Views: 8
বরিশাল নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি—সর্বত্রই এখন অনুমোদনহীন অটোরিকশার অবাধ বিচরণ। কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র বা রুট পারমিট না থাকলেও দাপটের সাথে চলাচল করছে এসব যান। ফলে নগরজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, আর প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও অফিসের ব্যস্ত সময়ে এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। যথাযথ তদারকি না থাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দেখা যায় শত শত অবৈধ অটোরিকশার জটলা। এসব যানের সিংহভাগেরই বিআরটিএ বা সিটি কর্পোরেশনের কোনো অনুমোদন নেই। তবুও প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে এই অবৈধ ব্যবসা। নগরবাসীর অভিযোগ, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকায় চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে অদক্ষ চালকদের কারণে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই থাকছে।
নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পেছনে স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন:
অনুমোদনহীন চালক ও যান: রুট পারমিট বিহীন কয়েক হাজার অটো প্রতিদিন নগরীতে প্রবেশ করছে।
যত্রতত্র পার্কিং: নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকায় সড়কের ওপরই পার্কিং করা হচ্ছে, যা রাস্তা সংকুচিত করে তুলছে।
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন: ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে এবং উল্টো পথে চলার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
ব্যস্ত সময়ে বিশৃঙ্খলা: অফিস ও স্কুল ছুটির সময়ে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করার ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকছে।
নগরীর বাসিন্দা মোঃ আমির আলি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের এলাকায় বর্তমানে অনুমোদনহীন অটোরিকশা এমনভাবে চলাচল করছে যে ঘর থেকে বের হওয়া দায়। তীব্র যানজট আর দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে আমাদের পথ চলতে হয়। কোনো নির্দিষ্ট রুট না থাকায় চালকরা খেয়ালখুশি মতো চলছে। আমরা অবিলম্বে এই অবৈধ অটো চলাচল বন্ধের দাবি জানাই।” সাধারণ পথচারীদের মতে, একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।
বরিশাল নগরীকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি। অনুমোদনহীন অটোরিকশার বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান এবং নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ না করলে এই জনদুর্ভোগ আরও প্রকট হবে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে এই অবৈধ পরিবহন বাণিজ্য বন্ধ করবে।