহ বিচ্ছেদ। দৃষ্টিহীন সন্তান জন্ম দেয়ায় এখন তিন বোনই বাবার বাড়িতে।
শুধু চোখের আলোই নয় শিক্ষার আলো, পৃথিবীর আলো থেকে বঞ্চিত এই পরিবার। দৃষ্টিহীন এই পরিবারটির নেই কোনো জমিজমা। শুধু বেঁচে থাকার জন্য স্বপ্ন দেখেন একটি স্থায়ী ঘরের।
জন্মান্ধ জহিলা, সহিদা ও মমেনাসহ সবাই বলেন, আমরা মানুষের জায়গায় থাকি, আমাদের স্থায়ী কোনো জায়গা নেই। কেউ যদি আমাদের থাকার জায়গার ব্যবস্থা করে দিত, আমরা স্থায়ীভাবে থাকতে পারতাম। আমরা প্রতিবন্ধীরা একটা ঘরের মধ্যে সবাই কষ্ট করে থাকি।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, ২২ সদস্যের পরিবারে ১৬ জনই জন্মান্ধ। এটা আমি জানতাম না। যখন জেনেছি সঙ্গে সঙ্গে চাল, ডাল, শাড়ি, নগদ কিছু টাকা সহযোগিতা করা হয়েছে। আগামীতে এই পরিবারের বাসস্থানের জন্য চেষ্টা করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update