শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন

একজন দেশপ্রেমিক ও সচেতন পরোপকারী বেনাপোল কাস্টম কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী
স্টাফ রিপোর্টার / ৬১৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০

Views: 1

বিশেষ প্রতিনিধি :

সারা বিশ্বের কাছে যখন কোভিড-১৯ ভাইরাস অপরিচিত সে সময় একজন দেশ প্রেমিক। এগিয়ে এলেন মানুষের মাঝে হাজির হলেন জানালেন সচেতনার বাণী নিয়ে। তিনি বলেছিলেন, “আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে”। ২৯ শে জানুয়ারি ২০২০ বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, বেনাপোল কাস্টম হাউসে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সচেতনতামূলক সভা করেন। সে সময় করোনা ভাইরাসের কথা জনসাধারনের কাছে ছিল একটা হাস্যকর বিষয়। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করলো ৮ই মার্চ প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হলো বাংলাদেশে এর পর সবারই জানা সারা বিশ্ব থমকে গেছে এই ভয়ালো ছোয়াছে রোগের কাছে দেশে আক্রান্ত এখন ৪৩ হাজার। জনাব বেলাল হোসাইন চৌধুরীর এই করোনা রেড হুইসেলের কারনে, এখনো পর্যন্ত বেনাপোল কাস্টম হাউজে কোন কর্মকর্তা কর্মচারি আক্রান্তে খবর পাওয়া যায়নি। তাছাড়া এর সুফল পেয়েছে যশোরের বেনাপোল শুল্কভবন ও স্থলবন্দর। সারা দেশে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও সুরক্ষিত আছে বেনাপোল ও যশোরের মানুষ। যার অগ্রণী ভূমিকায় এটি সম্ভব হয়েছে তিনি বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী।

সরকারের যুগ্মসচিব পদমর্যযাদার এই কর্মকর্তার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীও। ইতিবাচক আলোচনা আছে সরকারের বিভিন্ন মহলেও। বৃত্তের বাইরে থেকে গিয়ে কাজ করে পেয়েছেন বিশ্বব্যাংক পুরুস্কার। বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, চীনের উহানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত এই খবর উঠে আসে। সেই সূত্র ধরে এবং অনলাইনের সাহায্যে বেনাপোল স্থলবন্দরে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী। তার উদ্যোগে করোনা মোকাবিলায় করণীয় ঠিক করতে সহকর্মীদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন। শুল্কভবন ও স্থলবন্দরের সঙ্গে সংশিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, ব্যাংক ও সিএন্ডএফ এর প্রায় দুইশত প্রতিনিধিকে নিয়ে ২৯ জানুয়ারি সচেতনতা সভা করেন। কাস্টমস ক্লাবে এ সভা হয়। তখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বিশ্বে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেনি। হু করোনা নিয়ে সভা করে ৩১ জানুয়ারি। কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গত ২ এপ্রিলে লন্ডনভিত্তিক অনুষ্ঠান টক সো এর সাক্ষাৎকারে, করোনা নিবারণে গত ২০ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল শুল্কভবনের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। বেনাপোল শুল্কভবন সূত্রে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই শুল্কভবন ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ও এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়। পর্যটকদের জন্যও শুল্কভবনের প্রধান ফটকে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া বন্দর ও শুল্কভবনের বাইরেও যাতে করোনার সংক্রমণ না হয়, সেজন্য বেনাপোল পৌর এলাকা, বেনাপোল ইউনিয়নের এলাকাবাসীকে সাবধান করতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। ব্যবসায়ী সমিতি, পরিবহন শ্রমিক সংগঠন, প্রেসক্লাব, পেশাজীবী সংগঠন, হোটেল ব্যবসায়ী, উপজেলা প্রশাসন এবং বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে করোনার ভয়াবহতা থেকে মানুষকে বাঁচাতে ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায় রাখার ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণাও চালানো হয়। এছাড়া এই দুর্যোগে দুস্থ ও দরিদ্র কর্মচারীদের জন্য তহবিল গঠন করে সেই টাকা বিতরণ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের উদ্বুদ্ধ করে গঠিত এই তহবিল থেকে কাস্টম ও বন্দরের সিপাহি, মালি, বাবুর্চি, বলবয়, সেবক সহায়কদের নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া গ্রামে দৈনিক আয় নির্ভর ৬২টি পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। বন্দরের দৈনিক আয়নির্ভর ও কর্মহীন ৩ শত পরিবারকে দেওয়া হয়েছে খাদ্যসামগ্রী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে? বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘সংক্রমণ ব্যাধির জন্য সীমান্তবর্তী এই এলাকাটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা করোনার বিষয়ে প্রথমে গণমাধ্যমে জানতে পারি। তারপর অনলাইনে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে জানা যায়, এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ। একজনের সংস্পর্শে অন্যজনে ছড়ায়। তারপরই আমরা সতর্ক হই। শুল্কভবন ও স্থলবন্দরের সাথে সম্পৃক্ত আমরা সকলে এখনও সুস্থ আছি।’কমিশনার বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কষ্ট হলেও আমাদের ঘরে থাকা উচিত। বাইরে এলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য বিধির পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব অবশ্যই মানতে হবে। পরোপকারী এই কমিশনার তিনি বলেন, ‘কতদিন পৃথিবীতে আছি জানিনা। করোনা জীবনের সব হিসেব বদলে দিয়েছে। বেঁচে থাকা অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতক্ষণ বেঁচে আছি দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। দেশের জন্য কাজ করতে চাই। বেলাল হোসাইন চৌধুরী ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর বেনাপোলে কাস্টমসে যোগ দেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্দরের কার্যক্রম ও আন্তঃবাণিজ্য সহজ করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বেনাপোল বন্দর, শুল্কভবন ও আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের আধুনিকতা এবং সেবার পরিবেশের জন্য ভারতেও তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। তার উদ্যোগে বন্দরের শুল্ক বিভাগে কার্যকর হওয়া ‘বেনাপাস সফটওয়্যারের’ জন্য সেরা উদ্ভাবনের পুরস্কার পান তিনি। এদিকে চলমান পরিস্থিতির মধ্যেও বন্দরকে সীমিত আকারে সচল রাখার ব্যাপারেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্বুদ্ধ করেছেন তিনি। বিশেষ করে পেঁয়াজ, আদা, মশলা ও ফলমূলসহ দেশে জরুরী পণ্য কম মূল্যে সহজলদ্ধ রাখার জন্য দুদেশের বাণিজ্য ঠিক রাখতে কাজ করছেন। এছাড়া। ব্যাবসায়ীদের ক্ষতি পোষাতে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার জনাব বেলাল হোসাইন চৌধুরী অবাধে সাইডডোর ও এফসিএলসহ সব ধরনের রেলকার্গো বেনাপোল দিয়ে আমদানি ও খালাসের অনুমতি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জরুরী চিঠি দেন। এর আগে কাস্টমস, স্থলবন্দর ও ব্যবসাবান্ধব রেলকার্গো চালুর জন্যে ত্রিপক্ষীয় সুপারিশ করা হয়েছিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে পত্র লেখেন। তার সুবাদে বাংলাদেশ রেল মন্ত্রণালয় একটি সিদ্ধান্ত নেন বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে রেলযোগে পণ্য আমদানিতে তাদের কোন বাধা নাই। তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে অনুমতি চেয়ে একটি পত্র প্রেরণ করেন। এবং তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ মে সন্ধ্যা সাতটা ৩০ মিনিটে বেনাপোল রেলওয়ে ষ্টেশনে ২১ টি ওয়াগনে করে আসে ৭৭৫টনের বিশাল ধানবীজের চালান। যেটা বেনাপোল কাস্টম কতৃপক্ষের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ায় এবং মাত্র ২৯ মিনিটে শুল্কায়ন হয় শুল্ককর আদায় হয় ৭৫লাখ ৩৩ হাজার ৫০৮ টাকা এই পণ্যর মাধ্যমে বেনাপোল কাস্টম ইতিহাসে যোগ হয় নতুন অধ্যায়।
আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update