ঘোড়াঘাটে গর্ভবতী নারীকে নির্যাতন বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ থানায় এজাহার

নুরুজ্জামান হোসেন হিলি প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
ঘোড়াঘাটে গর্ভবতী নারীকে নির্যাতন বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ থানায় এজাহার
২০০

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌর সভার সাহেবগঞ্জ পাঁচপীর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ দুইজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঘোড়াঘাট পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. ইফতেখারুল ইসলাম ধলুসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২৫–৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. রাকিবুল হাসান (২৬) গত ১ জুলাই ঘোড়াঘাট থানায় এজাহারটি দায়ের করেন। মামলার ৭ নম্বর আসামি  ইফতেখারুল ইসলাম ধলু (৩০) ঘোড়াঘাট পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক নেতার নাম জড়ানোয় এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০ জুন সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে লাঠি, হাসুয়া, ছোরা, কুড়াল ও দাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অভিযুক্তরা রাকিবুল হাসানের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর শুরু করলে বাধা দিতে যান রাকিবুলের বৃদ্ধ পিতা  জাকের হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে প্রধান আসামি আব্দুর রহিম লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। আগুন ছড়িয়ে পড়লে রাকিবুলের আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফুফাতো বোন মোছা. হাফসা বেগম হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করলে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তার পেটে লাথি মারা হয়, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
বাদীর দাবি, হামলাকারীরা ঘরের আলমারি ও টিনের বাক্স ভেঙে নগদ ৫ লাখ টাকা এবং প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মামলার অন্য নামীয় আসামিরা হলেন— মো. আব্দুর রহিম (৫৫), মো. জিম (২০), মো. নীরব (২৪), মো. এলান আক্তার, মোছা. মোসলেমা (মুন্নি) (৪৫), মোছা. রহিমা বেওয়া (৭৫), মোছা. মোরশেদা বেগম (৩৫), মো. গোলাম রব্বানী (৩০) এবং মো. পবন মিয়া (২২)। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, লিখিত একটি এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...