শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন

নরসিংদীতে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব, প্রতিবেশীর হামলায় গর্ভবতীসহ আহত ২
স্টাফ রিপোর্টার / ৩৪৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শনিবার, ২২ মে, ২০২১

Views: 0

জেলা প্রতিনিধি | নরসিংদী |

নরসিংদীতে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব, প্রতিবেশীর হামলায় গর্ভবতী নারী আহত।
নরসিংদীর সদর উপজেলায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিবেশী পরিবারের হামলায় গর্ভবতী দম্পতি স্বামীসহ গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় আহত মো. সবুজ মিয়া (৩৪) ও সোনিয়া আক্তারকে (২৫) নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সবুজ মিয়া পেশায় একজন দলিল লেখক। তিনি সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের সংগীতা এলাকার মোসলেম উদ্দিন মোক্তারের ছেলে।

জানা গেছে,গত বুধবার (১৯ মে) সকালে ওই দম্পতির বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের চাপাতির কোপে সবুজ মিয়ার ঠোঁটে ছয়টি ও মাথায় দুইটি সেলাই দিতে হয়েছে। অন্যদিকে উপর্যুপরি মারধরের কারণে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ওই দম্পতির স্বজনরা জানান, মো. সবুজ মিয়ার বাড়িটিতে জমির পরিমাণ চার শতাংশ হলেও তার দখলে আছে প্রায় আড়াই শতাংশ। বাকি জমি আশেপাশের প্রতিবেশীদের দখলে রয়েছে। ঘর তোলার পরিকল্পনা থেকে দুই বছর আগে বাড়ির পেছনের অংশে পৌণে তিন শতাংশ জমি হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া নামের একজনের কাছ থেকে কেনেন সবুজ। পরবর্তী সময়ে ওই জমির কিছু অংশে তার ভাগ আছে বলে দাবি করেন প্রতিবেশী সুমন মিয়া।

চিকিৎসাধীন মো. সবুজ মিয়া বলেন, ‘আমার কেনা জমিটি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কয়েকদফা সালিশ-বৈঠকে বসা হয়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সদর থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও স্থানীয় চিনিশপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে সালিশে বসা হয়। এই সালিশের রায় আমার পক্ষে আসে। এর পরদিন অর্থাৎ গত বুধবার সকাল ৮টার দিকে আমার বাড়িতে গ্যাসলাইন স্থানান্তরের লোক আসে। এতে প্রতিবেশী সুমন মিয়া উত্তেজিত হয়ে তার বাবা দেলোয়ার হোসেন ও মা ফালানী বেগমসহ ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেন।’

তিরি বলেন, ‘এ সময় সুমন মিয়ার চাপাতির কোপ লাগে আমার ঠোঁটে ও মাথায়। আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আমার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া বেগম ও মা সুফিয়া বেগমকে লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরি মারধর করা হয়। হাসপাতালে আমার ঠোঁটে ৬টি ও মাথায় ২টি সেলাই দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে আমার স্ত্রীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর আমি এই ঘটনায় মামলা করবো।’

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাহিমা শারমিন বলেন, ‘আহত সবুজ মিয়াকে মোট ৮টি সেলাই দিতে হয়েছে। অন্যদিকে তার স্ত্রীর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। ফলাফল হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো যাবে। তাদের দুজনই বর্তমানে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’

জানতে চাইলে সদর থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও স্থানীয় চিনিশপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘সামাজিকভাবে বিষয়টি সুন্দরভাবে সমাধান করে দেয়া হয়েছিল। উভয়পক্ষ তা মেনেও নিয়েছিল। এর একদিন পরই এমন ঘটনা শুনে মর্মাহত হয়েছি। এরপর যা করার তা পুলিশ করবে।’

আহত ওই দম্পতিকে হাসপাতালে দেখে গেছেন নরসিংদী মডেল থানার উপপরিদর্শক জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘এই দম্পতি বর্তমানে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা তাদের আশ্বাস দিয়েছি, সুস্থ হয়ে থানায় এসে অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। স্থানীয়ভাবে মিমাংসার পরও কেন এমন হামলার ঘটনা ঘটলো, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update