সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
বরমী-ঢাকা সরাসরি বাস চালুর দাবি জানালেন চিত্রনায়ক যুবরাজমিশরকে স্তব্ধ করে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাজিএমপির পৃথক অভিযানে ০৩ টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার প্রতারক চক্রের সক্রিয়-০১ সদস্য গ্রেফতারঘোড়াঘাটে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুই শিক্ষিকাকে হয়রানির অভিযোগধুনটে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বিদায় সংবর্ধনাগাজীপুরে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে সমাজ বদলের স্বপ্নসাভারে ট্রাফিক পুলিশের ‘পকেট ভারী’, পাকিজা মোড়ে সাধারণ মানুষের ‘গলার কাঁটা’ তীব্র যানজটহিলিতে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনমিয়ানমারে পাচারের চেষ্টা: উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ৯০ বস্তা সার ও ৮০ লিটার তেল উদ্ধারউখিয়ায় ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক রোহিঙ্গা আসামি আইয়ুব আলী গ্রেপ্তার!‎উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্য সচিব, মডেল হাসপাতালে রূপান্তরের প্রত্যয়আশুলিয়ায় ইউপি সচিব আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সাভারে অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদন: হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য ও কৃষিজমিগাজীপুরে অসহায় দুঃস্হ ও সুবিধাবঞ্চিত ৩৫০ জনকে এাণ সামগ্রী বিতরনগাজীপুরে হঠাৎ করে স্হায়ীভাবে বন্ধ ঘোষনা- ২ কারখানা দিশেহারা প্রায় ১৮ শত শ্রমিক

এনজিওর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও হোস্ট কমিউনিটির স্বার্থ নিশ্চিত করা জরুরি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
এনজিওর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও হোস্ট কমিউনিটির স্বার্থ নিশ্চিত করা জরুরি
১৪৯

২০১৭ সালের পর থেকে ১৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমনের ফলে কক্সবাজারের স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটি (আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়) যে ভয়াবহ মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, তা এক দীর্ঘস্থায়ী কষ্টের উপাখ্যান।
‎একটি দেশ কখনই অনন্তকাল ধরে অন্য দেশের বোঝা বহন করতে পারে না । এনজিওদের জন্য রোহিঙ্গা সংকট একটি প্রজেক্ট বা ব্যবসায়িক ক্ষেত্র হতে পারে, তবে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি অস্তিত্বের সংকট । দেশের ক্ষতি করে কোনো বিশেষ মহলের লাভবান হওয়ার এই ধারা বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সময়ের প্রধান দাবি।

‎রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে দেশ-বিদেশের বহু দাতাগোষ্ঠী ও এনজিও ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের নামে কোটি কোটি টাকার তহবিল পরিচালনা করছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য ও পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, এই বিশাল বাজেটের সিংহভাগই ব্যয় হয় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের বিলাসী জীবনযাপন, আকাশচুম্বী বেতন এবং প্রশাসনিক খরচের পেছনে। সাধারণ রোহিঙ্গাদের পেছনে সরাসরি সহায়তার চেয়ে ‘ওভারহেড’ বা অপ্রয়োজনীয় খাতে খরচের পরিমাণ অনেক বেশি। স্বাভাবিকভাবেই, সংকট যত দীর্ঘায়িত হবে, এই বিশাল তহবিল প্রবাহ তত অব্যাহত থাকবে । এতে করে একশ্রেণির এনজিও কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এবং সংকট জিইয়ে রাখাতে তারা এক ধরণের পরোক্ষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
‎কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দারা রোহিঙ্গাদের আগমনের পর থেকেই মারাত্মক দুরবস্থার মধ্যে আছেন । বিপুল সংখ্যক মানুষের বসতি গড়তে হাজার হাজার একর পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, মাদক চোরাচালান, মানবপাচার এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও উগ্রবাদের মতো সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে ।
‎দেশী বিদেশী দাতা সংস্থা তথা এনজিওদের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কর্তৃক উখিয়া- টেকনাফের স্থানীয় অধিবাসীদের (হোস্ট কমিউনিটি) জন্য ত্রাণ সহায়তার ২৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার জন্য বিধান থাকলেও বেশীরভাগ এনজিও এই নিয়ম মানেনা। নিয়ম অমান্যকারী এনজিওর বিরুদ্ধে সরকার ত্রাণ কার্যক্রম সাময়িক বা চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে পারলেও এখনো কোন শাস্থির ব্যবস্থা রাখা যায়নি।
‎এনজিওগুলো মূলত এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে অনুমোদনের ভিত্তিতে কাজ করে। এই নির্দেশিকা না মানলে বা নিয়ম ভঙ্গ করলে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো তাদের অনুমোদনের নবায়ন বন্ধ বা বাতিল করতে পারে।
‎এনজিওর প্রকল্প কার্যক্রমের বার্ষিক অডিট রিপোর্টে স্থাানীয়দের ২৫ শতাংশ সহায়তার বিষয়টি না থাকলে অডিট আপত্তি উঠতে পারে, যা তাদের ভবিষ্যতে কাজ পাওয়ার সুযোগ কমিয়ে দেয়।
‎রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দিলেও, এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাান হোস্ট কমিউনিটিকে তাদের নিজস্ব এলাকায় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক করে তুলছে। স্থাানীয় জনগণের এই আত্মত্যাগ ও দুঃখের বোঝা দীর্ঘমেয়াদী, যার সুষ্ঠু সমাধান ও মানবিক প্রত্যাবাসনই কেবল এই অবস্থার অবসান ঘটাতে পারে ।

‎এনজিও এবং আইএনজিওদের মানবিক সহায়তার আড়ালে স্থানীয়দের ন্যায্য অধিকার খর্ব করা এবং উন্নয়নের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে ।
‎এনজিওগুলোতে প্রচুর চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হলেও স্থানীয়দের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করে বহিরাগত ও অনভিজ্ঞ লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া, এবং স্থানীয় শিক্ষিত তরুণদের উপেক্ষা করা হয় চরম ভাবে।
‎অনেক সময় নিয়োগের শর্তে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের বাদ দেওয়া হয়।

‎বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর উপস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। স্থানীয়রা আগের চেয়ে অনেক বেশি দামে চাল, মাছ ও সবজি কিনতে হচেছ, যা স্থানীয় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অসহনীয়।
‎রোহিঙ্গারা কম মজুরিতে কাজ করায় স্থানীয় দিনমজুররা কাজ হারিয়েছে। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়েছে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি।
‎রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপন করতে গিয়ে হাজার হাজার একর সংরক্ষিত বন ও পাহাড় কাটা হয়েছে। অনেক চাষযোগ্য জমি এখন আর আবাদ করা যাচেছ না, যা স্থানীয়দের প্রধান আয়ের উৎস ছিল।
‎ক্যাম্পের ভেতরে ও আশেপাশে চুরি, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অপরাধী চক্রের কারণে স্থানীয় এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
‎বিপুল মানুষের চাপে এলাকার রাস্তাঘাট, পানি ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা তাদের নিজস্ব জমি ও সম্পদ ব্যবহার করতে পারছেন না, যা তাদের জন্য চরম হতাশার কারণ। মাদক এর ভয়াবহ পরিস্থিতি যুবসমাজের ধ্বংসের কারন। রাস্ট্রের নিরাপত্তা আজ হুমকির সম্মুখীন। দেশের অপার সম্ভাবনা ময় পর্যটন শিল্পের বিকাশের পথ রুদ্ধ হওয়ার পথে।

‎বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় জানিয়েছে, তারা সরকার ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয়, সুরক্ষাসহ জরুরি জীবনরক্ষাকারী সহায়তাকে অগ্রাধিকার দিতে কাজ করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা কমার আশঙ্কাসহ রাখাইন রাজ্যে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের সুযোগ আরো জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ রাখাইন এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। সেখানে জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জান্তার পাশাপাশি অন্যদের সম্পৃক্ততা জরুরি। কিন্তু গৃহযুদ্ধে মুখোমুখি দুটি পক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হচেছ না। বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোয় সব মিলিয়ে এখন রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখেরও বেশি। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ২০১৭ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারে তৎকালীন ক্ষমতাসীন অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল, যার মধ্য¯স্থতায় ছিল চীন। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ১ লাখ ৮০ হাজার জনকে সম্প্রতি মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটি। তাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত নয়।
‎বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের সংরক্ষিত বন রোহিঙ্গাদের বসতি নির্মাণের কারণে ধ্বংস হয়েছে। আবার রোহিঙ্গাদের অবস্থান স্থানীয় বাংলাদেশীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাদ্য ও কাজের সুযোগের অভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় নিম্ন আয়ের অনেক মজুর কাজ হারাচেছন। কারণ পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গারা অনেক কম দামেও শ্রম বিক্রিতে আগ্রহী।
‎সরজমিন তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, কক্সবাজার অঞ্চলে গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, লবণ চাষ, কৃষি বা নির্মাণসহ যেসব খাতে শ্রমিক প্রয়োজন, সেখানে রোহিঙ্গারা কাজে যুক্ত হচেছন। এতে স্থানীয়রা বেকার হয়ে অমানবিকতার কারনে সামাজিক অসন্তোষ তৈরি হচেছ। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানে মাদক চোরাচালানের প্রবণতা দিনদিন বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। জানা যায়, সীমানার ওই পাড়ে গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বর্তমান নিয়ন্ত্রণকারীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইয়াবার মতো মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এক্ষেত্রে সস্তায় মাদক বহনকারী হিসেবে রোহিঙ্গারা ব্যবহৃত হচেছ।
‎ক্যাম্প নির্মাণের ফলে যে পরিমাণ বনাঞ্চল ধ্বংস হয়েছে, তা পুনঃবৃক্ষায়নের মাধ্যমে পরিবেশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া।
‎কক্সবাজারের রাস্তাঘাট ও স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ করা।
‎রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল মানবিক সংকট নয়, এটি একটি জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উচিত হবে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং একই সাথে ¯’ানীয় জনগোষ্ঠীর ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
‎এই অচলাবস্থা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর কঠোর তদারকি, স্থানীয়দের জন্য পৃথক কর্মসংস্থান কোটা সংরক্ষণ এবং ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি হোস্ট কমিউনিটির পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

‎লেখকঃ এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী – মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি, সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম ও চেয়ারম্যান পালংখালী ইউনিয়ন, পরিষদ, উখিয়া।।

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

বরমী-ঢাকা সরাসরি বাস চালুর দাবি জানালেন চিত্রনায়ক যুবরাজ

মোঃ সোহেল মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
বরমী-ঢাকা সরাসরি বাস চালুর দাবি জানালেন চিত্রনায়ক যুবরাজ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়ন থেকে ঢাকার সরাসরি বাস যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মাহফুজুর রহমান যুবরাজ খান। সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে শ্রীপুর ও গাজীপুরবাসীসহ স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তুলে ধরেন।

​ফেসবুক পোস্টে যুবরাজ বরমী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে লেখেন, শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়ন ব্যাপারি বাস স্ট্যান্ড থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর আগে ‘প্রভাতী বনশ্রী পরিবহন’ সহ অন্যান্য বাস সরাসরি বরমী থেকে ঢাকায় যাতায়াত করত, যা স্থানীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু বর্তমানে বরমী থেকে সরাসরি ঢাকায় যাতায়াতের কোনো পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

​তিনি উল্লেখ করেন, বরমী ইউনিয়ন ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে অনেকেই এই সমস্যার কথা তার কাছে তুলে ধরেছেন। জনগণের এই প্রত্যাশার কথা বিবেচনা করেই তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই পোস্টটি করেছেন।


পোস্টে যুবরাজ আরও যোগ করেন, বরমী থেকে ঢাকার সরাসরি বাস সার্ভিস চালু হলে এলাকার অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা, ব্যবসায়ীদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা অনেক সহজ হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হবে। জনগণের এই চাওয়াকে অত্যন্ত যৌক্তিক মনে করেই তিনি বিষয়টি সবার সাথে শেয়ার করেছেন।

​সবশেষে তিনি বিনয়ের সাথে বলেন, “আমি ছোটখাটো সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রকে ভালোবাসি, রাষ্ট্রের উন্নয়ন চাই, জনগণের দোয়া এবং ভালোবাসা চাই।” একই সাথে তিনি স্থানীয় সাংবাদিক ও পরিবহন সেক্টরের সাথে জড়িত সবার প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন।

​জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে একজন তারকার এমন আন্তরিক ও দায়িত্বশীল পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

মৃত্যুকূপ থেকে মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন

মিশরকে স্তব্ধ করে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক, বাংলা নিউজ টিভি প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
মিশরকে স্তব্ধ করে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ফুটবল বিধাতা বোধহয় আর্জেন্টিনার ভাগ্যে চরম উত্তেজনার কথাই লিখে রেখেছেন। গোল হজম, পেনাল্টি মিস, একের পর এক সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া আর ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া; সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ বা নকআউট পর্ব থেকেই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় তখন স্রেফ সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। কিন্তু আলবিসেলেস্তেরা যে সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নয়, তা আরও একবার বিশ্বমঞ্চে প্রমাণিত হলো। মৃত্যুকূপের কিনারা থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ফিরে এসে মাত্র ১৩ মিনিটের এক বিধ্বংসী টর্নেডো ঝড়ে মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের এক নতুন গল্প লিখল আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় মিশরকে ৩-২ গোলে স্তব্ধ করে দিয়ে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের ১৫ মিনিটে কর্নার থেকে মারওয়ান আতিয়ার মাপা ক্রসে ডি-বক্সের মাঝখান থেকে দুর্দান্ত এক হেডে মিশরের ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিম বল জালে জড়ালে ১-০ তে পিছিয়ে পড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ধাক্কা সামলে ২১ মিনিটেই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় লিওনেল স্কালোনির দল। মিশরের বক্সে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেওয়া দুর্বল গতির বাঁ পায়ের শটটি ডানদিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। এই মিসের পর বিশ্বকাপে নেওয়া ৮টি পেনাল্টীর ৪টিই হাতছাড়া করার এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। চলতি আসরে এটি তাঁর দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। অন্যদিকে ইরানের মেহদি তারেমির পর মেসির পেনাল্টি আটকে দিয়ে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় সেভের দেখা পান মোস্তফা। এরপর ২৮ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের ক্রসে মাক আলিস্তারের হেড এবং ৩৯ মিনিটে তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে হুলিয়ান আলভারেজের জোরালো শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ফিরিয়ে দিয়ে প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মোস্তফা শোবেইর।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মিশরের ৯ জন খেলোয়াড় রক্ষণভাগে শক্ত দেয়াল তুলে দাঁড়ালে মেসি কিছুটা জায়গা তৈরি করে দে পলকে বল বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া দে পলের নিচু শটটি সহজেই গ্লাভসবন্দী করেন মোস্তফা। উল্টো ৫৮ মিনিটে মোহাম্মদ সালাহর পাস আর হাসানের চমৎকার দৌড় থেকে আসা জিকোর এক চোখধাঁধানো কাউন্টার অ্যাটাক ফিনিশিংয়ে উল্লাসে মেতেছিল মিশর। তবে আক্রমণের শুরুতে ফাউল থাকায় ভিএআরের (VAR) সাহায্যে গোলটি বাতিল করে আর্জেন্টিনাকে ফ্রি-কিক দেন রেফারি। কিন্তু গোল বাতিলের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে আর কোনো ভুল করেনি ফারাওরা। পাল্টা আক্রমণ থেকে হাসানের বাড়ানো নিখুঁত পাস ধরে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে আবারও বল জালে জড়ান জিকো। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তখন খাদের কিনারায় ছিটকে যায় আর্জেন্টিনা।

দুই গোল হজম করার পর যেন খ্যাপাটে বাঘের মতো জেগে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মহাকাব্য শুরু হয়। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়া ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ডান দিক থেকে বাড়ানো মেসির চমৎকার ক্রসে এক দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান ২-১ করেন। মিশরীয় গোলরক্ষক হাত ছোঁয়ালেও বলের গতি রোধ করতে পারেননি। মিশর ডিফেন্ডাররা অফসাইডের দাবি তুললেও রেফারি তা নাকচ করে দেন। ঠিক ৪ মিনিট পর, ম্যাচের ৮৪ মিনিটে পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে মাতান মহাতারকা লিওনেল মেসি। জোরালো এক শটে গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বল বারের নিচের অংশ ছুঁয়ে জালে জড়ালে ২-২ সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির ৮ম গোল এবং এর মাধ্যমে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অতিমানবীয় কৃতিত্ব অর্জন করলেন এলএমটেন।

তবে নাটকের শেষ অঙ্ক তখনো বাকি ছিল। ম্যাচের যোগ করা সময়ে অর্থাৎ ৯২ মিনিটে আর্জেন্টিনার এক গতিময় পাল্টা আক্রমণ থেকে বক্সের মাঝখানে বল পান এনজো ফার্নান্দেজ। বদলি হিসেবে মাঠে নামা লাউতারো মার্তিনেজের নিখুঁত অ্যাসিস্টে চমৎকার এক হেডে মিশরের জাল কাঁপিয়ে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এনজো ফার্নান্দেজ। মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে ৩টি গোল হজম করে ততক্ষণে ম্যাচ থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে গেছে মিশর। শেষ পর্যন্ত এই অবিশ্বাস্য ও অবিস্মরণীয় জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এই জয়টি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও মেসি ও এনজোদের লড়াকু মানসিকতা প্রমাণ করে কেন তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এই রোমাঞ্চকর জয়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালে আলবিসেলেস্তেদের আত্মবিশ্বাস আরও বহুগুণ বেড়ে গেল।

জিএমপির পৃথক অভিযানে ০৩ টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার প্রতারক চক্রের সক্রিয়-০১ সদস্য গ্রেফতার

রাজু হাসান :স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
জিএমপির পৃথক অভিযানে ০৩ টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার প্রতারক চক্রের সক্রিয়-০১ সদস্য গ্রেফতার

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ ইসরাইল হাওলাদার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক মহানগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে জিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনা-১: মহানগর গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগের বিশেষ অভিযানে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ০৩টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও জাল নম্বরপ্লেট, ভুয়া রেজিস্ট্রেশন, পুলিশ ও বিআরটিএর জাল সিল-স্টিকার, আইডি কার্ডসহ প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজু করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘটনা-২: মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা বদলি ও ঋণ প্রদানকারী প্রতারক চক্রের এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চক্রটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও সহজ শর্তে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। অভিযানে বিভিন্ন ব্যাংকের স্বাক্ষরযুক্ত চেক, স্ট্যাম্প, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গাজীপুর মহানগরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।