Views: 0
ঢাকা সহ দেশের কারাগারগুলোকে কেবল বন্দিশালা নয়, বরং আধুনিক ও মানবিক ‘সংশোধনাগারর’ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বর্তমান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন, এনডিসি, পিএসসি। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কারা প্রশাসনে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং বন্দিদের জীবনমান উন্নয়নে সূচিত হয়েছে এক নতুন অধ্যায়।
বিগত কয়েক বছরে তাঁর গৃহীত বহুমুখী উদ্যোগের ফলে কারাব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন এসেছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
কারা প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব করতে আইজি প্রিজন প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। এরই মধ্যে দেশজুড়ে কারাগারগুলোতে ‘ই-প্রিজন’ ব্যবস্থা ও বন্দি তথ্য ডাটাবেজ কার্যকর করা হয়েছে। প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এআই (AI) সমৃদ্ধ সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিউটি অফিসারদের জন্য বডি ক্যামেরা চালু করা হয়েছে। এছাড়া বন্দিদের স্বজনদের সাথে ভিডিও কল ও টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ ডিজিটাল করার ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমেছে।
কারাগারকে কর্মমুখর করতে তিনি বন্দিদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। হস্তশিল্প, সেলাই, ও উন্নত কৃষি প্রযুক্তির প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বন্দিদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বন্দিদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির লভ্যাংশ সরাসরি তাদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তারা মুক্তি পাওয়ার পর সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন।
মানবিক মর্যাদা রক্ষায় জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের পাশাপাশি নতুন আধুনিক কারাগার নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বন্দিদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে খাবারের তালিকায় আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। বর্তমানে বন্দিরা অনেক বেশি উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাচ্ছেন। এছাড়া কারা হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও জরুরি চিকিৎসার জন্য বাইরের হাসপাতালের সাথে সমন্বয় বৃদ্ধি করায় বন্দিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমেছে।
কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেশাদারিত্ব বাড়াতে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। অনিয়মের অভিযোগে বহু কর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে নিয়মিত ‘ডোপ টেস্ট’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাঁর এই কঠোর অবস্থানের ফলে কারা অভ্যন্তরে মাদক ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন বলেন, “কারাগার হবে পথ হারানো মানুষের জন্য সংশোধনাগার। আমরা চাই একজন বন্দি যখন মুক্তি পাবেন, তিনি যেন দক্ষ ও ভালো মানুষ হিসেবে সমাজে ফিরে যেতে পারেন।”
তাঁর এই ভিশনারি নেতৃত্বে বাংলাদেশের কারাব্যবস্থা অন্ধকার থেকে আলোর পথে পা বাড়াচ্ছে। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, তাঁর এই সৃজনশীল উদ্যোগগুলো আগামী দিনে দেশের কারাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে।