বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম:
তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধি কামনা করলেন মোদিফ্রিজভর্তি কুরবানির গোশত বনাম প্রতিবেশীর শূন্য থালা: আমাদের ইবাদত কতটা খাঁটি?পবিত্র ঈদুল আযহায় বাবা-মা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানরোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোরবানির মাংস বরাদ্দ: স্থানীয়দের ২৫% হিস্যার তালিকা প্রকাশের দাবিতে জেলা প্রশাসককে  আবেদন।অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও স্পষ্টীকরণউখিয়ায় ধ/র্ষ/ণের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজের জাগরণ শীর্ষক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিতউখিয়ার পালংখালীতে আধুনিক ও মানসম্মত ‘স্বপ্নঘর ফার্নিচার ও ক্রোকারিজ মার্ট’-এর শুভ উদ্বোধন।গাজীপুরে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস পালিতবিরুলিয়াবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ইউপি সদস্য আপেল দেওয়ানেরটেকনাফে র‌্যাবের অভিযান: মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত ৬ ভিকটিম উদ্ধার, মায়ানমার মুদ্রাসহ নারী পাচারকারী গ্রেফতারউখিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির অভিযোগ।টেকনাফে ৯ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ণ: প্রধান আসামি নবী হোছন চট্টগ্রামে গ্রেফতার।উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান: বিদেশি পিস্তল ও ৪৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৩!টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে র‍্যাবের অভিযান: ওয়ান শুটারগানসহ চিহ্নিত অপরাধী গ্রেফতারপশ্চিম পালংখালীবাসীর দীর্ঘশ্বাস: সামান্য বৃষ্টিতেই ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয় রাস্তা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোরবানির মাংস বরাদ্দ: স্থানীয়দের ২৫% হিস্যার তালিকা প্রকাশের দাবিতে জেলা প্রশাসককে  আবেদন।

মোঃ হারুন অর রশিদ , কক্সবাজার: প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোরবানির মাংস বরাদ্দ: স্থানীয়দের ২৫% হিস্যার তালিকা প্রকাশের দাবিতে জেলা প্রশাসককে  আবেদন।
৫৯

আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা কর্তৃক বরাদ্দকৃত কোরবানির গরুর মাংসের ২৫ শতাংশ স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের তালিকা প্রকাশ ও অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবরে আবেদন করা হয়েছে।

‎গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় থেকে জারিকৃত স্মারক নং- ৫১.০৪.২২০০.০০৬.০৬.০১০.২৬-১৭৮৫ এর সূত্র ধরে পালংখালী ইউনিয়নবাসীর পক্ষে এই আবেদন  প্রদান করেন পালংখালী ০৭ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম।

‎আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে ৪১টি এনজিও সংস্থার মাধ্যমে ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য সর্বমোট ১,৯৫,৭৫৪ কেজি (এক লক্ষ পঁচানব্বই হাজার সাতশত চুয়ান্ন কেজি) গরুর মাংস বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী, এর বিপরীতে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৪৮,৯৩৮ কেজি মাংস বরাদ্দ থাকার কথা।

‎আবেদনকারী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম জানান, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সীমান্ত দিয়ে ঢল নামার পর উখিয়ার পালংখালী ও বালুখালী রহমতের বিল এলাকা দিয়েই ১৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে। বর্তমানে পালংখালী ইউনিয়নের ২৫টি ক্যাম্পে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছে। বিপুল সংখ্যক এই শরণার্থীর চাপে উখিয়া-টেকনাফের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পালংখালী ইউনিয়ন। এখানকার রাস্তাঘাট, পরিবেশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

‎আবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, এত বিপুল পরিমাণ মাংস বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পালংখালী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা কত শতাংশ মাংস পাচ্ছে, তার কোনো স্পষ্ট তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয়দের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোন ইউনিয়ন কত কেজি মাংস পাচ্ছে, তার বিস্তারিত তালিকা প্রকাশের বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

‎”রোহিঙ্গাদের কারণে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে পালংখালীর মানুষ। অথচ অধিকারের বেলায় স্থানীয়রাই বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা চাই আরআরআরসি অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয়দের প্রাপ্য ২৫% মাংস যেন যথাযথভাবে এবং স্বচ্ছ তালিকার মাধ্যমে দ্রুত বিতরণ করা হয়।” অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম (আবেদনকারী)

‎উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় ভূক্তভোগী জনগণের অধিকার রক্ষায় এবং ঈদুল আযহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উখিয়াবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধি কামনা করলেন মোদি

বিশেষ সংবাদদাতা, ঢাকা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধি কামনা করলেন মোদি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দেশের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক বিশেষ কূটনৈতিক বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান জনকল্যাণমুখী ও বহুমুখী সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় ও জোরদার করার বিষয়ে নয়াদিল্লির সুষ্পষ্ট ও দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে জানানো হয় যে, প্রেরিত ওই শুভেচ্ছা বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের ‘ভাতৃপ্রতিম জনগণকে’ ভারতের জনগণ এবং সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই পবিত্র উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ, বৈচিত্র্যময় এবং ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের কোটি কোটি মুসলিম সম্প্রদায় অত্যন্ত আনন্দ, উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর এই উৎসব উদযাপন করে থাকেন।

তিনি তাঁর বার্তায় আরও উল্লেখ করেন যে, ঈদুল আজহার মূল বাণী মূলত আত্মত্যাগ, গভীর সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বের শাশ্বত আদর্শকে সমুন্নত রাখে, যা বর্তমান বিশ্বে একটি শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ তথা বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে তুলে ধরে বলেন, দুই দেশের যৌথ আত্মত্যাগ, নিবিড় সাংস্কৃতিক মিল এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির পারস্পরিক আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনমুখী পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বেগবান ও জোরদার করতে ভারত সরকার সবসময় বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে গভীরভাবে আগ্রহী। মোদি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, দ্বিপাক্ষিক অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্য এবং দুই দেশের যৌথ কর্মপরিকল্পনা আগামী দিনে উভয় রাষ্ট্রের জনগণের সার্বিক অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখবে। বার্তার শেষাংশে, নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করেন এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতি, শান্তি ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই আন্তরিক শুভেচ্ছা বার্তা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। দুই দেশের যৌথ উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রিজভর্তি কুরবানির গোশত বনাম প্রতিবেশীর শূন্য থালা: আমাদের ইবাদত কতটা খাঁটি?

বিশেষ উপ-সম্পাদকীয় প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
ফ্রিজভর্তি কুরবানির গোশত বনাম প্রতিবেশীর শূন্য থালা: আমাদের ইবাদত কতটা খাঁটি?

পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের মাঝে প্রতিবছরই ফিরে আসে ত্যাগের মহিমান্বিত এক স্বর্গীয় বার্তা নিয়ে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজের প্রিয় পশুকে উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে মোমিন বান্দা মূলত তার ভেতরের অহংকার, লোকদেখানো মানসিকতা ও পঙ্কিলতাকে কুরবানি করে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে আমাদের এই মহান ইবাদতের বাহ্যিক জৌলুস যতটাই বাড়ছে, এর অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক ও সামাজিক চেতনা ঠিক ততটাই যেন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। পশুর দামের প্রতিযোগিতা আর সামাজিক মর্যাদার লড়াইয়ে লিপ্ত হতে গিয়ে আমরা ভুলে যাচ্ছি কুরবানির মূল দাবি। যখন একজন সামর্থ্যবান ব্যক্তি দামি পশু কুরবানি করে তার সিংহভাগ গোশত নিজের ফ্রিজের গভীর প্রকোষ্ঠে জমিয়ে রাখেন, অথচ তার ঘরের ঠিক পাশেই একজন অভাবী প্রতিবেশী কিংবা দরিদ্র খামারি গোশতের স্বাদ থেকে বঞ্চিত থাকেন, তখন সেই কুরবানির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় রকমের নৈতিক ও ধর্মীয় প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়া স্বাভাবিক।

ইসলামের সুমহান বিধান অনুযায়ী, কুরবানির পশুর গোশতকে সাধারণত তিন ভাগে বণ্টন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে—এক ভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং অবশিষ্ট এক ভাগ সমাজ ও পাড়া-প্রতিবেশীর দরিদ্র মানুষের জন্য। এটি কেবল একটি নিয়মের ফ্রেমওয়ার্ক নয়, বরং এটি হলো সাম্য ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের এক অনন্য কৌশল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের সমাজে এখন এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে গোশত জমিয়ে রাখার এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। কোরবানির ঈদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই কার ফ্রিজে কত কেজি গোশত সংরক্ষণ করা হলো, সেই হিসাব মেলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনেকে। অন্যদিকে, সারা বছর ধরে যে পরিবারটি একটু পুষ্টিকর খাবারের আশায় চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকে, ঈদের দিনেও তাদের কপালে হয়তো জোটে না এক টুকরো মানসম্মত গোশত। এই দৃশ্যটি আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিক অবক্ষয়ের এক চরম বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, কুরবানির পশুর রক্ত কিংবা মাংস তাঁর দরবারে পৌঁছায় না, বরং যা পৌঁছায় তা হলো বান্দার অন্তরের তাকওয়া বা খোদাভীতি। তাকওয়ার মূল কথাই হলো আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়াশীল হওয়া এবং নিজের স্বার্থকে বিলিয়ে দিয়ে অন্যকে সুখী করা। ফ্রিজ ভরে রাখা যদি আমাদের কুরবানির মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা কেবলই একটি উৎসবকেন্দ্রিক পশুজবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। নিজের রসনাবিলাসের জন্য কোটি টাকা খরচ করে পশু কিনে, সেই পশুর গোশত যদি সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পারে, তবে সেই রক্তক্ষরণের কোনো আত্মিক মূল্য থাকে না। প্রতিবেশী অভুক্ত থাকা অবস্থায় নিজের উদরপূর্তি করাকে ইসলাম কখনো সমর্থন করে না।

আজ আমাদের আত্মসমীক্ষা করার সময় এসেছে। ঈদুল আজহা আমাদের যে সামাজিক মেলবন্ধনের শিক্ষা দেয়, তা আজ যান্ত্রিক সভ্যতার যাতাকলে পিষ্ট। করপোরেট সংস্কৃতির যুগে ফ্রিজের ধারণক্ষমতা দিয়ে যখন আমাদের কুরবানির পরিধি মাপা হয়, তখন মানবিকতা কেঁদে ওঠে। আমরা যদি প্রকৃতপক্ষেই একটি ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে চাই, তবে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। এই ঈদে আসুন আমরা আমাদের ফ্রিজের দরজাগুলো একটু কম খুলি এবং আমাদের হৃদয়ের দরজাগুলো আরও বেশি উন্মুক্ত করি। আমাদের চারপাশের ক্ষুধার্ত মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে উপলব্ধি করি এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতকে সবার মাঝে অকাতরে বিলিয়ে দিই। তবেই আমাদের কুরবানি হবে পারফেক্ট, তবেই পূর্ণতা পাবে আমাদের মোনাজাত।

কুরবানির সার্থকতা কেবল পশু জবাইয়ের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি নির্ভর করে ত্যাগের গভীরতার ওপর। প্রতিবেশী দরিদ্র বলে গোশত পাবে না, আর খামারিরা বঞ্চিত থাকবে—এমন সমাজ কোনো কল্যাণকামী সমাজ হতে পারে না। আসুন, লোকদেখানো সংস্কৃতির বলয় থেকে বের হয়ে এসে গোশত বণ্টনে সততা ও ইনসাফ কায়েম করি, যাতে সমাজের প্রতিটি মানুষের ঈদ আনন্দপূর্ণ হয়।

পবিত্র ঈদুল আযহায় বাবা-মা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিশেষ সংবাদদাতা, ঢাকা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
পবিত্র ঈদুল আযহায় বাবা-মা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পবিত্র ঈদুল আযহার প্রধান জামাতে নামাজ আদায়ের পর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে তিনি মরহুম পিতা-মাতা ও অনুজের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ সম্পন্ন করার পরপরই সকাল ৮টা ৩৮ মিনিটে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পিতা-মাতার সমাধিস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।

শেরেবাংলা নগরে পৌঁছানোর পর প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী সম্পূর্ণ একান্তে কবর জিয়ারত সম্পন্ন করেন। তাঁরা পরম করুণাময়ের দরবারে পিতা-মাতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে পিতা-মাতার কবরে পুনরায় ফাতেহা পাঠ করেন এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাতের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে গভীর শ্রদ্ধার সাথে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি।

এই তাৎপর্যপূর্ণ জিয়ারতের সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে অংশ নেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এবং জাতীয় সংসদের সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর।

শেরেবাংলা নগরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকার বনানী কবরস্থানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বনানীতে পৌঁছে তিনি তাঁর প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবরের পাশে কিছু সময় অবস্থান করেন। সেখানেও তিনি অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে ফাতেহা পাঠ করেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। বনানীর এই জিয়ারত কার্যক্রমেও প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত থেকে মোনাজাতে শরিক হন।

পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দের দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পিতা-মাতা ও ভাইয়ের সমাধি জিয়ারতের এই উদ্যোগ তাঁর পারিবারিক মূল্যবোধ ও স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধেরই বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রীয় ও দলীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই স্মরণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সম্পন্ন হয়।