শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ন

‘গ্যাসের দাম এখনো ২২০০ টাকা কেন?’—ভোক্তা-অধিকারের অভিযানে নেটিজেনদের প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৩৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঢাকার একটি বাজারে পণ্যের মূল্য তালিকা পর্যবেক্ষণ করছেন
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঢাকার একটি বাজারে পণ্যের মূল্য তালিকা পর্যবেক্ষণ করছেন

Views: 5

দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ দুই বাণিজ্যিক এলাকায় বিশেষ বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অধিদপ্তরের বিশেষ আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরের মিরপুর-১ এলাকার শাহআলী মার্কেট এবং পুরান ঢাকার শ্যামবাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে। তবে এই অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে উঠে এসেছে নানা অভাব-অভিযোগ ও প্রত্যাশার চিত্র।

অধিদপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এদিন সকালে মিরপুর শাহআলী মার্কেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তালিকা ও ক্রয়-বিক্রয় রসিদ যাচাই করা হয়। এরপর দলটি শ্যামবাজারের পাইকারি আড়তগুলোতে পিয়াজ, রসুন ও আদার মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। অভিযানে ব্যবসায়ীদের ওজনে কারচুপি না করা এবং ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ভোক্তা-অধিদপ্তরের এই তৎপরতাকে অনেকে সাধুবাদ জানালেও সাধারণ ভোক্তাদের একটি বড় অংশ অন্যান্য নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অধিদপ্তরের এই অভিযানের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কমেন্ট বক্সে সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক ভোক্তা অভিযোগ করেছেন যে, এলপিজি গ্যাসের দাম নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি রাখা হচ্ছে। অনেক এলাকায় এখনো এক সিলিন্ডার গ্যাস ২০০০ থেকে ২২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া শ্রীপুর, বাইপাইল ও কাশিমপুরের মতো শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিয়মিত তদারকি না থাকায় সেখানকার সাধারণ মানুষ ব্যবসায়ীদের দ্বারা ‘লুণ্ঠিত’ হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন।

ভোক্তাদের বৈচিত্র্যময় প্রতিক্রিয়া ও পরামর্শ

বাজার তদারকি নিয়ে জনগণের প্রতিক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে:

  • ছদ্মবেশে অভিযানের পরামর্শ: অনেক সচেতন নাগরিক মনে করেন, দল বেঁধে বা মহড়া দিয়ে অভিযানে না গিয়ে কর্মকর্তাদের সাধারণ ক্রেতা সেজে বাজারে যাওয়া উচিত। এতে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রকৃত চিত্র ধরা সহজ হবে।

  • ডিমের বাজার ও খামারিদের স্বার্থ: ডিমের দাম বৃদ্ধি পেলে তদারকি জোরদার হলেও বর্তমানে দাম কমে যাওয়ায় খামারিদের উৎপাদন খরচ উঠছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। পোল্ট্রি শিল্প রক্ষায় ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।

  • ঢাকার বাইরে তদারকি: সিলেটসহ দেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতেও একই ধরণের কঠোর তদারকি চালানোর অনুরোধ জানিয়েছেন প্রান্তিক পর্যায়ের ভোক্তারা।

  • রমজানের প্রস্তুতি: আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সিন্ডিকেট ভাঙতে এখন থেকেই তৎপরতা দ্বিগুণ করার জন্য অধিদপ্তরকে অনুরোধ জানিয়েছেন মজিবুর রহমান ইফাতসহ সাধারণ মানুষ।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই অভিযান বাজার নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও গ্যাসের উচ্চমূল্য এবং ডিমের বাজারের অস্থিরতা নিয়ে জনগণের অভিযোগগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষের দাবি অনুযায়ী, ঢাকার পাশাপাশি প্রান্তিক এলাকাগুলোতেও নিয়মিত এবং ছদ্মবেশী অভিযান পরিচালনা করলে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমে আসবে। রমজানের আগে বাজার পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে অধিদপ্তরের কঠোর ও নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update