বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ।
উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভা শেষে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। সংসদ ভবন এলাকার পাশে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে তার স্বামী ও বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হবে।
তিনি আরও জানান, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সংসদ প্লাজায় জোহরের নামাজের পর জানাজা হবে। মরদেহ আজ এভারকেয়ারে থাকবে। কাল সকালে সেখান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ সংসদ ভবনে আনা হবে।
ঢাকা জেলা পুলিশের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সাভারের পোড়াবাড়ি এলাকা থেকে ৬ জন পেশাদার জুয়ারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)। এ সময় তাদের কাছ থেকে জুয়া খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম, নগদ অর্থ ও একটি প্লাস্টিকের পাটি জব্দ করা হয়।
রোববার (১৪ জুন ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সাভার থানাধীন পোড়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি (উত্তর) এর অফিসার ও ফোর্স এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন খোকন (৫০), মো. রাশেদ (৪০), মনির (৪৭), রবিন (২৫), সিনবাদ (২৬) এবং মো. খোকন হোসেন (৪১)। তারা সবাই সাভারের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে জুয়ার আসর পরিচালনা করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে এক বান্ডিল ৫২টি তাস, পাঁচ বান্ডিল ইনটেক তাস, নগদ ১১ হাজার ৫৫০ টাকা এবং জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত একটি প্লাস্টিকের পাটি জব্দ করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৮৬৭ সালের জুয়া আইনের ৩/৪ ধারায় সাভার মডেল থানায় নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং-৫৯/২৬, তারিখ ১৪ জুন ২০২৬, রুজু করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ দমনে চলমান বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা এবং অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৪ জুন রবিবার সকালে ১১:০০ ঘটিকায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে এ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ ইসরাইল হাওলাদার, পুলিশ কমিশনার, গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ।এ সময় সভায় সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে সকল পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য শোনেন। তারা ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত বিভিন্ন আবেদন এবং সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাদের আবেদন পূরণ ও সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন। কল্যাণ সভায় প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি জিএমপি তে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সার্বিক কল্যাণের আশ্বাস প্রদান করেন এবং ফোর্সের কল্যাণ নিশ্চিতের পাশাপাশি সেবা প্রত্যাশী জনগণকেও কাঙ্খিত সেবা প্রদানের জন্য সভায় অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
পরবর্তীতে ১৪:৩০ ঘটিকায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুমে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ ইসরাইল হাওলাদার মহোদয় গাজীপুর মহানগর এলাকায় আইন শৃঙ্খলা নিশ্চিত কল্পে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের আহবান জানান। তিনি মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজী প্রতিরোধ, হ্যানি ট্র্যাপ সহ কিশোর গ্যাং এর বিভিন্ন অপরাধ রোধ কল্পে সকলকে কঠোর ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান। জিএমপির বিভিন্ন ইউনিটে অনুদঘাটিত মামলা সমূহ উদঘাটন পূর্বক দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ওয়ারেন্ট তামিলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্যও দিক নির্দেশনা প্রদান করেন এবং পেশাদারিত্বে সাফল্য অর্জনকারী পুলিশ সদস্যদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) জনাব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনারবৃন্দ সহ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল ইউনিটের পুলিশ কর্মকর্তাগণ।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে সিকান্দার আলী (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি জেলে নিখোঁজের চার দিন পরও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যার পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারে চরম উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিখোঁজ সিকান্দার আলী টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খারাংগ্যাঘোনা এলাকার বাসিন্দা মকবুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সিকান্দার আলী এবং একই এলাকার বাহাদুর নামে আরেক ব্যক্তি নাফ নদীতে মাছ ধরতে যান। ঘটনার দিন গভীর রাতে বাহাদুর একা ফিরে এলেও সিকান্দার আলী আর বাড়ি ফেরেননি।
সিকান্দারের সঙ্গে থাকা বাহাদুর জানান, মাছ শিকারের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তাঁরা নাফ নদীর মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। প্রাণ বাঁচাতে বাহাদুর দ্রুত সাঁতরে বা নৌকা নিয়ে নিজের সীমানায় ফিরে আসতে সক্ষম হলেও সিকান্দার আলী নিখোঁজ হন।
নিখোঁজ জেলের ছোট ভাই মুফতি ওমর ফারুক বলেন: “আমার ভাই মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। ওই এলাকায় গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাঁকে মিয়ানমারের কোনো সশস্ত্র বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে, নাকি তিনি অন্য কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন—তা আমরা নিশ্চিত নই। বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে। আমাদের পরিবারের একটাই দাবি, আমার ভাই জীবিত বা মৃত যেভাবে থাকুক, তাঁকে যেন দ্রুত আমাদের বুকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।”
এদিকে পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, সিকান্দার আলী আরাকান আর্মির গুলিতে আহত হয়ে নদীতে তলিয়ে গেছেন অথবা তাঁদের হাতে আটক হয়েছেন।
এ বিষয়ে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, সিকান্দার আলী মাছ ধরতে যাওয়ার আগে বিজিবিকে কোনো তথ্য দেননি। বিজিবি শুক্রবার বিষয়টি জানতে পেরেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং নিখোঁজ জেলের তথ্য সংগ্রহের জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সীমান্তে এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিখোঁজ জেলের সন্ধান ও তাঁকে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।