Views: 1
বগুড়ার শেরপুরে ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ মণ্ডল (৩৮) হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। জমির লোভ আর তুচ্ছ সন্দেহের জেরে আপন দুই ভাতিজা মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তাদেরই আপন চাচাকে। চাচার জানাজা শেষে পুলিশ দেখে ঘাতক ভাতিজার শরীর অস্বাভাবিক কাঁপতে থাকলে পুলিশের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে, যা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার অভিযানে পূর্ণাঙ্গ রহস্য উম্মোচনে সহায়তা করে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঘাতক দুই ভাতিজাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইব্রাহিম আলী। গ্রেফতারকৃতরা হলেন উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের রাকিবুল হাসান সিয়াম (১৬) ও আতিক হাসান (২১)।
পুলিশি তদন্তে জানা যায়, বড় ভাতিজা আতিকের নজর ছিল নিঃসন্তান চাচার অগাধ সম্পত্তির ওপর। কিন্তু ৫ মাস আগে চাচা নতুন বিয়ে করায় আতিক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যে, চাচার সন্তান হলে তিনি সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন। অন্যদিকে, ছোট ভাতিজা সিয়ামের ধারণা ছিল তার মুরগির খামারে বিষ প্রয়োগের পেছনে চাচার হাত রয়েছে। এই যৌথ আক্রোশ থেকে গত ১০ জানুয়ারি রাতে বাড়ির পাশের বেগুন ক্ষেতে আব্দুল হামিদকে একা পেয়ে গরুর দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে তারা শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বাঁশের মই দিয়ে লাশ টেনে আধা কিলোমিটার দূরে ফেলে আসে তারা। যাওয়ার সময় আতিক আক্রোশে লাশের গায়ে লাথি মেরে বলেন, “তোর জমি তুই নিয়ে থাক!”
তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি ভাঙা মইয়ের টুকরোর সূত্র ধরে সিয়ামের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মূল মইটি উদ্ধার করে। চাচার জানাজা শেষে সিয়ামের হাত-পা কাঁপতে দেখে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ও আতিক হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। নিহতের স্ত্রী রাফিয়া বেগম আহাজারি করে বলেন, জমির জন্য আপন মানুষেরা এভাবে প্রাণ কেড়ে নেবে তা অকল্পনীয়। শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত রশি ও মইয়ের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।