শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ন

তালতলীতে শতাধিক চুরির হোতা গ্রেপ্তার, জেল হাজতে প্রেরণ
মাহবুব বিশ্বাস বরগুনা প্রতিনিধি। / ২১১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

Views: 0

বরগুনা: বরগুনার তালতলী উপজেলা শহরের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির মূল হোতা আল আমিন হাওলাদারকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পটুয়াখালী র‌্যাব-৮ বুধবার রাতে পটুয়াখালীর সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাকে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা যায়, তালতলী বন্দরের বাসিন্দা আল আমিন হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে তালতলীসহ বিভিন্ন থানায় ৬টি মামলা রয়েছে। গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তালতলী বন্দরে শতাধিক চুরির ঘটনা ঘটলেও চোরেরা অধরাই থেকে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মাহবুবুল আলম মামুনের ছত্রছায়ায় তার চাচাতো ভাই আল আমিন এই চুরিগুলো করিয়েছেন। এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান অসিম।

গত ২৭ আগস্ট রাতে তালতলী বন্দরের তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটলে পুলিশ বাজারের নৈশ প্রহরী মোঃ বায়েজিদ ও পনুকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন হাওলাদারের নাম বেরিয়ে আসে। জুতা ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে আল আমিনকে প্রধান আসামি করে তালতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই আল আমিন গা ঢাকা দেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পটুয়াখালী র‌্যাব-৮ বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে পটুয়াখালীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। ওই রাতেই র‌্যাব তাকে তালতলী থানায় হস্তান্তর করে। বৃহস্পতিবার পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন হাওলাদার বলেন, গত এক বছরে শতাধিক চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ চোরকে ধরতে পারেনি। তার অভিযোগ, বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আল আমিন গ্রেপ্তার হওয়ায় তালতলী বন্দরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ মাহবুবুল আলম মামুন চোরকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আল আমিন আমার চাচাতো ভাই হলেও তার অপরাধের দায়ভার আমি নেব না। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্যই এমন মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।”

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহজালাল জানান, আসামি আল আমিনকে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update