বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন

রাজনৈতিক হয়রানির ২৩ হাজার ৮৬৫ মামলা প্রত্যাহার: আইনমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা / ১৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

Views: 10

দেশের বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দূরীকরণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, জনগণকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে দায়ের করা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত সারা দেশে এ পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৮ আসনের সরকারি দলের সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি সংসদকে অবহিত করেন।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অসংখ্য মানুষকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হয়রানি করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে যেগুলো নিছক হয়রানি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করা হয়েছিল, সেগুলো যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, কেবল ২৩ হাজার মামলাতেই এই প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিটি ন্যায়সঙ্গত অভিযোগ আমলে নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আরও রাজনৈতিক মামলা বাতিল করা হবে।

সংসদে ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী অতীতের বিচারহীনতা ও বিচিত্র সব মামলার উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, অতীতে অনেক শিক্ষক ও সামাজিক ব্যক্তি রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি ২০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন এমন মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা করার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও শারীরিক প্রতিবন্ধী ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে মামলা দায়েরের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, বর্তমান সরকার সে সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত এবং তা নিরসনে বদ্ধপরিকর।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হন বা খালাস পান, তবে তাকে পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করা এবং আইন অনুযায়ী তার সঙ্গে আচরণ করা তার মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে আবেদন করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান যে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আবেদনসমূহ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, তবে বিষয়টি সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ের একক আওতাধীন নয় বরং একটি সমন্বিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে বিচার বিভাগের ওপর অযাচিত মামলার চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের ফলে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হবে। সরকারের এই পদক্ষেপকে মানবাধিকার কর্মীরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী আপডেট জানতে আমাদের নিউজ পোর্টালের সাথেই থাকুন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update