শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ন

ডোমারে  পাটের ফলন ভালো হলেও পানির অভাবে জাগ দিতে না পারায় হতাশার মুখে পরেছে পাট চাষীরা !
স্টাফ রিপোর্টার / ৫২৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০২১

Views: 0

 

মোঃ সুমন ইসলাম প্রামানিক ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডোমারে সোনালী আঁশের সোনার ফসল পাট, পাটের ফলন ভালো হলেও পানির অভাবে জাগ দিতে না পারায় হতাশার মুখে পরেছে পাট চাষীরা। অপরদিকে পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে নারীদেরকেও পাট কাটতে দেখা গেছে। বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলে সামান্য বৃষ্টি হওয়ায় খাল , বিল ও পুকুরে হাটু পানি থাকায় পাট কেটে দুশ্চিন্তায় পরেছে পাট চাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে পাট চাষিরা পাট কেঁটে রাস্তার ধারে পালা দিয়ে রেখেছে। খাল,বিল, পুকুর, ডোবায় পানি না থাকায় পাটের জাগ দিতে পারছেনা। এরই মধ্যে ভারি বর্ষন না হলে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতির মুখে পরবে তারা।

উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নে বোড়াগাড়ী আশ্রম পাড়া গ্রামের সিপেন্দ্রনাথের ছেলে শৈলেন বলেন, আমি দুই বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টি না হওয়ায় অতি খড়ার কারনে পাটগাছ  প্রায় ৯ থেকে ১০ ফিট লম্বা হয়েছে পাটের ফলনও ভালো হয়েছে, বিঘা প্রতি ৮ থেকে ৯ মন পাট পাওয়া যাবে।জমিতে পাটের বীজ ফেলা থেকে শুরু করে পাট কেটে শুকানো পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয় বিঘা প্রতি। পাট ক্ষেতে পাইকাররা এসে মন প্রতি ৩ থেকে সারে ৩ হাজার টাকা করে দিয়ে যাচ্ছে, বৃষ্টি হলে পাটের ভালো দাম পাওয়া যাবে, আর বৃষ্টি না হলে খাল, বিল, পুকুর, ডোবায় পানি না থাকলে সোনালী আঁশের সোনার স্বপ্ন মুখ থুবরে পরে থাকবে। যাদের পুকুর আছে তারা বারতি খরচ করে শ্যালো মেশিন দিয়ে পুকুরে পানি ঢুকিয়ে পাট জাগ দিচ্ছে। আর যাদের নিজেস্ব পুকুর ডোবা নেই বর্ষার পানি তাদের একমাত্র অবলম্বন বর্তমানে আশানুরুপ বৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগা নিয়ে তারা মহা বিপদের মধ্যে রয়েছে এর মধ্যে পরিপুর্ন বৃষ্টি না হলে অর্থনৈতিক ভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখিন হবে। পাট কাটা শ্রমিক হরাধন, ঝুমুকলাল, গীতা রানী ও রাধা রানী জানান, আমরা চার জন মিলে দৈনিক ১বিঘা জমির পাট কাটতে পারি, বিঘা প্রতি মুজুরী পাই ৩ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আনিছুজ্জামান জানান, ডোমার উপজেলায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে, এই পাট পুকুর ডোবার ভরা পানিতে ১৫ দিন জাগ দিয়ে রাখলে পাটের রং সুন্দর হবে এবং দামও ভালো পাবে কৃষকরা। এই উপজেলায়  ১৪শত হেক্টর জমিতে তোষা পাট ও ৫০ হেক্টর জমিতে দেশী পাটের চাষ হয়েছে, গত বছর পাটের দাম ভালো থাকায় এবছর  পাট আবাদে আগ্রহ বেড়েছে পাট চাষীদের। পাটজাত দ্রব্য দিয়ে দড়ি, চট বা বস্তা তৈরীর আঁশই শুধু নয়, পাটের ব্যবহার এখন বহুমুখী, পাট থেকে বর্তমানে ২৮১ ধরনের পাট পন্য উৎপাদিত হচ্ছে, পাট দিয়ে দেশে এখন সর্বাধুনিক মডেলের গাড়ীর বোডি, ঢেউটিন ও অন্যান্য উৎপাদন তৈরীর কাঁচামাল হিসাবেও ব্যবহৃত হচ্ছে ।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update