রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
ফুলবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধ/র্ষ/ণ: যুবক গ্রেপ্তারগুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে জেঁকে বসছে আগাম শীতের আমেজহিলিতে কাঁচামরিচের বাম্পার ফলন: চড়া দামে কৃষকের মুখে হাসিহিলিতে অসময়ে মাচায় তরমুজ চাষ: প্রথমবারেই লাখপতি কৃষক আতিয়ারগাজীপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভাবড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ: উত্তরাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিংহিলিতে শিয়ালের কামড়ে নারী, শিশুসহ আহত ৮প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় বোনসহ গ্রেফতার ৩‎টেকনাফে মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেটের সাইনবোর্ড উপড়ে জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ। ‎ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে তোড়জোড়: শীর্ষ পদে আলোচনায় যারাপৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অস্তিত্ব সংকটে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডুগাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন: ৩৮ নং ওয়ার্ডে সৎ নেতৃত্ব ও উন্নয়নের প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন মোঃ কামরুজ্জামান (কামরুল)কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ​গাজীপুরে ঠিকাদার রানা মিয়াকে ঘিরে ষড়যন্ত্র: মিথ্যা মামলা নাকি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব?নরসিংদী ডিসি রোডে পৌরসভার জায়গা নিয়ে কথা

উখিয়ায় বিজিবির চার সফল অভিযান: ২ লাখ ৯৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ২, জিপ ও নৌকা জব্দ

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় বিজিবির চার সফল অভিযান: ২ লাখ ৯৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ২, জিপ ও নৌকা জব্দ
১০৬

কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় মাদকের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন ও ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উখিয়ায় এক বিশাল ইয়াবার চালান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৬৪ বিজিবি)। বিজিবির একাধিক আভিযানিক দল সীমান্ত অঞ্চল ও প্রধান সড়কের পৃথক চার স্থানে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে মোট ২ লাখ ৯৪ হাজার পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই সমন্বিত অভিযানে দুই মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করার পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পর্যটকবাহী ‘চাঁদের গাড়ি’ (জিপ) এবং একটি সাধারণ নৌকা জব্দ করেছে বিজিবি জোয়ানরা।

বিজিবি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী আঞ্জুমানপাড়ার ফাইসা খাল সংলগ্ন স্থানে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কৌশলগত অবস্থান নেয়। সে সময় মিয়ানমার সীমান্ত থেকে জেলের ছদ্মবেশ ধারণ করে হাতে মাছের ঝুড়ি নিয়ে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। লোকটি কাছে পৌঁছালে বিজিবি সদস্যরা তাকে থামার জন্য চ্যালেঞ্জ জানান। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চতুর পাচারকারী পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মোঃ ইমরান (৩৪) নামের ওই পাচারকারীর সাথে থাকা মাছের ঝুড়ি তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ৫০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বাটন মোবাইল ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক ইমরান উখিয়ার বালুখালী নলবুনিয়া গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে খারাংখালী বিওপির বিএসপি পোস্ট এলাকায় মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে দুই পাচারকারীকে ধাওয়া করে বিজিবি। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া খেয়ে তারা দুটি পোটলা ফেলে রেখে দ্রুত সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা ফেলে যাওয়া পোটলা দুটি উদ্ধার ও তল্লাশি করে ভেতরে লুকানো ২ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করে।

একই দিন বিকেলের দিকে শীলখালী চেকপোস্টে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি পর্যটকবাহী ‘চাঁদের গাড়ি’ থামালে বিজিবির প্রশিক্ষিত স্নাইফার ডগ ‘হেনরি’র সহায়তায় নিবিড় তল্লাশি চালানো হয়। ডগ স্কোয়াডের সুনির্দিষ্ট সংকেতের ভিত্তিতে গাড়িটির স্টিয়ারিংয়ের নিচে অত্যন্ত অভিনব কায়দায় লুকানো ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ চালক মোঃ ওমর ফারুক (১৯)-কে আটক করা হয় এবং চাঁদের গাড়িটি জব্দ করা হয়। অভিযুক্ত ওমর ফারুক কক্সবাজার সদরের পিএমখালী এলাকার অধিবাসী।

এছাড়া সীমান্ত সংলগ্ন পূর্ব ক্যারেঙ্গাঘোনা এলাকায় মাঝির ছদ্মবেশে আসা এক ইয়াবা পাচারকারী বিজিবির সজাগ উপস্থিতি অনুধাবন করে নদী তীর থেকে মিয়ানমারের দিকে সাঁতরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে টহল দল তার ফেলে যাওয়া খালি নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে কাঠ ও পাটাতনের নিচ থেকে আরও ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে এবং নৌকাটি জব্দ করে।

আটককৃত দুই মাদক কারবারিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা স্বীকার করে যে, মিয়ানমার ও টেকনাফ সীমান্ত অঞ্চল থেকে অত্যন্ত কম দামে ইয়াবার এই বড় চালানগুলো সংগ্রহ করে পরবর্তীতে কক্সবাজার শহরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

এই বিশাল অভিযান ও মাদক জব্দের সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ মাদকের অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান সম্পূর্ণ রুখে দিতে বিজিবির কঠোর গোয়েন্দা তদারকি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। মাদকের সাথে জড়িত এই চক্রের মূল হোতা ও নেপথ্যের চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের সহযোগিতায় বিজিবির তল্লাশি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ৬৪ বিজিবির এই চৌকস ও বহুমুখী অভিযান সীমান্ত সুরক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ডগ স্কোয়াড ও গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক ব্যবহারে বিশাল ইয়াবার চালান ভেস্তে যাওয়ায় দেশের আইনশৃঙ্খলা ও তরুণ সমাজ সুরক্ষায় ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়বে।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

ফুলবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধ/র্ষ/ণ: যুবক গ্রেপ্তার

প্রতিবেদক: নুরুজ্জামান হোসেন, হিলি (দিনাজপুর) প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
ফুলবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধ/র্ষ/ণ: যুবক গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস ও প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে ইফতিয়ার আহমেদ জোবায়ের (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী তরুণীর দায়ের করা সুনির্দিষ্ট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত যুবককে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারকের আদেশে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম।

দায়েরকৃত মামলার এজাহারের বিবরণী থেকে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী হাকিমপুর উপজেলার বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে প্রায় ছয় মাস পূর্বে অভিযুক্ত জোবায়েরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে জোবায়ের তরুণীকে বিভিন্ন সময়ে আশ্বস্ত করেন যে, তাদের এই পরিণয়ে তার পরিবারের পূর্ণ সম্মতি রয়েছে এবং খুব শিগগিরই তারা সামাজিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। যুবকের এমন আশ্বাসে তরুণী সরল বিশ্বাসে সম্পর্কের গভীরতায় জড়ান।

অভিযোগে প্রকাশ, গত ৫ অক্টোবর বিকেলে জোবায়ের তার বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে কৌশলে ওই তরুণীকে ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর চৌধুরীপাড়ায় তাদের নিজ বসতবাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে উপস্থিত সকলের সামনেই বিয়ের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ভান করা হয়। এরপর সেখানে অবস্থান ও রাতযাপনের একপর্যায়ে তরুণীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিয়ের চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোবায়ের জোরপূর্বক তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৬ অক্টোবর সকালে ভুক্তভোগী তরুণী বিষয়টি জোবায়েরের পিতা-মাতার নজরে আনেন এবং তাদের আশু পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন। এ সময় জোবায়েরের অভিভাবকরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিয়ের সামাজিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করার মৌখিক আশ্বাস প্রদান করেন। এরপর জোবায়ের নিজে গিয়ে তরুণীকে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। কিন্তু বাড়ি ফিরে যাওয়ার কিছু সময় পরই যুবকের মনোভাব সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ওই তরুণীকে কোনো অবস্থাতেই তিনি বিয়ে করবেন না।

যুবকের এমন আকস্মিক অস্বীকৃতির কারণ জানতে চাইলে জোবায়ের উল্টো তরুণীকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিতে থাকেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও জোবায়েরের পরিবারের সদস্যরাও তাকে পুত্রবধূ হিসেবে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানান। চরম প্রতারণা, অপমান ও সামাজিক অবক্ষয়ের মুখে পড়ে ভুক্তভোগী তরুণী কোনো উপায় না দেখে অবশেষে সুবিচারের আশায় ফুলবাড়ী থানায় উপস্থিত হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেন।

মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পরপরই ফুলবাড়ী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত জোবায়েরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার যথাযথ পুলিশি পাহারায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, তরুণীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিয়ের প্রলোভনে তরুণীদের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্কের পর অস্বীকার করার মতো সামাজিক অপরাধ তরুণ সমাজ ও পারিবারিক নিরাপত্তাকে প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। সমাজে আস্থা ও মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে হলে এ ধরনের বিশ্বাসভঙ্গকারী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতাই পারে অসহায় নারীদের সম্মান ও অধিকার সমুন্নত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে জেঁকে বসছে আগাম শীতের আমেজ

প্রতিবেদক: নুরুজ্জামান হোসেন, হিলি (দিনাজপুর) প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে জেঁকে বসছে আগাম শীতের আমেজ

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে আশ্বিনের বিদায়লগ্নে আকস্মিক গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় প্রকৃতিতে আগাম শীতের পদধ্বনি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিরতিহীনভাবে আকাশ ভেঙে থেমে থেমে ঝরছে এই হালকা বৃষ্টিপাত। অঝোর ধারার বদলে থেমে থেমে চলা এই বৃষ্টি এবং তার সঙ্গে মিশে থাকা শীতল বাতাসের দোলায় গোটা জনপদে এক ধরনের স্নিগ্ধ শীতের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃতির এমন অকস্মাৎ পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বেশ কিছুটা স্থবিরতা ও ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই পুরো হিলি অঞ্চলের আকাশ ঘন মেঘের চাদরে ঢাকা পড়ে থাকে, যার ফলে সারাদিনেও সূর্যের সোনালী রোদের দেখা মেলেনি। মেঘাচ্ছন্ন বৈরী আবহাওয়া এবং অবিরাম জলকণার উপস্থিতির কারণে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক তাপমাত্রা লক্ষণীয় মাত্রায় নিচে নেমে গেছে। পারদ এভাবে দ্রুত কমে আসার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্পষ্ট ঠান্ডার অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবারগুলোর শিশু ও বয়োবৃদ্ধ সদস্যদের ক্ষেত্রে এই হঠাৎ শৈত্যপ্রবাহের অনুভূতি অনেক বেশি প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। ঘরের বাইরে বের হওয়া বহু মানুষকে ইতিমধ্যে শীত নিবারণের জন্য হালকা ধরনের গরম কাপড় পরিধান করতে দেখা গেছে।

সকালের এই বৃষ্টি ও শীতল বাতাসের কারণে হিলি বাজারের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সাধারণ মানুষের পদচারণা অন্যান্য সাধারণ দিনের তুলনায় বেশ সীমিত হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে কিছুটা ভাটা পড়লেও জীবিকা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরি কাজে যাদের ঘরের বাইরে আসতে হয়েছে, তারা ছাতা মাথায় দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করছেন। সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল তুলনামূলকভাবে ধীরগতির রূপ নিয়েছে এবং পথচারীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বাজার এলাকায় এক শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিগত কয়েক দিন ধরেই শেষ রাতের প্রহরে এবং প্রত্যুষে বাতাসে হালকা ঠান্ডা বা শীতের আমেজ অনুভব করা যাচ্ছিল। তবে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এবং হিমেল বাতাসের যৌথ প্রভাবে সেই শীতের অনুভূতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অগ্রহায়ণের অনেক আগেই আশ্বিনের মেঘলা দিনে এমন শীতের আগমনী বার্তা পুরো সীমান্তবর্তী জনপদের আবহে এক অন্যরকম ঋতু পরিবর্তনের দোলা এনে দিয়েছে।

কার্তিকের শুরুতেই এমন আকস্মিক বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার নিম্নগতি উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত জনপদে যেন আগাম শীতের আগমনী বার্তাকে নিশ্চিত করে তুলেছে। তবে হঠাৎ করে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় সর্দি, কাশি কিংবা ঠান্ডাজনিত নানা মৌসুমি শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই সময়ে বিশেষ করে শিশু এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি বাড়তি পারিবারিক যত্ন ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে হঠাৎ নেমে আসা এই শীতের আবহ তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কোনো ধরনের ভোগান্তি বয়ে না আনে।

হিলিতে কাঁচামরিচের বাম্পার ফলন: চড়া দামে কৃষকের মুখে হাসি

প্রতিবেদক: নুরুজ্জামান হোসেন, হিলি (দিনাজপুর) প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
হিলিতে কাঁচামরিচের বাম্পার ফলন: চড়া দামে কৃষকের মুখে হাসি

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে অর্থকরী ফসল হিসেবে কাঁচামরিচের বাণিজ্যিক চাষাবাদে বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে স্বল্প উৎপাদন ব্যয়, সহজ ও নির্বিঘ্ন পরিচর্যা পদ্ধতি এবং বর্তমান খোলা বাজারে আকর্ষণীয় ও স্থিতিশীল মূল্যের কারণে সনাতনী ধানসহ অন্যান্য প্রথাগত ফসলের পরিবর্তে কৃষকরা এখন ব্যাপকভাবে কাঁচামরিচ আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত দিকনির্দেশনায় চলতি মৌসুমে ফসলের আশাতীত বাম্পার ফলন অর্জিত হয়েছে। বাজারে কাঁচামরিচের সন্তোষজনক ও চড়া পাইকারি দর বজায় থাকায় চাষিরা অত্যন্ত প্রফুল্ল চিত্তে ফসল সংগ্রহ ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া, বোয়ালদার, খাট্টামাধবপাড়া এবং আলীহাট এলাকার প্রত্যন্ত মেঠোপথ ও ফসলি মাঠগুলো ঘুরে দেখা গেছে নয়নাভিরাম ও কর্মচঞ্চল এক দৃশ্য। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে সবুজ কাঁচামরিচের ক্ষেত। প্রতিটি গাছের ডালপালায় থোকায় থোকায় ঝুলছে সতেজ ও চকচকে কাঁচা মরিচ। সকালের মিষ্টি রোদ ওঠার সাথে সাথেই কৃষকদের ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়; মাঠে কেউ নিপুণ হাতে গাছ থেকে মরিচ তুলছেন, আবার কেউ তা ওজন করে বস্তাবন্দী করছেন পাইকারদের কাছে হস্তান্তরের জন্য।

চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের কৃষকরা মূলত রোগবালাই প্রতিরোধী ও উচ্চফলনশীল জাত হিসেবে পরিচিত ‘মিসাইল’ জাতের মরিচ চাষে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। স্থানীয় কৃষিজীবীদের অভিমত অনুযায়ী, ধান বা অন্যান্য প্রচলিত দানাদার শস্যের আবাদে যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দামের অনিশ্চয়তার ঝুঁকি বেশি থাকে, সেখানে মরিচ চাষে ঝুঁকি অনেক কম কিন্তু মুনাফার পরিমাণ বহুগুণ বেশি। এই চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, জমিতে মাত্র একবার স্বাস্থ্যকর চারা রোপণ করলে একটানা কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে ফলন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। একই জমি থেকে বারবার মরিচ তুলে বাজারে বিক্রির এই সুযোগ কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করছে, যার ফলেই প্রতিবছরই এই অর্থকরী ফসলের চাষের পরিধি জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

মাঠে কর্মরত কৃষক ইয়ানুল ইসলাম ও মাজেদুল হক সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, চলতি বছর আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূলে থাকায় মরিচের ফলন যেমন চমৎকার হয়েছে, তেমনি বাজারদরও গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় পাইকারি বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ একশত থেকে একশত বিশ টাকা পর্যন্ত পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও আনুষঙ্গিক যাবতীয় উৎপাদন ব্যয় বাদ দেওয়ার পরও তাদের হাতে বেশ ভালো অঙ্কের নিট মুনাফা থাকছে। বাজারে এমন অনুকূল পরিবেশ ও ন্যায্যমূল্য বজায় থাকলে আগামী মৌসুমে আরও বর্ধিত জমিতে মরিচ চাষের দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন তারা।

হিলির উৎপাদিত কাঁচামরিচের গুণগত মান, অনন্য ঝাঁঝ ও সতেজতা উন্নতমানের হওয়ায় তা শুধু স্থানীয় বাজারের চাহিদাই মেটাচ্ছে না, বরং প্রতিদিন ট্রাকে করে রাজধানী ঢাকা, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন বড় বড় বিভাগীয় ও জেলা শহরের পাইকারি আড়তগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। দূরদূরান্তে পণ্য সরবরাহের এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থানীয় চাষিদের অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি পরিবহন খাত, মরিচ তোলা, গ্রেডিং বা বাছাইকরণ এবং লোড-আনলোডের সঙ্গে জড়িত বহু প্রান্তিক দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য সৃষ্টি হয়েছে নির্ভরযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই বছর আগেও এই উপজেলায় নামমাত্র দুই হেক্টর জমিতে কাঁচামরিচ আবাদ করা হতো। তবে লাভজনক হওয়ায় মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে চলতি মৌসুমে সেই আবাদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট হেক্টরে, যা শতকরা হিসেবে চার গুণ বৃদ্ধির এক অনন্য রেকর্ড।

এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আরজেনা বেগম জানান, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি জমিতে কৃষকরা মরিচ চাষ করেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের মানসম্পন্ন বীজ নির্বাচন, সঠিক মাত্রায় সুষম সারের ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে পোকা ও রোগবালাই দমনে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আবহাওয়া অত্যন্ত সহায়ক থাকায় ফলনের মান যেমন চমৎকার হয়েছে, তেমনি কৃষকরাও তাদের কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন, যা আগামীতে এই অঞ্চলে মরিচ চাষের ব্যাপ্তি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে ফসলের বহুমুখীকরণ ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে উচ্চমূল্যের অর্থকরী ফসল কাঁচামরিচ এক অপার সম্ভাবনাময় দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বাজারে যদি বর্তমানের মতো ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত থাকে, তবে আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলে মরিচের বাণিজ্যিক আবাদ আরও নতুন মাত্রা পাবে। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় কৃষি প্রশাসনের সার্বিক তদারকি বজায় থাকলে কাঁচামরিচ চাষ কেবল কৃষকের ঘরেই সচ্ছলতা আনবে না, বরং তা জাতীয় গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করবে।