Views: 0
গাজীপুর মহানগরের তারগাছ এলাকায় মোবাইলে গেমস্ খেলা কেন্দ্র করে দুই কিশোর কে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার রাতে মোবাইলে গেমস্ খেলাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয় কিশোর মোঃ শাকিল (১৭) কে, ও অল্পের জন্য বেঁচে যায় মোঃ ফাহিম (১৪) ।

নিহত শাকিল
তাদের আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসে আহত অবস্থায় স্থানীয় তায়রুননেছা হাসপাতালে নেওয়ার পথে শাকিল মারা যায়, এবং ফাহিম কে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে রেফার্ড করা হয়।
শাকিল স্থানীয় আহসানউল্লাহ মাস্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। সে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার দিতপুর গ্রামের মোঃ এজাজুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে সে মহানগরের তারগাছ এলাকার রুবেল মোল্লার বাড়িতে বাবা-মায়ের সাথে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিল।
ঘটনার রাতে হাবিবুল্লাহ নামে ১ জনকে আটক করেছে জিএমপির গাছা থানা পুলিশ। গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি মাদক সংক্রান্ত ঘটনার জেরে ওই হত্যাকাণ্ড হতে পারে। প্রথমে যদিও বলা হয়েছিল গেম খেলাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে এলাকাবাসীর বক্তব্য ও প্রাথমিক তদন্তে মাদকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমামলার তদন্তকারী এস আই মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার প্রধান আসামী হাবীবুল্লাহ কে ৪ দিনের রিমান্ডে যাদের নাম পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে থেকে আমরা ৩ জন আসামী গ্রেপ্তার করি, ১)মিজান ১৮, পিতা আব্দুল মালেক সাং গাহেদ গ্রাম, থানা ইশ্বরগন্জ, জেলা ময়মনসিংহ। ২)হৃদয় ১৯, পিতা মোখলেছুর রহমান, ৩) শিমুল ১৯, পিতা করিম উভয় সাং কুনিয়া তারগাছ, থানা গাছা, গাজীপুর মহানগর। পর্যায়ে ক্রমে তাদের রিমান্ড আবেদন করে জিঙ্গাসাবাদ করা হবে।
এ বিষয়ে ৩৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলাল জানান, অপরাধের সাথে আমাদের কোন আপোষ নেই। আমরা অপরাধীকে ঘৃণা করি। আমরা চাই অপরাধীর সাজা হোক। আর এ ব্যাপারে অবশ্যই আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করতে চাই। আর এ ব্যাপারে তার ছেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, হাবিবুল্লা এলাকার ছেলে, আমার বাসায় কাজ করত! গত ২ বছর ধরে আমার এখানে নিয়মিত আমার সাথে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম করত, হাবিবুল্লাহ কে কোন খারাপ কাজের সাথে জড়িত হতে দেখেনি। যেহেতু এলাকাবাসির কথা অনুসারে শাকিল হত্যার সাথে জড়িত, আমি নিজেই তায়রুননেছা মেডিক্যালে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হাতে তুলে দেই তাকে। আমি ও আমার ছেলেরা অন্যায় করিনা এবং কোন ধরনের অন্যায়কে আশ্রয়-প্রশ্রয় এ পর্যন্ত দেই নাই।
প্রচলিত আইনে মামলা চলবে, এতে করে প্রকৃত হত্যা কান্ডের ঘটনার আসামি সে যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে (যদি প্রশাসন চায় তাহলে লোকাল কাউন্সিলর হিসাবে) আমার সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন করছেন- রাশেদুজ্জামান জুয়েল মন্ডল।
কাউন্সিলর সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, শাকিল হত্যাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে আমাকে হেয় পতিপন্ন করছে!
তার বিরুদ্ধে আমি একাধিক মামলা করেছি,এবং কি এলাকা বাসির একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে বর্তমানে সবকয়টি বিচারাধীন রয়েছে, তাই ক্ষিপ্তহয়ে আমার ও আমার ছেলেদের প্রতি মিথ্যাচার ঘটনা ছরাচ্ছে, এবং কি তিনি আগামীতে কাউন্সিলর পার্থী ঘোষনা করেছেন। আমি আমার রাজনৈতিক লিডারদের সাথে আলোচনা করে যারা আমার বিরুদ্ধে অপ-প্রচার চালাচ্ছে তাদের ব্যাপারে আইণগত ব্যাবস্থা অতি শিগরি নিবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, জুয়েল মন্ডল তার বাসায় সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন, ঐ সময়ে তার পাশে এলাকার কোন মুরূব্বি এবং কি শাকিলের বাবা মা বা আত্মীয় স্বজনের কেউ উপস্থিত ছিলনা। শাকিল কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলনা।
অপরদিকে নিহত স্কুলছাত্র শাকিল তার কর্মী হিসেবে দাবি করছেন সাবেক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা রাশেদুজ্জামান জুয়েল মন্ডল। তিনি জানান, শাকিল আমার কর্মী ছিল। মাদক কেনাবেচা দেখে ফেলায় এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই।

শাকিলের বাবা
এ বিষয়ে শাকিলের বাবা সাংবাদিক দের জানান, শাকিল স্কুল ছাত্র সে কোন রাজনিতির সাথে জরিত না, করোনা ভাইরাস মহামারির কারনে স্কুল বন্ধ থাকায়, এলাকার কিছু ছেলেদের সাথে মাঝে মধ্যে খেলা দুলা করতো, আর কিছু যানেন না বলে তিনি কেদে ফেলেন, তিনি বলেন আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই ।
এ বিষয়ে এলাকার সুশিল সমাজের দাবী, এ ঘটনার প্রকৃত সত্যটা তুলে ধরে, দুষি দের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হোক, কোন রাজনৈতিক রোষানলে পরে যেন প্রকৃত ঘটনা চাপা নাপড়ে যায় ।
( চলবে )