শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম:
বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশি যুবককে বিজিবির কাছে হস্তান্তরব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনীর ওপর প্রশাসনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞাবেহেশতের টিকিট বিক্রির নামে অপশক্তির তৎপরতা রুখে দিনঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানশহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আগামীকালতারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধি কামনা করলেন মোদিফ্রিজভর্তি কুরবানির গোশত বনাম প্রতিবেশীর শূন্য থালা: আমাদের ইবাদত কতটা খাঁটি?পবিত্র ঈদুল আযহায় বাবা-মা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানরোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোরবানির মাংস বরাদ্দ: স্থানীয়দের ২৫% হিস্যার তালিকা প্রকাশের দাবিতে জেলা প্রশাসককে  আবেদন।অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও স্পষ্টীকরণউখিয়ায় ধ/র্ষ/ণের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজের জাগরণ শীর্ষক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিতউখিয়ার পালংখালীতে আধুনিক ও মানসম্মত ‘স্বপ্নঘর ফার্নিচার ও ক্রোকারিজ মার্ট’-এর শুভ উদ্বোধন।গাজীপুরে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস পালিতবিরুলিয়াবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ইউপি সদস্য আপেল দেওয়ানেরটেকনাফে র‌্যাবের অভিযান: মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত ৬ ভিকটিম উদ্ধার, মায়ানমার মুদ্রাসহ নারী পাচারকারী গ্রেফতার

হিলি সীমান্তে পতাকা বৈঠক:

বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশি যুবককে বিজিবির কাছে হস্তান্তর

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশি যুবককে বিজিবির কাছে হস্তান্তর
৬৬

দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক এক বাংলাদেশি যুবককে একদিন পর বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির নিকট ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উক্ত যুবককে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে স্থানীয় থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। বিএসএফের কাছ থেকে ফেরত আসা ওই যুবকের নাম বিষ্ণু কুমার সরকার (৩২)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার দুর্গাদহ গ্রামের বিশ্বনাথ সরকারের ছেলে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কূটনৈতিক ও সীমান্ত নথিসূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) আনুমানিক সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হিলি সীমান্তের একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে এক জরুরি ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আটক যুবককে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি আজ শুক্রবার দুপুর বারোটার দিকে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে জানান, গতকাল অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে বিজিবি ওই যুবককে উদ্ধার করার পর ২৮ মে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে হাকিমপুর থানায় লিখিতভাবে হস্তান্তর করে। বিজিবির পক্ষ থেকে থানায় সোপর্দ করার পর পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যুবকের স্থায়ী ঠিকানায় ও তাঁর পরিবারের কাছে আইনগতভাবে সংবাদ পাঠানো হয়েছে। বিষ্ণু কুমার সরকারের পরিবার থানায় এসে পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে তাঁর স্বজনদের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

বিজিবির দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে যে, ভারতে আটক হওয়া ওই যুবক গত ২৭ মে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্ত এলাকা দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। সে সময় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তে টহলরত অবস্থায় তাঁকে অনুপ্রবেশের দায়ে হাতেনাতে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ঘটনার পর বিজিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগের পর, একদিন আটক রাখার পর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের ফলপ্রসূ পতাকা বৈঠকের মাধমে তাঁকে বিজিবির নিকট সোপর্দ করা হয়।

সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা রোধে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা আবশ্যক। তবে বিজিবি ও বিএসএফের দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক যুবককে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা এবং পুলিশের আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়।

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনীর ওপর প্রশাসনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

বিশেষ সংবাদদাতা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনীর ওপর প্রশাসনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগামীকাল শনিবার বহুল আলোচিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিরোধিতা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার একটি নির্দিষ্ট পক্ষ ফেসবুকে সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জোরালো প্রচার চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। উদ্ভূত এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় সিনেমাটির প্রদর্শনী আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। আজ শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।

জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, সিনেমা প্রদর্শনীর বিষয়টা এখন এক প্রকার জাতীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা এই সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন, তারা মূলত নানামুখী ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামীকাল এই চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী করতে দেওয়াটা কোনোভাবেই সমীচীন হবে না বলে মনে করছে প্রশাসন। তাই শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আপাতত প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সার্বিক পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নথিসূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শহরের ঐতিহ্যবাহী অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি’। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্নাতক পর্যায়ের প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত এই সামাজিক সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ‘ভাতঘুমের সিনেমা আড্ডা’ শিরোনামে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে। তবে এবারের প্রদর্শনীর ঘোষণা আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে একশ্রেণির মানুষের পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, জেলার কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কিছু শিক্ষার্থী ফেসবুকে সিনেমাটি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন, যা নিয়ে অনলাইন মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার নির্মাতা তানিম নূর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছুদিন আগে তাঁর নিজের এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফিল্ম সোসাইটির একটি ছেলে যোগাযোগ করে সিনেমাটি দেখানোর আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি সানন্দে রাজি হন। কিন্তু পরবর্তীতে ফেসবুকে বেশ কয়েকজনের উগ্র পোস্ট দেখে তিনি স্তম্ভিত হন, যেখানে বলা হচ্ছে সেখানে সিনেমা চালানো যাবে না। নির্মাতা স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পাওয়া যেকোনো ছবি দেশের যেকোনো প্রান্তে দেখানোর বৈধ অধিকার রয়েছে। তারা ছবির পোস্টারে ক্রস চিহ্ন দিয়ে বেআইনিভাবে উগ্রবাদী প্রচারণা চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিজের পৈতৃক বাড়ি উল্লেখ করে তানিম নূর জানান, এই ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবেও ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে প্রদর্শনী নির্বিঘ্ন করতে ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানান।

একটি সেন্সর ছাড়পত্রপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিরোধিতার মুখে স্থগিত হওয়া সাংস্কৃতিক মুক্তবুদ্ধি চর্চার ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়। স্থানীয় সচেতন মহল আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

ঝিনাইদহে আইনমন্ত্রী:

বেহেশতের টিকিট বিক্রির নামে অপশক্তির তৎপরতা রুখে দিন

বিশেষ সংবাদদাতা, ঝিনাইদহ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
বেহেশতের টিকিট বিক্রির নামে অপশক্তির তৎপরতা রুখে দিন

একটি অপশক্তি ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির নামে সুকৌশলে অপতৎপরতা ও চক্রান্ত চালাচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এই ধরনের চরম বিভ্রান্তিকর ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে দ্রুত জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি। আজ শুক্রবার (২৯ মে) ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শেখপাড়া দুঃখী মাহমুদ ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় ও জাতীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, শৈলকুপার এই শান্তিপ্রিয় অঙ্গনে একটি নির্দিষ্ট অপশক্তি ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বেহেশতের টিকিট বিক্রির নামে অপতৎপরতা চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি উপস্থিত সুধীসমাজ ও তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, বেহেশতের টিকিট বিক্রি করার মনগড়া ও ভিত্তিহীন উদ্যোগ যে বা যারা নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন, সেই জায়গাটিতে আপনাদের কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই বিভ্রান্তি দূর করতে আপনারা সামাজিক স্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে এই অঞ্চলকে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও প্রগতিশীল আবাসভূমি হিসেবে গড়ে তোলায় অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি। এই অপশক্তি দমনের লড়াইয়ে আমি সবসময় আপনাদের সঙ্গে থাকব এবং পাশে থাকব।

উক্ত কলেজের একজন সাবেক ছাত্র হিসেবে নিজের আবেগ ও স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনাদের প্রতি আমার অত্যন্ত বিনীত ও জোরালো অনুরোধ, আপনারা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে সচেতন হোন। বর্তমান সময়ে মৌলবাদ ও মাদকের মরণব্যাধি গ্রাস থেকে আমাদের সমাজকে চিরতরে রক্ষা করতে আপনারাই আমার মূল শক্তি এবং আপনারাই আমার পথচলার অন্যতম প্রধান সারথি। তরুণ সমাজ যদি এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, তবে কোনো অপশক্তিই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

শৈলকুপার শেখপাড়া দুঃখী মাহমুদ ডিগ্রি কলেজের এই ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটি সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক এই ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীসহ কলেজের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং মন্ত্রীর সামাজিক সচেতনতামূলক আহ্বানের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।

ধর্মকে ব্যবহার করে যারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনমন্ত্রীর এই সতর্কবার্তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। শৈলকুপা তথা দেশবাসীকে মৌলবাদ ও মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে মন্ত্রীর আহ্বান অনুযায়ী সর্বস্তরের জনগণের ঐক্যবদ্ধ সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিশেষ সংবাদদাতা, ঢাকা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী রাজধানী ঢাকার কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করতে মাঠে নেমেছেন স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার বিকেল থেকে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করতে বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখছেন। আজ শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন রুট ও সড়কসমূহ ঘুরে দেখছেন বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য হলো কোরবানির বর্জ্য দ্রুত এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হচ্ছে কিনা তা সরাসরি নিশ্চিত করা। উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে বলেন, ‘রাজধানীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে ও দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হচ্ছে কিনা, তা সশরীরে দেখতেই আজ বিকেলে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বা আড়ম্বর ছাড়া তিনি নিজেই তাঁর গাড়ি চালিয়ে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুট ঘুরে দেখছেন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের খোঁজখবর নিচ্ছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের রুট প্ল্যান সম্পর্কে উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব গাড়ি নিয়ে গুলশান এভিনিউর বাসভবন থেকে বের হন। এরপর গুলশান-১ নম্বর সড়ক হয়ে হাতিরঝিল, রামপুরা রোড এবং মালিবাগের আবুল হোটেল মোড় অতিক্রম করেন। সেখান থেকে খিলগাঁও তালতলা মার্কেট হয়ে বাসাবো সড়ক পথে অগ্রসর হচ্ছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর ও নিজেই গাড়ি চালিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকির বিষয়টি রাজধানীর সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

জাহিদুল ইসলাম রনি আরও জানান, বাসাবো সড়ক পথ পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি ক্রমান্বয়ে কমলাপুর স্টেডিয়াম, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাম দিকে মোড় নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড় হয়ে ধোলাইখাল সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। এরপর শহীদ ফারুক সড়ক, দয়াগঞ্জ সড়ক দিয়ে ঐতিহ্যবাহী নারিন্দা হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় পৌঁছাবে। সেখান থেকে আদালত সড়ক হয়ে নয়া বাজার, বংশাল রোড হয়ে গুলিস্তান, শাহবাগ মোড়, এলিফ্যান্ট রোড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের রাস্তা দিয়ে নিউমার্কেট হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকে এগোবে। সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে ডান দিকে কলাবাগান, মিরপুর রোড ও সিটি কলেজের সামনে দিয়ে সীমান্ত স্কয়ার হয়ে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড, ২৭ নম্বর সড়ক এবং মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে মহাখালী সড়ক প্রদক্ষিণ করার কথা রয়েছে এই উপ-প্রেস সচিবের দেওয়া বিবরণী অনুযায়ী।

রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে দেশের সরকার প্রধানের এভাবে নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন স্পট পরিদর্শন করার ঘটনাটি প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। প্রধানমন্ত্রীর এই নিবিড় তদারকি ঢাকাবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ উপহার দিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।