ঢেঁকিতে ধান ভানার ঐতিহ্য বিলুপ্ত হলেও ধান শুকানোর সেই পুরানো ঐতিহ্য এখনো টিকে আছে। গ্রামে দেখা যায় বাড়ির উঠানে কিংবা চালা জমিতে ধান সিদ্ধ করে শুকানো হয়। এবার বোরো ধনের মৌসুমে কিছু কিছু এলাকায় ভিন্ন পদ্ধতিতে ধান শুকাতে দেখা যাচ্ছে।
ঈদের ছুটিতে রাস্তা ফাঁকা হওয়া যানবাহনের ব্যস্ততা থেকে বের হয়ে পিচের রাস্তা গুলো ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ধান শুকাতে। রাস্তার পাশ দিয়ে বিছানো ধানগুলো অন্যরকম এক সৌন্দর্য ধারণ করেছে। সূর্যের আলো যখন ধানগুলোর উপরে পড়ে তখন মনে হয় স্বর্ণগুলো বিছিয়ে আছে আর নিজের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে ওই ব্যস্তময় রাস্তাগুলোতে।
বাড়ির গৃহিণীরা কোমরে কাপড় গুজে কড়া রোদের মধ্যে নিজের মুখটাকে বাঁচিয়ে বিছানো ধানের উপর হেঁটে হেঁটে ধান শুকাচ্ছে। এই দৃশ্য গুলোর দেখা মিলছে গাজীপুরের সদর, কালিগঞ্জ, কালিয়াকৈর, কাপাসিয়া সহ বিভিন্ন অঞ্চলে। যেসব যানবাহন চলাচল করছে ড্রাইভাররা বলছে মানুষের আহার ঘরে তুলতে আমাদের একটু কষ্ট হলেও কষ্ট মনে হয় না এটা আমাদের গর্বের বিষয়। মানুষ যেন আরামের ধান ঘরে উঠাতে পারে সেজন্য আমরা খুব সাবধানে গাড়ি চালাই। গাড়ির চাকা যেন ধানের উপর দিয়ে না যায় সেভাবে গাড়ি চালাই।
গৃহিণীরা বলছেন পাকা রাস্তায় ধান শুকিয়ে আমরা অনেক শান্তি পাচ্ছি, ধান অনেক দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। এই রোদে পাকা গরম হয়ে ধান দ্রুত শুকায় আমাদের পরিশ্রম আগের চেয়ে কম হয়।
এই বছর ঈদের ছুটির কারণে রাস্তা ফাকা ছিল সেজন্য আরামে ধান শুকাতে পেরেছি কিন্তুু প্রতি বছর ধান শুকাতে অনেক ধান নষ্ট হয় পরিশ্রমও বেশি হয়। সরকারের কাছে আবেদন আমাদের গাজীপুরে ধান উৎপাদনে সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়।