বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদে মনোনীত হয়েছেন শাহরিয়া ইকবাল জিয়া। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার আনসার টেপিরবাড়ি গ্রামের সন্তান।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক মো: শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শাহরিয়া ইকবাল জিয়া কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সদস্য পদ মনোনীত হওয়ায় গাজীপুর জেলা ও শ্রীপুর উপজেলা কৃষকদলের নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে।
ছাত্রদল থেকে উঠে আসা শাহরিয়া ইকবাল জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে মাওনা চৌরাস্তা আঞ্চলিক শাখা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক, শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য, তেলিহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, গাজীপুর জেলা যুবদলের কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহরিয়া ইকবাল জিয়া বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র সম্মানিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল আমার উপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন আমি তা যথাযথ ভাবে পালন করবো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও কৃষকদল বিএনপি’র সকল সদস্যর সাথে কাজ করে যাওয়ার পাশপাশি তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করবো।
জিএমপি সদর থানা পুলিশের অভিযানে ০২ টি বিদেশি পিস্তল ০৭ রাউন্ড গুলি ও ২ টি প্রাইভেট কারসহ গ্রেফতার -০১ রাজু হাসান :স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার বিশেষ অভিযানে ০২ টি বিদেশি অত্যাধুনিক পিস্তল, ০৭ রাউন্ড গুলি ও ০২ টি প্রাইভেট কারসহ মাহাবুব হাসান বাদশা (২২) নামে এক জনকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ।
গত ২৮-৫-২০২৬ রোজ বৃহস্পতিবার সদর থানার ওসি মো:আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এস,আই উওম কুমার সরকার ও তার ফোর্সদের সমন্বয়ে সদর থানাধীন ভাওরাইদ সাকিনস্হ চৌরাস্তা থেকে পূর্ব দিকে পোড়াবাড়ি রেব ক্যাম্প মুখী রাস্তায় চেক পোস্ট পোস্ট পরিচালনা করে ০২ টি লোহার তৈরি বিদেশি পিস্তল, ০২ টি ম্যাগাজিন ০৬ রাউন্ড গুলি ০১ রাউন্ড ফায়ারকৃত গুলির খোসা ও ০১ টি সিলভার কালার রয়েল প্রোবক্স প্রাইভেট কার ০১ টি সাদা রংয়ের এলিয়ন প্রাইভেট কারসহ আইফোন ১৭ প্রোম্যাক্স উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী মাহাবুব হাসান বাদশা (২২) ০৮ ওয়ার্ড এর কেওয়া পশ্চিমখন্ডের শ্রীপুরের বাসিন্দা। আসমীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক এক বাংলাদেশি যুবককে একদিন পর বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির নিকট ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উক্ত যুবককে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে স্থানীয় থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। বিএসএফের কাছ থেকে ফেরত আসা ওই যুবকের নাম বিষ্ণু কুমার সরকার (৩২)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার দুর্গাদহ গ্রামের বিশ্বনাথ সরকারের ছেলে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
কূটনৈতিক ও সীমান্ত নথিসূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) আনুমানিক সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হিলি সীমান্তের একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে এক জরুরি ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আটক যুবককে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি আজ শুক্রবার দুপুর বারোটার দিকে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে জানান, গতকাল অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে বিজিবি ওই যুবককে উদ্ধার করার পর ২৮ মে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে হাকিমপুর থানায় লিখিতভাবে হস্তান্তর করে। বিজিবির পক্ষ থেকে থানায় সোপর্দ করার পর পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যুবকের স্থায়ী ঠিকানায় ও তাঁর পরিবারের কাছে আইনগতভাবে সংবাদ পাঠানো হয়েছে। বিষ্ণু কুমার সরকারের পরিবার থানায় এসে পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে তাঁর স্বজনদের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
বিজিবির দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে যে, ভারতে আটক হওয়া ওই যুবক গত ২৭ মে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্ত এলাকা দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। সে সময় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তে টহলরত অবস্থায় তাঁকে অনুপ্রবেশের দায়ে হাতেনাতে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ঘটনার পর বিজিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগের পর, একদিন আটক রাখার পর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের ফলপ্রসূ পতাকা বৈঠকের মাধমে তাঁকে বিজিবির নিকট সোপর্দ করা হয়।
সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা রোধে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা আবশ্যক। তবে বিজিবি ও বিএসএফের দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক যুবককে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা এবং পুলিশের আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগামীকাল শনিবার বহুল আলোচিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিরোধিতা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার একটি নির্দিষ্ট পক্ষ ফেসবুকে সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জোরালো প্রচার চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। উদ্ভূত এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় সিনেমাটির প্রদর্শনী আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। আজ শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।
জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, সিনেমা প্রদর্শনীর বিষয়টা এখন এক প্রকার জাতীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা এই সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন, তারা মূলত নানামুখী ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামীকাল এই চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী করতে দেওয়াটা কোনোভাবেই সমীচীন হবে না বলে মনে করছে প্রশাসন। তাই শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আপাতত প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সার্বিক পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নথিসূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শহরের ঐতিহ্যবাহী অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি’। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্নাতক পর্যায়ের প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত এই সামাজিক সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ‘ভাতঘুমের সিনেমা আড্ডা’ শিরোনামে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে। তবে এবারের প্রদর্শনীর ঘোষণা আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে একশ্রেণির মানুষের পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, জেলার কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কিছু শিক্ষার্থী ফেসবুকে সিনেমাটি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন, যা নিয়ে অনলাইন মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার নির্মাতা তানিম নূর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছুদিন আগে তাঁর নিজের এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফিল্ম সোসাইটির একটি ছেলে যোগাযোগ করে সিনেমাটি দেখানোর আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি সানন্দে রাজি হন। কিন্তু পরবর্তীতে ফেসবুকে বেশ কয়েকজনের উগ্র পোস্ট দেখে তিনি স্তম্ভিত হন, যেখানে বলা হচ্ছে সেখানে সিনেমা চালানো যাবে না। নির্মাতা স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পাওয়া যেকোনো ছবি দেশের যেকোনো প্রান্তে দেখানোর বৈধ অধিকার রয়েছে। তারা ছবির পোস্টারে ক্রস চিহ্ন দিয়ে বেআইনিভাবে উগ্রবাদী প্রচারণা চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিজের পৈতৃক বাড়ি উল্লেখ করে তানিম নূর জানান, এই ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবেও ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে প্রদর্শনী নির্বিঘ্ন করতে ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানান।
একটি সেন্সর ছাড়পত্রপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিরোধিতার মুখে স্থগিত হওয়া সাংস্কৃতিক মুক্তবুদ্ধি চর্চার ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়। স্থানীয় সচেতন মহল আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করবে।