টেকনাফে র্যাবের অভিযান: মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত ৬ ভিকটিম উদ্ধার, মায়ানমার মুদ্রাসহ নারী পাচারকারী গ্রেফতার
কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত এক বাংলাদেশীসহ ছয়জন ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫। এ সময় বিপুল পরিমাণ মায়ানমার মুদ্রাসহ (কিয়াট) আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের অন্যতম মূলহোতা এক নারী সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ ২৪ মে ২০২৬ (রবিবার) রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম গোদারবিল এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত আনুমানিক ১২:৩০ ঘটিকায় র্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল টেকনাফ বাজারের শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থানকালে একটি গোপন সংবাদ পায়। সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, পশ্চিম গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা মোঃ আলী আজগর-এর বসত বাড়িতে একদল মানবপাচারকারী কিছু নারী, পুরুষ ও শিশুকে জিম্মি করে রেখেছে। চক্রটি ভিকটিমদের সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচার এবং তাদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে সেখানে আটকে রাখে।
সংবাদ পাওয়ার পরপরই রাত ১টা ১০ মিনিটে র্যাব ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ঘটনাস্থল থেকে চক্রের অন্যতম সক্রিয় এক নারী সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন মূল্যমানের সর্বমোট ১,৫১,৬০০ (এক লক্ষ একান্ন হাজার ছয়শত) মায়ানমার মুদ্রা (কিয়াট) উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
পাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া ৬ জন ভিকটিম হলেন: যুগল বড়ুয়া (২৮), পিতা- প্রদীপ বড়ুয়া (বাংলাদেশী নাগরিক, উখিয়া)। হুসাইন আহম্মেদ (২০), পিতা- মামুনুর (বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প, উখিয়া)। কামাল হোসেন (১৮), পিতা- হুসেন আহম্মেদ (বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প, উখিয়া) আয়েসা (১৬), পিতা- মাহমুদ হুসাইন (বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প, উখিয়া)। শুভ তারা (১৪), পিতা- আলী আহম্মদ (বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প, উখিয়া)। সাদেক (৯), পিতা- হুসেন আহম্মেদ (বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প, উখিয়া)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত বাংলাদেশী ভিকটিম যুগল বড়ুয়া জানান, গত ২২ মে সকালে কক্সবাজারের উখিয়া থানাধীন কুতুপালং এলাকা থেকে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে আসামীরা তাকে সিএনজি যোগে অপহরণ করে এই আস্তানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে অন্যান্য রোহিঙ্গা ভিকটিমদেরও বিভিন্ন স্থান থেকে ফুসলিয়ে ও জোরপূর্বক অপহরণ করে এখানে এনে আটকে রাখা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, পাচারকারী চক্রটি তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে প্রত্যেকের পরিবারের কাছে ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে তাদের জোরপূর্বক সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। মুক্তিপণের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কামাল হোসেন (১৮) নামের এক রোহিঙ্গা তরুণকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করে আসামীরা।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে বাংলাদেশী নাগরিক ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের টার্গেট করে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।
গ্রেফতারকৃত নারী আসামি এবং এই চক্রের সাথে জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার দমন ও প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী টেকনাফ মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মানবপাচার ও অপরাধ দমনে র্যাবের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।





