Views: 0
গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ।
নৃশংসভাবে রুবেল মিয়াকে হত্যা করে একটি ডোবায় ফেলে রাখে লাশ বানিয়ে। খুন করে নিয়ে যায় রুবেল মিয়ার রিকশাটি। রুবেল নিখোঁজের পরদিন আজ ১৩ জুলাই ২০২১ খ্রিঃ মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ রুবেলের মরদেহ উদ্ধার করে। জানা গেছে, নিহত রুবেল মিয়া (৩০) ময়মনসিংহ নগরীর শম্ভুগঞ্জ পাড়ালক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত মন্নাছ আলীর ছেলে।
একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এক লাখ ৭ হাজার টাকায় একটি অটোরিকশা কিনে ছিলো নিহত রুবেল মিয়া। সেই রিকশা চালিয়ে চলত রুবেলের ছোট সংসার। মা ছাড়াও স্ত্রী ও তিন মাস বয়সী ফাতেমা নামে একটি মেয়ে আছে নিহত রুবেল মিয়ার। গতকাল ১২ জুলাই ২০২১ খ্রিঃ সোমবার বিকেল ৫টার দিকে বের হন রুবেল। তবে রাতে আর বাড়ি ফিরেনি।
পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে পায়নি। আজ ১৩ জুলাই ২০২১ খ্রিঃ সকাল ১১টার দিকে শম্ভুগঞ্জ ঝাউগড়া এলাকায় একটি ডোবার মধ্যে লাশ পড়ে আছে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন গিয়ে শনাক্ত করেন। একটি মরদেহ পড়ে আছে খবর পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হয় ঘটনাস্থলে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক প্যাকেট কেক উদ্ধার করে। পরে ডোবা থেকে লাশ তুলে আনার পর সুরতহাল করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, সুরতহালে নিহতের মাথায়, মুখের বাঁ দিকে, কপালসহ বিভিন্ন স্থানে থেঁতলানো ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘাতকের বেল্ট দিয়ে পা বাঁধারও চেষ্টা করা হয়েছিল। লাশের পায়ে বেল্ট পাওয়া যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয় ময়মনসিংহ মেডিকেলের মর্গে।
নিহতের মা রাহিমা খাতুন বলেন, বাড়িতে আসার সময় রুবেল প্রতিদিন নানা জিনিস নিয়ে যেত তার জন্য। রুবেল এর মায়ের বুকফাটা কান্নার আহাজারিতে শম্ভুগঞ্জ এলাকার আকাশ ভারী হয়ে যায়। চারিদিকে শুধু অন্ধকার মায়ের কান্নায় উপস্থিত মানুষজনকে কাঁধতে দেখা যায়। একদিকে মায়ের বুকফাটা কান্না, অন্য দিকে স্বজনদের আহাজারি। মা কান্নস্বরে বলছে রিকশা নিলি নে, আরও টাকা লাগলেও নিতি কেন মারলি আমার বুকের মানিককে? এদিকে নিহত রুবেল মিয়ার খুনিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবী জানান স্বজনেরা। অন্য দিকে উপস্থিত জনতা বলছে একটি অটোরিকশার জন্য মানুষ মানুষকে এভাবে নৃশংসভাবে খুন করে।
রুবেল মিয়ার খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিলে খুনিরা আর খুন করতে সাহস পাবেনা। আজ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। তবে তারাকান্দা উপজেলার মধুপুর বটতলা এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে ছিনিয়ে নেয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, দু’জন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। ইট দিয়ে থেঁতলে ও ধারালো চাকু দিয়ে জখম করা হয় রুবেলকে। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রায়হানুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে কারা ছিল তা তদন্তে বলা যাবে। এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার করা যায়নি।