রুমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বছরের পর বছর অকেজো সরকারি অ্যাম্বুলেন্স, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি: প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
রুমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বছরের পর বছর অকেজো সরকারি অ্যাম্বুলেন্স, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

oplus_32

২৬৬

বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের পাশে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে সরকারি একটি অ্যাম্বুলেন্স। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক থেকে দুই বছর ধরে অ্যাম্বুলেন্সটি অচল অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা মেরামতের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে দুর্গম এলাকার রোগীদের চিকিৎসা সেবায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য অন্তত দুটি অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স চালু রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বেশি হলে কিংবা কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে রোগী পরিবহনে সংকট তৈরি হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল আল হাসান জানান, বর্তমানে চালু থাকা অ্যাম্বুলেন্সটির টায়ার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ অনেকটাই ক্ষয় হয়ে গেছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি সচল রাখতে মাঝেমধ্যে মেরামত করতে হয়। এখন পর্যন্ত আনুমানিক এক লাখ টাকার মতো ব্যক্তিগতভাবে খরচ করেছি। সরকারি কোনো বাজেট না পাওয়ায় নিজের খরচে গাড়িটি গ্যারেজে নিয়ে মেরামত করাতে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অকেজো পড়ে থাকা পুরোনো অ্যাম্বুলেন্সটি চালুর বিষয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হয়েছিল। তবে এখনো কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

এদিকে হাসপাতালের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে বলেও জানা গেছে। বিশেষ করে নাইট প্রহরী ও বাবুর্চি পদ খালি থাকায় হাসপাতালের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল আল হাসান ব্যক্তিগত খরচে দীর্ঘদিন ধরে একজন বাবুর্চির ব্যয় বহন করছেন বলেও জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অকেজো অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত করে চালুর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এলাকাবাসীর মতে, ঝাড়ুদার, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল বাড়ানো হলে দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষ আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...