ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ফুটপাতে হকার বসতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাভারে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৬ জন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার নিউ মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আনসার সদস্য এম.এইচ মানিক জানান, প্রতিদিনের মতো পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা ফুটপাতে হকার বসতে নিষেধ করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হকাররা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আনসার সদস্য আহত হন।
সাভার উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, “হকারদের বসতে বাধা দেওয়ায় ৬ জন আনসার সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সাভার মডেল থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে অভূতপূর্ব সাফল্য, দুর্ধর্ষ আসামি গ্রেফতার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে, ২০২৬) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে জিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করার পর বিভিন্ন থানায় পরিচালিত সফল অভিযানের মূল্যায়ন হিসেবে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে মাদক উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতারে বিশেষ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন জিএমপি কোনাবাড়ি থানার ওসি, সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম এবং কাশিমপুর থানার ওসি। তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত উল্লেখযোগ্য অভিযানের মধ্যে কোনাবাড়ী থানায় প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা মূল্যের ৬৪ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা ও ১২ বোতল বিদেশি মদসহ ০২ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া সদর থানার বিশেষ অভিযানে প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা মূল্যের ২ হাজার ১৪৯ পিস ইয়াবা এবং নগদ ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, কাশিমপুর থানা পুলিশ ১০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পাশাপাশি প্রায় ৮ লক্ষ টাকা মূল্যের ১৫০ গ্রাম হেরোইন ও ৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। ডিসি (ক্রাইম) নর্থ, এসি (ক্রাইম) সদর জোনসহ সংশ্লিষ্ট থানার ওসিগণ তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টার জন্য জিএমপি কমিশনারের বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন। কমিশনার মহোদয়ের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারগুলো তুলে দেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। এই পুরস্কার প্রদান কর্মকর্তাদের মনোবল বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে আরও সততার সাথে দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করবে বলে সভায় জানানো হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে সর্বদা তৎপর থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমুক্ত আধুনিক গাজীপুর গড়তে আগামীতে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয় এই অনুষ্ঠান থেকে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এই অভিযান আগামীতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এই পুরস্কার প্রদান কেবল একটি স্বীকৃতি নয়, বরং এটি অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার লড়াইয়ে কর্মকর্তাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। পুলিশের এই কঠোর অবস্থান মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
জামালপুরের মাদারগঞ্জে কালোবাজারির জন্য অবৈধভাবে মজুদ করা ভিজিডি কার্ডের ৩০ কেজির ৪৬ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে র্যাব-১৪, মঙ্গলবার (১২ মে) বিকাল ৫ টায় সিধুলী ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী বাজার এলাকা থেকে এ চাল গুলো উদ্ধার করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের লুটাবর এলাকার ওসমান মন্ডলের ছেলে সাজেল ও সাইফুল এবং হাটবাড়ী এলাকার জাফর মন্ডলের ছেলে সরোয়ার হোসেন পাজি দীর্ঘদিন ধরে সরকারী চাল কেনা বেচা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামালপুর র্যাব ১৪ কমান্ডার মেজর লাবিদ আহমেদ ও মাদারগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভুমি) রাসেল দিও’র নেতৃত্বে র্যাব সদস্যরা শামগঞ্জ কালিবাড়ী বাজার এলাকায় সাজেল এর গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করে ৪৬ বস্তা উদ্ধার(১৩৮০) কেজি চাল উদ্ধার করেন। এ সময় চাল ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে চাল গুলো উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেন র্যাব।
মাদারগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভুমি) রাসেল দিও জানান, আসামী সাজেল মিয়া পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরে প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ স্নেহাশিস রায় জানান, তদন্তে আরো কাউকে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দীর্ঘ সাত বছর সুকৌশলে আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. ফরহাদ প্রকাশ ফয়সালের (৩০)। অবশেষে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫) এর এক ঝটিকা অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন সাবরাং ইউনিয়নের চান্দুলীপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত ফয়সাল টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের ০১ নং ওয়ার্ডের চান্দুলীপাড়া এলাকার বেলা মাছনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে রামু থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই তিনি দীর্ঘ ৭ বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল আজ সন্ধ্যায় সাবরাংয়ের চান্দুলীপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও চৌকস আভিযানিক দলটি তাকে ঘেরাও করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
”অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের এই আপোষহীন অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক দমনে র্যাবের এমন কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।