ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর জোর তাগিদ
ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ নিয়ে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।
দেশের যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, রংপুরসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী নির্দেশনা দেন। সরকারের এই মহতী উদ্যোগ দেশের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির গণমাধ্যমকে এই সভার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উচ্চ পর্যায়ের ওই বৈঠকে জানানো হয়েছে যে, প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ বর্তমানে পুরোদমে চলমান রয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষার কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সমীক্ষা প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই সেতু দুটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান, চূড়ান্ত নকশা প্রণয়ন এবং সামগ্রিক প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
আজকের বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাঠামোগত দিক, বিশেষ করে এর ওয়াই-আকৃতির সংযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বিশদ ও সুগভীর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আধুনিক এই নকশা বাস্তবায়িত হলে তা দেশের যোগাযোগ খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুর বিভাগসহ দেশের বিস্তীর্ণ উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি বৈঠকে অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজতর হবে। একইসঙ্গে এই সুবিশাল সেতুর মাধ্যমে মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে একটি নিরবচ্ছিন্ন এবং বিকল্প আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে অভাবনীয় গতিশীলতা আনবে।
যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি বৈঠকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে দেশের চরম পানির সংকট অত্যন্ত কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা, কৃষিখাতে উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি করা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং এই সুবিশাল ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের অপার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত রূপরেখা পর্যালোচনা করা হয়। এসব বৃহৎ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থায়নের উৎস, সুষ্ঠুভাবে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া, ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় সাধনের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব জানিয়েছেন।
এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সরকারের একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ ও সড়ক পরিবহন বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং নৌপরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের শীর্ষ প্রকৌশলী ও পরিচালকরা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ দপ্তরের মতামত ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণে এই মেগা প্রকল্পগুলো যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। সরকারের এই সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সমগ্র দেশের যাতায়াত ব্যবস্থা ও কৃষি অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে, যা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে শক্তিশালী মাইলফলক হয়ে থাকবে।

