Views: 2
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ খয়বর আলীর লোকজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মনসুর গংদের বিরুদ্ধে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মনসুর গংরা জমিতে জোরপূর্বেক হাল চাষ করতে গেলে। খয়বর আলীর লোকজনেরা বাধা দিলে তাদেরকে লাটিসোটা দিয়ে মারপিট করা হয়। মারপিটের পর মেয়েদেরকে অব্যাহতভাবে হুমকি ধুমকি দেয়া হচ্ছে। হুমকিতে মেয়েরা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। এ ঘটনায় ৭ জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগের সূত্র ধরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, পৈত্রিক ও কবলা সূত্রে খয়বর গং শান্তিপূর্নভাবে জমি ভোগদখল করে আসছে। সেই জমিতে জোর পূর্বেক মনসুর গংরা হাল চাষ করতে গেলে খয়বর আলীর লোকজনেরা বাধা দিলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে পূর্বশক্রতার জের ধরে বিবাদীগন লাঠি দিয়ে এলোপাথারিভাবে আঘাত করে। এ সময় আহত হয় মেয়ে মোছা: রুমনা পারভীন চায়না, স্ত্রী মোছা: রেশমি ও ভাতিজা মো: মীম হোসেন। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদেরকে উদ্ধার করে মান্দা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এলাকার লোকজন ছুটে আসলে বিবাদীগন খুন জখমসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৭ জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আসামীরা হলেন, মো. মনসুর রহমান (৪০), মো. শালিক হোসেন (২২), পিতা গুল মোহাম্মদ, মো. ইউনুস আলী (৫০), পিতা মৃত আ: রহমান, মো. জাবেদ আলী মন্ডল (৪২), পিতা মৃত আয়েজ উদ্দিন, মো. নাহিদ হোসেন (২৫), পিতা মো. মনসুর রহমান, মো. আ: খালেক (২৬), পিতা মো. আজাহার আলী ও মো. আ: বারেক (২৭) পিতা মো. আফজাল হোসেন। সর্বসাং চকখোপা ও থানা মান্দা।

রেশমী জানান, আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধুমকি দিচ্ছে। আমার স্বামী বাড়ীর বাহিরে থাকেন। সন্ধ্যা পর আমি তাদের ভয়ে বাড়ীর বের হতে পারি না। তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। গত শুক্রবার মাঠে গেলে সেখান থেকে আমাকে ধাওয়া দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে আসার পর বিভিন্নভাবে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে সাসিয়ে জান। জানের ভয়ে আমি আমার এক ছেলেকে তার নানার বাড়িতে রেখে এসেছি। আমার তো নিরাপত্তা নেই। তাদের ভয়ে এলাকার মেয়েরা ভয়েভয়ে থাকেন। সন্ধ্যার পরে তারা ওত পেতে থাবেন মেয়েদের বাড়ীর বের হওয়ার অপেক্ষায়।
মান্দা কৃষি কারিগরি কলেজের এ্যাসিসটেন্ট সহকারী লাইব্রেরীয়ান আব্দুল জলিল জানান, আমি কলেজ থেকে বাসাই এসে নামাজ পড়ছি। এমন সময় মানুষের চিৎকারের আওয়াজ শুনে বাহিরে আসলে দেখতে পায়। আমার স্ত্রী, শ^াশুরী সহ কয়েকজনকে তারা লাটি দিয়ে পিটাচ্ছেন। আমি তাদেরকে বাঁচাতে গেলে তারা আমাকে বিভিন্নভারে মারপিট করে আহত করে। আমার শরীরে ও হাতে এখন সেই আঘাদের চিহ্নি আছে।
মামলার বাদী খয়বর আলী জানান, এই জমি নিয়ে কয়েকবার থানায় ও ইউনিয়ন পরিষদে মিটিং হয়ে জমি আমাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। মিটিংয়ে তারা কোন প্রকার বৈধ্য কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। গায়ের জোরে তারা আমাদেরকে নানাভাবে ভয়ভিতী দেখান। মেরে ফেলার হুমতি দেন। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। এ মারপিটের ঘটনায় নভেম্বর মাসের ২৮তারিখে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। পুলিশের আচরন নিয়ে তিনি সন্দেহ পোষন করেন।
প্রসাদপুর ইউপি চেয়াম্যান বেলাল হোসেন খান জানান, এ বিষয়ে আমারা এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা বসে কাগজপত্র দেখে খয়বর আলীকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। মিমাংসিত বিষয় জাভেদের কারণে পরে নিজেদের মধ্য ভূল বুঝিয়ে মামলাটা ভিন্য খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে। জমির পরিমান অনেক বেশী। প্রকৃত পক্ষে জমির মালিক খয়বর আলী।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, জমিজমার বিষয় পুলিশের করার কিছু নাই। সেটা আদলতের বিষয়। মারপিটের ঘটনায় আমরা অভিযোগ পেয়েছি। থানার এক অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। সে বদলি হওয়ার কারনে বিষয়টা একটু দেড়ী হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার বিষয় অভিযোগ পাইলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।