Views: 0
নাজমুল ইসলাম ঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে কিস্তির চাপে টাকা পরিশোধের চাপে বিষপানে আত্মহননকারী রুবেল মিয়ার পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন বরমী বাজারের ব্যবসায়ী অহিদুল ইসলাম ভুঁইয়ার দুই ছেলে মাহমুদুল হাসান নাঈম ভূঁইয়া ও রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া।
সোমবার ( ৩ মে) দুপুরের দিকে নিহত রুবেলের পরিবারের জন্য খাদ্য সামগ্রী, ঈদ উপহার ও নগদ টাকাসহ তার বাড়িতে যান ব্যবসায়ী এ দুই সহোদর ভাই।
উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিল, চাল, ডাল, তেল,মুড়ি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। আর ঈদের উপহার হিসেবে রুবেলের পরিবারের জন্য নতুন জামা এবং ৫ হাজার টাকা রুবেলের সন্তানদের হাতে তুলে দেন তাঁরা।
এসময় ব্যবসায়ী নাঈম ও রাকিবুল বলেন, করোনা মুহুর্তে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করার বিষয়টি শুনে আমরা খুবই মর্মাহত । অসহায় পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা শুনে আমরা তাদের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করি । তাই, আমরা ভূইয়া পরিবারের পক্ষ থেকে এই পরিবারের যেকোনো সমস্যায় সবসময়ই পাশে থাকার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২ মে) বিকেলে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ডোমবাড়ীচালা গ্রামের নিজ বাড়িতে বিষপানে আত্মহত্যা করেন রুবেল। নিহত রুবেল ওই গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। তাঁর পায়ের আঙ্গুল না থাকায় তিনি শারীরিক ভাবে কিছুটা কর্মহীন ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী সেলিনা খাতুনের থানায় দেয়া আবেদন সুত্রে জানা যায়, সাংসারিক বিভিন্ন অভাব অনটনের জন্য আমার স্বামী পিদিম সমিতি হতে ২২ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে সংসারের আয় না থাকায় যথা সময়ে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। কিন্তু সমিতির লোকজন কিস্তি পরিশোধের জন্য আমার স্বামীকে তাগিদে দিতে থাকে।
নিহত রুবেলের স্ত্রী সেলিনা খাতুন আরও বলেন, কিস্তি পরিশোধের চাপে দুপুরের দিকে বাড়িতে বিষপান করেন আমার স্বামী। পরে উনার গোঙানির শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা খারাপ হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পথে ভালুকা নামক স্থানে মৃত্যু বরন করেন তিনি।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এস.আই) জিন্নাহ জানান, কাজকাম করতে না পারায় কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না রুবেল। শনিবার টাকা দেয়ার তারিখ ছিল। কিন্তু জোগাড় করতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে।