শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন

অসহায় দুস্থদের কল্যাণে অবিরাম ছুটে চলছে আলোর আশা
স্টাফ রিপোর্টার / ৮৫৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শনিবার, ২ মে, ২০২০

Views: 0

মোঃ আলী হোসেন , স্টাফ রিপোর্টার চট্রগ্রামঃ
কোথাও কোন অসুস্থ অজ্ঞাত রোগীর খবর শুনলে ছুটে যান আলোর আশা। কোন অসহায় মানুষের চিকিৎসা বা কারো রক্ত প্রয়োজন সেখানেও দেখা মিলে আলোর আশা’র। সড়কে গাড়ি এক্সিডেন্ট করলে সবার আগে দৌড় দেয়,উদ্দ্যেশ্য নিহতের সংখ্যা গণনা করা নয় বরং কাউকে বাঁচানো যায় কিনা তা চেষ্টা করা।
কারও মেয়ের বিয়ে হচ্ছেনা, অর্থের ব্যবস্থা করে দিয়ে অসহায় পিতার মুখে হাঁসি ফুটানো। কারও কিডনী সমস্যা, সেখানেও সেবা সহযোগিতায় থাকে আলোর আশা। অনেক গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালের বারান্দায় ছুটাছুটি এই ওয়ার্ড থেকে ঐ ওয়ার্ডে দৌঁড়াদৌঁড়ি। নিজের পরিবার জন্য নয় হয়তো কোন প্রসূতি মায়ের জন্য রক্তের ব্যবস্থা করতে অথবা কোন অজ্ঞাতরোগী বা কোন অসহায় পরিবারের সেবায়। হাওর এলাকায় বন্যা কবলিতদের পাশে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেছিল আলোর আশা৷ পথশিশুদের অন্ধকার জীবনে আলো এনেছে আলোর আশা। রেলস্টেশন কিংবা খোলা রাস্তায় যে শিশুদের কোন ভবিষ্যত ছিল না তাদের জন্য গনশিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন, গড়ে তুলেছেন মানবতার স্কুল School of Humanity & Animation তথা সোহা স্কুল৷ যখন অন্যরা জন্মদিন অনুষ্ঠান ঘটা করে পালন করায় ব্যস্ত তখন হয়তো কেক আর ক্ষুদ্র কিছু উপহার নিয়ে এতিম অসহায়দের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে আলোর আশা ।

এই মহামারি করোনা ভাইরাসে সারা বিশ্ব যখন নিঃস্তব্দ, কেউ প্রাণের মায়া বিসর্জন দিয়ে ঘর থেকে বের হতে নারাজ তখন অসহায় মানুষের কল্যাণে একাই মাঠে নেমেছিল আলোর আশার প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আনোয়ার এলাহি ফয়সাল। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শুধু চেষ্টা করে যাচ্ছি অন্ধকারের ছোবল হতে আলোকে ছিনিয়ে আনতে। প্রথমদিকে নিজ উদ্দ্যোগে শুরু করেছিলাম আমাদের সোহা স্কুলের শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে। তাদের ও তাদের পরিবারের মাঝে সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক এসব দিয়েছিলাম। সোহা স্কুলে ১১৯ শিশু তার মধ্যে ৭০ জন শিশু পড়াশুনা করছে তাদের বেশীরভাই ছিন্নমূল ও পথশিশু। আমরা চেয়েছিলাম তারা ভালো থাকুক। এখন পর্যন্ত ওরা সবাই ভালো আছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের সাথে দেখাদেয় খাদ্য সংকট। খাদ্য সংকট মোকাবেলায় ও আমরা কাজ করেছি চার দফায়। আলোর আশা স্বপ্ন দেখে তাদের নিয়ে,তারা পথশিশু বা সুবিধাবঞ্চিত শিশু থেকেই দেশের সম্পদে পরিণত হবে। এই শিশুরা আজ অভুক্ত তাদের পরিবারের চেয়ে অনেক বেশী চিন্তিত আমি ও আমাদের আলোর আশা পরিবার।

আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশন যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রামে ১১ নভেম্বর ২০১৭ সালে। এটি একটি অরাজনৈতিক অলাভজনক সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ আনোয়ার এলাহি ফয়সাল তিনি নিজেকে আলোর আশা পরিচয় দিতেই তিনি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন বসবাস কারী ৬০ বছরের বৃদ্ধা ফাতেমা বলেন, ফায়সাল মামা যতদিন আছেন আমরা উপোস থাকুম না। উপর আল্লাহ উনাকে আমাদের জন্য উসিলা করেছেন। আখেদা বেগম বলেন আমরা সবাই এখানে আলোর আশার সহযোগিতা পায়, ফয়সাল মামা সব সময় আমাদের পাশে থাকেন সহযোগিতা করেন। উনার পরিবারের মত আমাদের ভালোবাসেন। আমাদের ঘরে খাবার না থাকলে দিয়ে যান, রাস্তায় যারা আছে তাদের প্রতিদিন খাবার দেন।

রমজানের শুরুতে প্রায় অর্ধ শতাধিক পরিবারকে সেহেরী ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশন। নিয়মিত অসহায় মানুষদের জন্য ইফতার ও সেহেরীর আয়োজন করে যাচ্ছে। আলোর আশার কোষাধ্যক্ষ শাহ সোহেল বলেন, আমাদের ফান্ড সংকট শিশুরা রয়েছে অভুক্ত। দেশের এই সংকটে আমরা চেষ্টা করছি শিশু বৃদ্ধ সহ সকলের মুখে খাবার তুলে দিতে। দপ্তর সম্পাদক মোরশেদ আহমেদ শান্ত বলেন, আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ফয়সাল ভাই সব সময় অসহায় মানুষদের ভরসার স্থল। নিজের সময় শ্রম মেধা দিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন অসহায় মানুষদের কল্যাণে এছাড়াও তিনি ক্ষীণ কন্ঠে জানান যখন ফান্ড সংকট তারপরেও আমরা যেন ধমে না যাই। আমাদের তিনি সব সময় বলেন অর্থ সংকটে যেন কোন শিশু অভুক্ত না থাকে তিনি এ বিষয়ে আমাদের বারবার নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।করোনা মোকাবেলায় আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশন কাজ করছে শুরু থেকে। আমাদের সকলের ব্যক্তিগত অর্থ, সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগীতায় আমরা ২৪৭ পরিবার কে ত্রাণ দিয়েছি। প্রায় প্রতিদিনই ২০০ বা ৩০০ অসহায় মানুষকে খাবার বিতরণ করেছি। ফান্ড সংকটের কারণে আজ কয়েকদিন যাবৎ কোন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সমাজের এই আলোছায়ার মিছিলে নির্বিঘ্নে নিঃস্বার্থে কাজ করতে গিয়ে হয়তো হেরে যাচ্ছি শুধুমাত্র ফান্ড সংকটের কারণে। খুব ভয় হয় করোনায় নয় হয়তো ক্ষুধা যন্ত্রণায় ছটফট করবে আমাদের লিস্টে থাকা অসহায় হত দরিদ্র মানুষগুলো । প্রতিদিনই সহযোগিতার আবেদন চেয়ে পেজে মেইলে সব জায়গায় মানুষ অনুরোধ করছে কিন্তু আশানুরূপ কোন উত্তর তাদের দিতে পারছি না৷ সমাজের স্বহৃদয়বান মানুষজন যদি তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বা যাকাত ফিতরার মাধ্যমে হলেও এই রমজানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে আবার আমরা আলো ছড়াতে পারবো ইনশাআল্লাহ ।

আলোর আশা ফাউন্ডেশনে সহযোগিতা করার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন সংগঠনের ব্যাংক হিসাব নাম্বারের মাধ্যমে সহযোগিতা করা যাবে। আমাদের ব্যাংক হিসাব নাম্বার 0212-111-00000-369 ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। কদমতলী শাখা। বিকাশ নগদ ও রকেট নাম্বার ০১৭২১-০০০৩৪৫ -৮ এছাড়া আমাদের অফিসে এসে যে কেউ সহযোগিতা করতে পারেন ঠিকানা : বশির সর্দার বিল্ডিং, (৩য় তলা) পোস্তারপাড়, ধনিয়ালাপাড়া, চট্টগ্রাম । 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update