শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন

বদলগাছীতে উপজেলা আ’লীগ কমিটিতে বিতর্কিত নেতা আব্দুস সালাম পদ নিতে মরিয়া
স্টাফ রিপোর্টার / ৯১৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১

Views: 0

নওগাঁ প্রতিনিধি:

 

নওগাঁর বদলগাছীতে উপজেলা আওয়ামীলীগের দীর্ঘদিন পর ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হতে যাচ্ছে। দলে পদ নিতে যে যার মতো লবিং গ্রুপিং করছেন। তবে এই সম্মেলনকে ঘিরে বিতর্কীত ব্যক্তি আব্দুস সালাম মন্ডল সাধারন সম্পাদক পদ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তার বিরুদ্ধে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে অবস্থান নেয়াসহ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে জড়িত নানা অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে বহিস্কার হয়েছেন। তিনি বদলগাছী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। উপজেলা আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ন এ পদটি একজন যোগ্য ও ত্যাগি কর্মীকে দেয়া হোক এমন প্রত্যাশা সচেতন তৃনমুল নেতাকর্মীদের।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ইতোপূর্বে কয়েকবার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও অজানা কারণে স্থগিত হয়ে যায়। আগামী ২৩ মার্চ আবারও সম্মেলনের দিন ধার্য করা হয়েছে। সম্মেলনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণ চা ল্য ফিরে এসেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা নিজেদের মতো করে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

তবে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে অবস্থান নেয়াসহ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে জড়িত আব্দুস সালাম মন্ডল দলের বড় পদটি বাগিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে বিজীয় হন। পরে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হন।

আব্দুস সালাম মন্ডলে বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মধ্যে: তিনি ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আকরাম হোসেন এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ছলিম উদ্দির তরফদার সেলিমের পক্ষে কলস মার্কায় নির্বাচনী প্রচারনা চালান। ফলে নৌকা পরাজিত হয়। একই বছরে উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শফি মাহমুদের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী সামসুল আলম খান এর পক্ষে টেলিফোন প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা করেন। এতে ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী জয়লাভ করে।

২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বদলগাছী সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি বিজয়ী হন। ২০১৭ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা পরিষদ সদস্য পদে এমরান হোসেন খানকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেয়া হলেও তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভগিরথ কুমার মন্ডলের পক্ষে অবস্থান নিলে জামাতের প্রার্থী জয়লাভ করে।

২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবু খালেদ বুলু এর বিপক্ষে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী শামসুল আলম খান এর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। ফলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পরাজিত হয়।

যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছেন স্থানীয়ভাবে তাদের দাপটই বেশি। দলের অধিকাংশ কর্মসূচিতে তারাই প্রাধান্য পাচ্ছেন। আর অন্যরা নিষ্ক্রিয় থাকায় দলের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রয়া দেখা দিয়েছে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীদের ২০১৬ সালে সেপ্টেম্বরে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেয়। যেখানে সিদ্ধান্তে হয়- ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সাধারণ ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রাথমিক সদস্য হতে বহিষ্কৃত প্রত্যেককেই নিজ নিজ ইউনিটে আবেদন করতে হবে। এরপর প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার বিষয়টি তাদের কেন্দ্র থেকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে। তবে কেউই আর তাদের আগের পদে ফিরতে পারবেন না। এ জন্য তাদের নিজ নিজ ইউনিটের পরবর্তী সম্মেলন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া ও দলীয়ভাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে জড়িতের ব্যাপারে আব্দুস সালাম মন্ডল বলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগকে উজ্জ্বীবিত করেছি। জাতীয় সংসদ, জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিজয়ী করেছি এবং দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হয়েছি। সে হিসেবে নিজেকে দলের সাধারন সম্পাদক পদে পদপ্রার্থী হওয়ার যোগ্য বলে মনে করছি। দলের বিরুদ্ধে যারা ছিলাম প্রধানমন্ত্রী আমাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। তবে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করছে।

বদলগাছী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শফি মাহমুদ বলেন, আব্দুস সালাম দলীয় ব্যক্তি হয়েও বিভিন্ন সময় নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের সাথে জড়িত থাকায় দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের অবগত করা হয়েছে। তবে তিনি দলের কোন পদে নাই।

রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুর্খী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সাবেক সাংসদ আকরাম হোসেন চৌধূরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা বলেন সেগুলো আমরা অনুসরণ করে থাকি। যারা এক সময় দলের হয়েও বিদ্রোহ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন তারা কোন ভাবেই কার্যকরী কোন পদ থাকতে পারবেন না নেত্রী বলেছেন। তবে দলের সদস্য হয়ে থাকতে পারবেন বলে আমি জানি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update