Views: 0
নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর মান্দায় বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে আমিন মোল্লা (আমিন) নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার ৯নং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য। কার্ড করে দিচ্ছি দিবো বলে গত চার বছর থেকে ঘুরানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ দুস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম অথবা উপার্জনে অক্ষম বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে ও পরিবার ও সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধি এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা কর্মসূচি বাস্তবায়নে অধিকতর গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে সরকার বয়স্ক ও বিধবা ভাতা চালু করেছে। এসব ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের অসহায়দের নিকট থেকে ৩হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৫হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেম্বার আমিন মোল্লার বিরুদ্ধে।
নারায়ণপুর গ্রামের জেহের আলীর স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, আমরা গরীব মানুষ। কষ্ট করে জীবন চলে। বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিবে বলে প্রায় চার বছর পূর্বে আমার কাছ থেকে মেম্বার আমিন মোল্লা ৩হাজার ৮০০টাকা নিয়েছে। কষ্টে জমানো কিছু টাকা ও হাওলাদ নিয়ে টাকা সংগ্রহ করে দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কার্ড করে দেওয়া হয়নি। দিচ্ছি দিবো বলে সময় পার করছে।
একই গ্রামের ফজের আলীর ছেলে জাইদুর ইসলাম বলেন, আমার মা হাজেরা বেগম। বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে মেম্বার ৫হাজার টাকা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন কার্ড করে দেননি মেম্বার আমিন মোল্লা। শুনছি আগামি তালিকায় নাম উঠবে। এটা আমিন মেম্বারই ভাল জানেন।
এ ব্যাপারে ৭নং ইউপি সদস্য আমিন মোল্লা বলেন, ওই টাকার বিষয় নিয়ে আমার সাথে একটু ঝামেলা হয়েছে। কার্ড করে দেওয়া হয়নি। তবে এবার তাদের নাম তালিকায় দেওয়া হয়েছে। আগামীতে হয়তো তারা টাকা পাবে। এছাড়া বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দিলে অনেকে ইচ্ছে করে মিষ্টি খাওয়ার জন্য আমার বাড়ি গিয়ে টাকা দিয়ে আসে।
এব্যাপারে তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সাত্তার বলেন, কার্ড করে দেওয়ার নামে আলেয়া বেগম ও হাজেরা বেগম এর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা শুনেছি। ইতিপূর্বে আমার কাছে অনেকেই অভিযোগ দিয়েছে। আমি সকল ইউপি সদস্যদের বলে দিয়েছি কেউ যদি এ ধরনের ভাতা করে দেওয়ার নামে টাকা পয়সা নিয়ে থাকেন সেগুলো আপনারা নিজ দায়িত্বে ফেরত দিবেন।
মান্দা উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, আমি উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়েজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।