শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

নিশ্চিত মরবেন, শেষ চিঠিও লিখতে শুরু করেছিলেন; করোনাজয়ী তরুণীর গল্প!
স্টাফ রিপোর্টার / ৫৪৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০

Views: 1

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে এরই মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজারেরও অধিক মানুষের। ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিয়া লন্ডনের বাসিন্দা। সম্প্রতি নোভেল করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকায় শেষমেশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, কিন্তু এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। বাড়িতে বসে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। রিয়ার কথায়, ‘নিশ্বাস-প্রশ্বাস একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু আজকাল এই কাজটাই মনে করে করতে হচ্ছে আমাকে।’

সাত বছর আগে একাট রোগ ধরা পড়ে রিয়ার, চিকিৎসার ভাষায় যাকে বলে আকালেসিয়া। এই রোগে খাবার গিলতে সমস্যা হয় রোগীর। তাই শক্ত খাবার এড়িয়েই চলতেন তিনি। সম্প্রতি অস্ত্রোপচারের কথা ছিল তার। সেই মতো হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানেই কোভিড-১৯ ভাইরাসে সংক্রমিত হন তিনি।

রিয়া জানিয়েছেন, হাসপাতালে প্রথমে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তার। এরপর গায়ে জ্বর আসে। অস্ত্রোপচারের সাইড এফেক্ট ভেবে প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চাননি তিনি এবং চিকিৎসকদের কেউই। কিন্তু চারিদিকে করোনার প্রকোপের কথা মাথায় রেখে তার লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। তাতেই শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে লন্ডনে একটি কোভিড-১৯ সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হয় রিয়াকে। সেখানে চিকিৎসকদের চোখেমুখে তাকে নিয়ে উদ্বেগ স্পষ্ট ধরা পড়ে বলে জানিয়েছেন তিনি। রিয়ার কথায়, ‘পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে, শ্বাস নেওয়া পাহাড় চড়ার মতোই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আমাকে নিয়ে সকলেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। ডাক্তাররা নিচু স্বরে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে শুরু করেন।’

একটা সময় বেঁচে ফেরার আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন জানিয়ে রিয়া বলেন, ‘মরতেই বসেছিলাম আমি। ওখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারব ভাবিনি। আর দেখা হবে কি-না হবে, তার জন্য পরিবারের লোকেদের জন্য শেষ চিঠি লেখাও শুরু করে দিয়েছিলাম। মরতে মরতে বেঁচে ফিরেছি। কিন্তু স্বাভাবিক জীবনে ফিরব কী করে, তা এখনও জানি না।’

অক্সিজেন জোগানোর পাশাপাশি যন্ত্রণা কম করতে হাসাপাতালে তাকে মরফিনও দেওয়া হত বলে জানিয়েছেন রিয়া। তার জেরে কথা বলতেও কষ্ট হত বলে জানিয়েছেন তিনি। শেষমেশ বাড়ি যদিও ফিরতে পেরেছেন, কিন্তু বাড়িতে এখনও একঘরেই রয়েছেন রিয়া। স্বামী, মা-বাবা, বন্ধুবান্ধব কারও সঙ্গেই সাক্ষাতের অনুমতি নেই তার।

তবে করোনা তাকে অনেক কিছু শিখিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন রিয়া। তিনি বলেন, ‘একটা সময় এমন এসেছিল, যখন ফের দিনের আলো দেখতে পাব কি-না জানতাম না। সবকিছুই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তখনই পরিবারের অভাবটা আরও বেশি করে বুঝতে পারছিলাম। যে মুহূর্তে হাসপাতাল ছাড়লাম, সে যে কী অনুভূতি বলে বোঝাতে পারব না। তবে একটা কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি, জীবনে আর কখনও কোনও কিছুকেই বাঁধাধরা বলে ধরে নেব না।’

সূত্র- আনন্দবাজার।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update