ঐতিহ্যবাহী বলী খেলায় চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জিতলেন উখিয়ার শমশু আলম
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা এলাকায় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ৪ দিনব্যাপী জমজমাট বৈশাখী মেলা ও ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা। বুধবার (৬ মে) বিকেলে পালংখালী ৬নং ওয়ার্ডের মোছারখোলা ফুটবল খেলার মাঠে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি দর্শকের উপস্থিতিতে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়। গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই উৎসবে মেতে উঠেছিল পুরো উখিয়া সীমান্ত এলাকা, যেখানে পেশিশক্তির লড়াই আর লোকজ সংস্কৃতির জয়গান ফুটে উঠেছে।
বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই বলী খেলায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামকরা জাতীয় পর্যায়ের বলীরা উখিয়ার এই বালুভর্তি ময়দানে সমবেত হন। টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বলীদের শারীরিক শক্তি ও কৌশলের লড়াই দেখে উপস্থিত দর্শকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ও সমাপনী লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে এককভাবে “চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন উখিয়ার কৃতি সন্তান শমশু আলম বলী”। এছাড়া আকর্ষণীয় লড়াইয়ের পর যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মর্যাদা লাভ করেন চট্টগ্রামের দিদার বলি ও কুমিল্লার রাশেদ মাল বলি।
উক্ত বৈশাখী মেলা ও বলী খেলার আয়োজনটি পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ০৬নং ওয়ার্ডের সদস্য কামাল উদ্দিনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। গত চার দিন ধরে চলা এই মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চ অলঙ্কৃত করেন পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন চৌধুরী এবং উখিয়া উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুর রহমান। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেলাল উদ্দিন বলেন, বলী খেলা কেবল একটি প্রতিযোগিতাই নয়, এটি চট্টগ্রামের আদি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামীণ এই খেলাগুলো যখন বিলুপ্তপ্রায়, তখন ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিনের এমন আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনের পথ দেখানোর পাশাপাশি আমাদের শেকড়কে স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশেষ অতিথি সাহাব উদ্দিন চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, দর্শকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে মানুষ এখনো লোকজ সংস্কৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও সম্মানী তুলে দেওয়া হয়। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এই মেলা আয়োজনের অঙ্গীকার নিয়ে পর্দা নামে এই বর্ণাঢ্য উৎসবের।
উখিয়ার পালংখালীতে অনুষ্ঠিত এই বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিজয়ী শমশু আলম বলীর এই সাফল্য পুরো উখিয়াবাসীকে গৌরবান্বিত করেছে।









