রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হবে: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হবে: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

পিকেএসএফ মিলনায়তনে রেইজ-২ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

২৫৪

দেশের প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং উন্নয়নের সুফল সমানভাবে ভোগ করার অধিকার নিশ্চিত করতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলেই চলবে না, অর্থনীতির সুফল তৃণমূলে পৌঁছে দিতে অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রোববার রাজধানীর পিকেএসএফ মিলনায়তনে রেইজ-২ প্রকল্পের ‘স্টেপিং ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার বর্তমানে মেগা প্রকল্পের চেয়ে সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে অধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গোষ্ঠীনির্ভর ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘকাল সাধারণ মানুষ উন্নয়নের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এই অচলায়তন ভাঙতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মতো জনবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নারীদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়ে পরিবার ও সমাজে তাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, এখন থেকে বিনিয়োগের বিপরীতে আয়, কর্মসংস্থান এবং পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করেই কেবল নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হবে। করদাতাদের অর্থের প্রতিটি পয়সা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যয় করার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, প্রতিটি প্রকল্পের যৌক্তিকতা ও ফলাফল জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। এছাড়াও তিনি দেশের উচ্চ চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করার কথা জানান।

সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ ধারণার ওপর জোর দেন। তিনি শীতলপাটির মতো ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডিং করার লক্ষে কারুশিল্পীদের আর্থিক সহায়তা ও ডিজিটাল বিপণনের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। থাইল্যান্ডের গ্রামীণ অর্থনীতির সাফল্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সংস্কৃতি, থিয়েটার ও সংগীতের মতো সৃজনশীল খাতগুলোকেও জিডিপিতে অবদানকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। অনুষ্ঠানে রেইজ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ২ লাখ তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়, যেখানে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অধিকতর জনমুখী ও বৈষম্যহীন করার লক্ষে বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই প্রতিফলন। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...