বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম:
উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলি, যুবক হাসমত উল্লাহ রক্তাক্তSOC – Shadow of Change-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন: সভাপতি সোহান, সম্পাদক লুৎফুর। ‎পালংখালীতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক মিলনমেলাব্যবহৃত টিস্যু পকেটে রাখি, পরিবেশ রক্ষা আমাদের অভ্যাসের প্রতিফলন: গাজীপুরের জেলা প্রশাসকটেকনাফে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের বড় সাফল্য: বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেটসহ অস্ত্র উদ্ধারগাজীপুরে কিশোর অটোরিকশাচালক শুভকে গ/লা কে/টে হ/ত্যাপেশার মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে উখিয়ায় ওষুধ প্রতিনিধিদের বিশাল মানববন্ধনবান্দরবানে শিক্ষকদের অনিয়ম ও জরাজীর্ণ ভবনে ধুঁকছে মাংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টেকনাফে র‌্যাবের অভিযান: চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার মূল হোতা জাহাঙ্গীর গ্রেফতারপর্যটন ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত: বদলে যাচ্ছে হবিগঞ্জের প্রবেশদ্বার শায়েস্তাগঞ্জদুর্গম রুমায় উন্নয়নের দাবি, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় পাহাড়ের মানুষটঙ্গী থেকে নিখোঁজ হওয়া ৩ শিশু বরিশাল থেকে উদ্ধারধুনটে শীর্ষ মাদক কারবারি বেল্লাল গ্রেপ্তার৫০ কোটি টাকার মামলার জালে সাংবাদিকতা: হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনটেকনাফে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: বিদেশী রাইফেল ও ৭০ হাজার ইয়াবা জব্দ

মা দিবসে ববিতার জীবনসংগ্রাম

সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য একাই লড়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই অভিনেত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য একাই লড়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই অভিনেত্রী

স্বামী ইফতেখারুল আলমের সঙ্গে ববিতা, পাাশে সন্তান অনিক

১০৩

বাংলার চলচ্চিত্রের কালজয়ী অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। রুপালি পর্দার ঝলমলে আলোর আড়ালে এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর জীবন ছিল সীমাহীন ত্যাগ ও সংগ্রামের মহাকাব্যে ঘেরা। আজ বিশ্ব মা দিবসে নিজের সেই সংগ্রামী জীবনের অজানা অধ্যায়গুলো শেয়ার করেছেন তিনি। ১৯৮২ সালে ব্যবসায়ী ইফতেখারুল আলমকে বিয়ে করেছিলেন ববিতা। মাত্র ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনের মাথায় ১৯৯৩ সালে স্বামীহারা হন তিনি। এরপর সামনে ছিল দুটি পথ—হয় নতুন করে জীবন শুরু করা, না হয় একা হাতে একমাত্র সন্তান অনিক ইসলামকে মানুষ করা। ববিতা বেছে নিয়েছিলেন কঠিন পথটি। সন্তানের সুখ ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি এই ‘অশনি সংকেত’ খ্যাত তারকা।

স্বামীর মৃত্যুর পর ববিতার চারদিকে যেন ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছিল। অনিকের বয়স তখন মাত্র তিন বছর। একদিকে আকাশচুম্বী ক্যারিয়ারের ব্যস্ততা, অন্যদিকে কোলের শিশুকে আগলে রাখার লড়াই। ববিতা জানান, স্বামী ইফতেখারুল আলম তাঁকে সিনেমার বিষয়ে সবসময় পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর অকাল প্রয়াণে ববিতাকে একাই শুটিং, আয়-রোজগার এবং সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়। আত্মীয়স্বজন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে পুনরায় বিয়ের জন্য প্রচুর চাপ থাকলেও ববিতা ছিলেন অনড়। তাঁর ভয় ছিল, নতুন কেউ সংসারে এলে হয়তো ছোট্ট অনিকের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন না বা অনিক তাঁর প্রাপ্য ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হবে।

শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝে সন্তানকে চোখে চোখে রাখার জন্য ববিতা এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। ‘লেডি স্মাগলার’ ছবির শুটিং করতে ফিলিপাইনে গিয়ে তিনি অ্যানি সি স্কোভা নামের এক তরুণীকে পছন্দ করেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ অনুমতি নিয়ে সেই ফিলিপিনো তরুণীকে দেশে নিয়ে আসেন অনিকের দেখাশোনার জন্য। অ্যানি প্রায় ১০-১২ বছর ববিতার সংসারে ছায়ার মতো ছিলেন। ববিতা আবেগাপ্লুত হয়ে স্মৃতিচারণ করেন, অনিক যখন ছোট ছিল, তখন শুটিংয়ে যাওয়ার সময় ও খুব কাঁদত। কিন্তু পেশাদারিত্বের দায়বদ্ধতা আর সংসারের খরচ চালানোর তাগিদে চোখের জল মুছে ববিতাকে স্টুডিওতে যেতে হতো। আউটডোর শুটিং প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন যাতে দিনশেষে ছেলের কাছে ফিরতে পারেন।

ববিতার সেই ত্যাগের ফল আজ সোনায় সোহাগা। মা ববিতার যোগ্য সন্তান হিসেবে অনিক ইসলাম কানাডার ওয়াটার লু ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে এখন প্রতিষ্ঠিত। ববিতা মনে করেন, একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে তাঁর পথচলা অনেক কঠিন হলেও অর্জিত শান্তি অতুলনীয়। অনিক বড় হওয়ার পর একবার মাকে বলেছিলেন একজন সঙ্গী খুঁজে নিতে, কিন্তু ববিতা মুচকি হেসে জানিয়েছিলেন, “বাবা, তুমি আছো তো, আমার আর কাউকে লাগবে না।” সত্যজিৎ রায়ের বিশ্বজয়ী সিনেমা থেকে শুরু করে ২৭৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই গুণী অভিনেত্রী আজ গর্বিত এক মা হিসেবে জীবন অতিবাহিত করছেন।

ফরিদা আক্তার ববিতা কেবল একজন সফল অভিনেত্রীই নন, বরং প্রতিটি সিঙ্গেল মাদারের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ ‘সুপারহিট’ চিত্রনাট্য।

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলি, যুবক হাসমত উল্লাহ রক্তাক্ত

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলি, যুবক হাসমত উল্লাহ রক্তাক্ত

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবার অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীদের গুলিতে হাসমত উল্লাহ (২২) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে বালুখালী ৮-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই অতর্কিত হামলার ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় ক্যাম্পজুড়ে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আহত হাসমত উল্লাহ ওই ক্যাম্পের বি-৪৩ ব্লকের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বালুখালী ক্যাম্প-০৮ ইস্ট এলাকায় আরসা (ARA) প্রধান নবী হোসেনের ভাই ভুলুর বসতঘরের সামনে অবস্থান করছিলেন হাসমত উল্লাহ। ঠিক সেই মুহূর্তে একদল অজ্ঞাত সন্ত্রাসী সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গুলিবর্ষণের এই ঘটনায় হাসমত উল্লাহর ডান হাতে দুটি গুলি বিদ্ধ হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা এবং এপিবিএন পুলিশের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে ক্যাম্প সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত কুতুপালং এমএসএফ (MSF) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক যুবক আহত হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান এই সশস্ত্র হামলা ও সহিংসতার ঘটনা সাধারণ বাসিন্দাদের জীবনের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

SOC – Shadow of Change-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন: সভাপতি সোহান, সম্পাদক লুৎফুর। ‎

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
SOC – Shadow of Change-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন: সভাপতি সোহান, সম্পাদক লুৎফুর। ‎

সামাজিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন SOC – Shadow of Change-এর নতুন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে আগামী মেয়াদের জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়।

‎নবগঠিত এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কামরান আলী চৌধুরী সোহান। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন এম লুৎফুর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফাইজাবুল আফ্রিদি ফাহিম।

‎সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হয়েছে। নবনির্বাচিত এই কমিটি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এবং সামাজিক উন্নয়নে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে সাধারণ সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

‎নবনির্বাচিত সভাপতি কামরান আলী চৌধুরী সোহান বলেন, “আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।”

‎নতুন এই নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভকামনা জানাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে, এই সুযোগ্য নেতৃত্বের হাত ধরে ‘Shadow of Change’ তাদের নতুন দিগন্তের পথে সফলভাবে এগিয়ে যাবে।

পালংখালীতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক মিলনমেলা

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
পালংখালীতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক মিলনমেলা

উখিয়ার পালংখালীতে আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উঠান বৈঠকে উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ।

“মানসম্মত শিক্ষা, জাতির প্রতিজ্ঞা”—এই দৃঢ় অঙ্গীকারকে হৃদয়ে ধারণ করে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়ায় এক ব্যতিক্রমী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুদের পঠন দক্ষতার উন্নয়ন, বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ এবং প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকাল ৪টায় পূর্ব ফারিরবিলের করাচি পাড়াস্থ সাইফুলের বাড়িতে আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে যা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম সিরাজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও প্রাক্তন সভাপতি হেলাল উদ্দিন। আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ জাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে বক্তারা শিশুদের মেধা বিকাশে কেবল বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর না করে অভিভাবকদের নিয়মিত তদারকির ওপর বিশেষ জোর দেন।

বৈঠকে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা বৃদ্ধি। শিশুদের রিডিং পড়ার সক্ষমতা বাড়াতে বাড়িতে নিয়মিত অনুশীলন করানোর জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া প্রতিদিন শিক্ষার্থীকে সময়মতো বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং ঝরে পড়া রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেওয়া হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, শুধু ক্লাসের পাঠ্যবই নয়, বরং শিশুর সৃজনশীল মেধা বিকাশে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। অভিভাবকরা সরাসরি শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় তাদের সন্তানদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উখিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম সিরাজী বলেন, একটি শিক্ষিত জাতি গঠনের মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করতে এবং শিক্ষার প্রকৃত গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে শুধু শ্রেণিকক্ষই যথেষ্ট নয়, অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সচেতন হতে হবে। তিনি আরও বলেন, আজকের এই উঠান বৈঠক সেই সচেতনতা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। উপস্থিত অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে নিজেদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ জাহান।

উখিয়ার দুর্গম এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই উঠান বৈঠক একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। শিক্ষক ও অভিভাবকদের এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চল থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নেমে আসবে এবং মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হবে।