সরাসরি সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনে এগুলো পতিত হচ্ছে এবং সেগুলো থেকে এক ধরনের বিষাক্ত গ্যাস সৃষ্টি হচ্ছে। গেল বছর এই বর্জ্যের কারণে মিথেন গ্যাসের সৃষ্টি হয় এবং ড্রেন বিস্ফোরণ ঘটে ফলে ঘটনাস্থলে দুইজন নিহত হয় ও বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়। অভিযোগ রয়েছে অতিরিক্ত বর্জ্য পচনের ফলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে এবং যার কারণে একাধিকবার বিস্ফোরণ ঘটেছে। চলতি বছরও মে মাসে ফার্মের পচা বর্জ্যের কারণে আরও একটি বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেখান থেকে পথচারী একজন পোশাক শ্রমিক মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন এ ফার্মটির বর্জের দুর্গন্ধের কারণে এলাকায় তাদের বসবাস কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলার্জি, হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ এলাকার মানুষ নানা রোগে ভুগছেন।
তারা বারবার প্রতিকার চেয়েও এ বিষয়ে কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। ফার্মের পাশেই একটি মসজিদ রয়েছে সে মসজিদে মুসল্লিদের যাতায়াত এবং নামাজ আদায় করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গন্ধের কারণে। এছাড়াও ফার্মটি রাস্তার পাশে হওয়ায় পথচারী স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সহ সর্বস্তরের মানুষের নানাবিধ স্বাস্থ্যগত সমস্যা হচ্ছে।
এ ফার্মের বর্জ্যের পচা দুর্গন্ধের কারণে এ বিষয়ে এলাকার পক্ষ থেকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও এলাকার জনপ্রতিনিধি সহ সুশীল সমাজ ও প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।
কিন্তু তারপরও এক অজানা কারণে এই ফার্মটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় কোন গবাদি অথবা পোল্টি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করা যায় না। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি রয়েছে এমন জায়গায়ও প্রতিষ্ঠিত করার বিধান নেই। তারপরও রফিকুল ইসলাম রফি কি করে এখানে কি করে অস্বাস্থ্যকর ভাবে আবাসিক এলাকায় ডেইরি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করে এটি সাধারন মানুষের প্রশ্ন।
ফার্মের ম্যানেজারসহ মালিককে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তারা বলে আমরা সবকিছু ম্যানেজ করেই এই ডেইরি ফার্ম টি পরিচালনা করছি। পুলিশ, সাংবাদিক এগুলো আমাদের কাছে কোন বিষয় না। আপনারা যা পারেন লেখেন এতে আমাদের কিছু যায় আসে না। এরকম দম্ভভরে উত্তর দেন ফার্ম এর পক্ষ থেকে। কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে এরকম অবৈধ ডেইরি ফার্ম আবাসিক এলাকায় আর কতদিন চলবে? আর কতদিন এভাবে সাধারন মানুষের সাথে তামাশা চলবে? এটি এখন সময়ের প্রশ্ন। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে এখানে ফার্মে যে দুধ বিক্রি করা হয় সেটা উচ্চ দামে বিক্রি করা হয়।
সিটি কর্পোরেশনসহ প্রশাসনের যথাযথ মনিটরিং না থাকায় সেখানে প্রতি কেজি দুধ ৮০ টাকা কোন কোন ক্ষেত্রে তারও বেশি বিক্রি করা হয়। গোখাদ্য হিসেবে খাদ্যের সাথে রাসায়নিক মিশ্রণ দিয়ে তৈরি করে খাওয়ানো হয় গাভীগুলোকে। বিশেষজ্ঞ গণ মনে করেন, রাসায়নিক মিশ্রণ এর খাদ্য খাওয়ানোর ফলে গাভী থেকে যে দুধ আসে সেগুলো মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়টি নিয়ে সঠিক কোনো তদারকি না থাকায় কর্তৃপক্ষের খেয়ালখুশিমতো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীসহ সর্বসাধারণের দাবি মানব স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে অচিরেই যেন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং এটি যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবাসিক এলাকা থেকে স্থানান্তরিত করা হয়।
সারাবিশ্বে মহামারী করোনায় এমনিতেই আতঙ্কে রয়েছে মানুষ। অপরদিকে আবাসিক এলাকায় দুর্গন্ধযুক্ত এরকম ডেইরি ফার্ম প্রতিষ্ঠা যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে আছে ডেইরি ফার্মের বর্জ্যের এই দুর্গন্ধের কারণে এবং পরিবেশের অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় কখন তারা মহামারী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায় এমন আশঙ্কায়। সুতরাং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনা করবেন এটাই সর্বসাধারণের চাওয়া।