Views: 24
রাজধানী ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা মেট্রোরেল প্রকল্প ইতোমধ্যে জনগণের ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি এই প্রকল্পটিকে একটি সফল ও যাতায়াতবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করে এর পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আজ রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয় স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে চড়ে উত্তরা দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল ডিপো পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে প্রতিটি কাজের জন্য দায়বদ্ধ। তাই যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের অর্থের অপচয় রোধ করা এবং কাজের গুণগত মানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস না করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান যে, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি স্তরে চুক্তির ন্যায্যতা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা বজায় রাখতে হবে। যদি কোনো প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পায়, তবে তার যথাযথ ও স্বচ্ছ কারণ জনগণের সামনে স্পষ্ট করা নিশ্চিত করতে হবে।
দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মেট্রোরেলকে এই ব্যবস্থার ‘ব্যাকবোন’ বা মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে রাজধানীর অধিক জনবহুল এলাকাগুলোতে মনোরেল চালুর সম্ভাবনাও সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। মূলত মেট্রোরেল, মনোরেল এবং বাস—এই তিন খাতের সমন্বয়ে একটি আধুনিক ও সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে রাজধানীবাসী খুব অল্প সময়ে নিরাপদ, আরামদায়ক ও মনোরম পরিবেশে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে পারবেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর মধ্যে একটি দ্রুতগামী ও কার্যকর যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে বলেন, ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত এসব প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী আধুনিক ও যুগোপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে যোগাযোগ খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থার চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। নিরাপদ ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার এই স্বপ্ন অচিরেই সফল হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
মেট্রোরেলের পর মনোরেল চালুর পরিকল্পনা রাজধানীবাসীর জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার এই সরকারি উদ্যোগ সফল হলে ঢাকার যানজট সমস্যা নিরসনে তা এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।