শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন

নড়িয়ার ড্রেজারে ‘রাসেলস ভাইপার’।
স্টাফ রিপোর্টার / ৫২৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১২ আগস্ট, ২০২১

Views: 0

তৌহিদুল ইসলাম.

চাঁদ সদাগরের মিনতি ছিল লক্ষিন্দরের বাসর ঘর যেন হয় নিশ্ছিদ্র । বিশ্বকর্মা তাতেও সাড়া দিয়েছিলেন। তিলে তিলে গড়ে দিয়েছিলেন সে বাসরঘর কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি ।মনসা দেবীর প্ররোচনায় সুতা পরিমাণ ফাঁকা রেখে দিয়েছিলেন। তাতেই প্রাণ হারালো লক্ষিন্দর ।পদ্মার কাঁচিকাটায় ইঞ্জিনরুম কর্মীদের ভাষায় লক্ষিন্দরের বাসর ঘরের মতোই নিশ্ছিদ্র ।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের এই জায়গায় ঢোকা বা বেরোনো অত সোজা নয়। সোমবার সকালে ওখানে চন্দ্রবোড়া সাপ ঢুকেছে ।প্রায় দুই দশক জাহাজে জাহাজে ঘোরা মোহাম্মদ ইউসুফ কে কামড় দিয়েছে। এ এমনই এক সাপ, ২০১২ থেকে ২০১৩ এর আগে যাকে দেখা যায়নি প্রায় ১০০ বছর ।

মঙ্গলবার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইউসুফ বলেন রাবারের চপ্পল পায়ে দিয়েছিলেন কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাপ কামড় দিয়েছে, তারপর আর কিছু মনে নেই।

মোহাম্মদ ইউসুফ এর সহকর্মী আব্দুর রহমান বলেন, সোমবার সকালে ড্রেজার ছিল পদ্মা নদীর সংযোগস্থল কাছে কাঁচিকাটায়। এর আগে বছরখানেক বরিশালে ছিল। যখন সাপ বলে চিৎকার শুরু করেন তখনই তারা ছুটে যান, ইঞ্জিন রুম থেকে বের হতে পারছিল না সাপটি, তাই বাধ্য হয়ে মেরে ফেলেছেন আর মোহাম্মদ ইউসুফ এর সাপে কাটা জায়গাটা বেদে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেছেন। সেখানে জরুরি চিকিৎসার পর তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে সাপে কাটে । মারা যান প্রায় ৬ হাজার মানুষ । ৮০ প্রজাতির সাপের মধ্যে নদী ও সাগরের সব সাপই বিষধর ।তবে গোখরোর তিন প্রজাতির ও কেউটের কয়েক প্রজাতিতে প্রাণহানি বেশি । এসব সাপের কামড়ে পেরালাইসেস হয় ,হাত-পা-চোখ ,চুয়াল নাড়াতে পারে না । ঢোক ও গিলতে পারে না। ঠিকমতো চিকিৎসা না হলে অঙ্গ-প্রতঙ্গ সব অকেজো হয়ে যায়, মারা যান ,কেউ কেউ পঙ্গু হয়ে যান। রাসেলস ভাইপার কেউটের চেয়েও বিষধর। সাপের কামড় খাওয়ার রোগের চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও মারা যান। মোহাম্মদ ইউসুফ এর খবর পাওয়ার পর রাত পৌনে একটা পর্যন্ত অধ্যাপক এমএ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক ব্যাধি লাইন ডিরেক্টরের আমিন ,চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অনিরুদ্ধ ঘোষের সলিমুল্লাহ, মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসহাক মজুমদার রোগের চিকিৎসা কোন পথে এগোবে তা নিয়ে আলোচনা করেন ।একে রাসেলস ভাইপার এর কামড় তার ওপর মোহাম্মদ ইউসুফ আবার হূদরোগে আক্রান্ত হন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update