বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম:
উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলি, যুবক হাসমত উল্লাহ রক্তাক্তSOC – Shadow of Change-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন: সভাপতি সোহান, সম্পাদক লুৎফুর। ‎পালংখালীতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক মিলনমেলাব্যবহৃত টিস্যু পকেটে রাখি, পরিবেশ রক্ষা আমাদের অভ্যাসের প্রতিফলন: গাজীপুরের জেলা প্রশাসকটেকনাফে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের বড় সাফল্য: বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেটসহ অস্ত্র উদ্ধারগাজীপুরে কিশোর অটোরিকশাচালক শুভকে গ/লা কে/টে হ/ত্যাপেশার মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে উখিয়ায় ওষুধ প্রতিনিধিদের বিশাল মানববন্ধনবান্দরবানে শিক্ষকদের অনিয়ম ও জরাজীর্ণ ভবনে ধুঁকছে মাংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টেকনাফে র‌্যাবের অভিযান: চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার মূল হোতা জাহাঙ্গীর গ্রেফতারপর্যটন ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত: বদলে যাচ্ছে হবিগঞ্জের প্রবেশদ্বার শায়েস্তাগঞ্জদুর্গম রুমায় উন্নয়নের দাবি, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় পাহাড়ের মানুষটঙ্গী থেকে নিখোঁজ হওয়া ৩ শিশু বরিশাল থেকে উদ্ধারধুনটে শীর্ষ মাদক কারবারি বেল্লাল গ্রেপ্তার৫০ কোটি টাকার মামলার জালে সাংবাদিকতা: হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনটেকনাফে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: বিদেশী রাইফেল ও ৭০ হাজার ইয়াবা জব্দ

রোহিঙ্গা ইস্যু

বিশ্বের রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকের এক-চতুর্থাংশেরও বেশী বাংলাদেশে

মোঃ হারুন অর রশিদ উখিয়া প্রতিনিধি কক্সবাজার প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বের রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকের এক-চতুর্থাংশেরও বেশী বাংলাদেশে
৫৭

জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে ৪৫ লাখ এর ও বেশী নাগরিক রাষ্ট্রবিহীন অবস্থায় আছেন। তাদের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি অন্তত ১৪ লাখ এ মুহূর্তে অবস্থান করছে বাংলাদেশে। এদের প্রায় সবাই রোহিঙ্গা, যাদের জন্মভূমি মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের শিবিরগুলো আজ বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠীর আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।

‎রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমনের ফলে কক্সবাজারের স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটি (আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়) যে ভয়াবহ মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, তা এক দীর্ঘস্থায়ী কষ্টের উপাখ্যান। ২০১৭ সালের পর থেকে ১৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার চাপ স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনকে চরম অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

‎বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর উপস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। স্থানীয়রা আগের চেয়ে অনেক বেশি দামে চাল, মাছ ও সবজি কিনতে হচ্ছে, যা স্থানীয় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অসহনীয়।

‎রোহিঙ্গারা কম মজুরিতে কাজ করায় স্থানীয় দিনমজুররা কাজ হারিয়েছে। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়েছে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি।

‎রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপন করতে গিয়ে হাজার হাজার একর সংরক্ষিত বন ও পাহাড় কাটা হয়েছে। অনেক চাষযোগ্য জমি এখন আর আবাদ করা যাচ্ছে না, যা স্থানীয়দের প্রধান আয়ের উৎস ছিল।

‎ক্যাম্পের ভেতরে ও আশেপাশে চুরি, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অপরাধী চক্রের কারণে স্থানীয় এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

‎বিপুল মানুষের চাপে এলাকার রাস্তাঘাট, পানি ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা তাদের নিজস্ব জমি ও সম্পদ ব্যবহার করতে পারছেন না, যা তাদের জন্য চরম হতাশার কারণ।

‎দেশী বিদেশী দাতা সংস্থা তথা এনজিওদের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কর্তৃক কক্সবাজারের স্থানীয় অধিবাসীদের (হোস্ট কমিউনিটি) জন্য ত্রাণ সহায়তার ২৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার জন্য বিধান থাকলেও বেশীরভাগ এনজিও এই নিয়ম মানেনা। নিয়ম অমান্যকারী এনজিওর বিরুদ্ধে সরকার ত্রাণ কার্যক্রম সাময়িক বা চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে পারলেও এখনো কোন শাস্থির ব্যবস্থা খো যায়নি।

‎এনজিওগুলো মূলত এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে অনুমোদনের ভিত্তিতে কাজ করে। এই নির্দেশিকা না মানলে বা নিয়ম ভঙ্গ করলে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো তাদের অনুমোদনের নবায়ন বন্ধ বা বাতিল করতে পারে।

‎এনজিওর প্রকল্প কার্যক্রমের বার্ষিক অডিট রিপোর্টে স্থানীয়দের ২৫ শতাংশ সহায়তার বিষয়টি না থাকলে অডিট আপত্তি উঠতে পারে, যা তাদের ভবিষ্যতে কাজ পাওয়ার সুযোগ কমিয়ে দেয়।

‎রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দিলেও, এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান হোস্ট কমিউনিটিকে তাদের নিজস্ব এলাকায় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক করে তুলছে। স্থানীয় জনগণের এই আত্মত্যাগ ও দুঃখের বোঝা দীর্ঘমেয়াদী, যার সুষ্ঠু সমাধান ও মানবিক প্রত্যাবাসনই কেবল এই অবস্থার অবসান ঘটাতে পারে

‎জাতিসংঘের ১৯৫৪ সালের কনভেনশন অনুযায়ী, ‘স্টেটলেস’ বা রাষ্ট্রবিহীন হলেন এমন ‘একজন ব্যক্তি যাকে কোনো রাষ্ট্র তার আইনের অধীনে নিজের নাগরিক হিসেবে গণ্য করে না’। অর্থাৎ তিনি একজন নাগরিকত্বহীন ব্যক্তি, কোনো দেশের নাগরিক নন, বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রই তাকে নিজের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। এ কারণে রাষ্ট্রবিহীন ব্যক্তিরা ভোটাধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি ও ভ্রমণের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

‎ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বড় অংশ বাংলাদেশ, ভারত এবং দক্ষিণপূর্ব ও দক্ষিণপশ্চিম এশিয়ায় অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৮৯ দশমিক ১ শতাংশের অবস্থানই এখন বাংলাদেশে। গত চার দশকে বিভিন্ন সময়ে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বৈশ্বিক সংখ্যা বিবেচনায় এবং রক্ষণশীল আনুমানিক হিসাব অনুসারে বিশ্বের মোট রোহিঙ্গা শরণার্থীর অন্তত ৪৫ শতাংশ এখন বাংলাদেশে।
‎মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার রাষ্ট্রবিহীন রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময়ে নানা দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এ বাস্তুচ্যুতি শুরু হয় মূলত ১৯৭০-এর দশকে। ১৯৭৮, ১৯৯১-৯২, ২০১২ ও ২০১৭—এ চার পর্বে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালাতে বাধ্য হন। এভাবে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রোহিঙ্গারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছেন। তাদের সবেচেয়ে বড় গন্তব্য হয়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশ। এছাড়া তারা আশ্রয় নিয়েছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে। থার্ড কান্ট্রি রিসেটলমেন্ট হওয়া কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা আছেন ইউরোপ, আমেরিকাসহ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও থার্ড কান্ট্রি রিসেটলড রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বহু ক্ষেত্রে সরকারিভাবে রেকর্ড হয়নি।

‎শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের পর থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসতে থাকেন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ছিলেন। ২০১৭ সাল থেকে এসেছেন আরো সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় নেয়া ১৪-১৫ লাখ রাষ্ট্রবিহীন রোহিঙ্গা শরণার্থী এখন বাংলাদেশে বসবাস করছেন।

‎বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। মিয়ানমার জান্তার চালানো গণহত্যা ও বলপূর্বক বিতাড়নের পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশে আশ্রয় নেয়া রাষ্ট্রবিহীন রোহিঙ্গাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে বাংলাদেশে।

‎কিন্তু জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এ শরণার্থী জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দেয়ায় পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় বেশি চাপে পড়ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোয় পর্যাপ্ত খাবার, শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারণে স্থানীয় বাংলাদেশীরাও নানা সংকটে রয়েছে। এ সংকট আগামী দিনে আরো ঘনীভূত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় জানিয়েছে, তারা সরকার ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয়, সুরক্ষাসহ জরুরি জীবনরক্ষাকারী সহায়তাকে অগ্রাধিকার দিতে কাজ করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা কমার আশঙ্কাসহ রাখাইন রাজ্যে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের সুযোগ আরো জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ রাখাইন এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। সেখানে জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জান্তার পাশাপাশি অন্যদের সম্পৃক্ততা জরুরি। কিন্তু গৃহযুদ্ধে মুখোমুখি দুটি পক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোয় সব মিলিয়ে এখন রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখেরও বেশি।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ২০১৭ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারে তৎকালীন ক্ষমতাসীন অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল, যার মধ্যস্থতায় ছিল চীন। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ১ লাখ ৮০ হাজার জনকে সম্প্রতি মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটি। তাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত নয়।

‎বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের সংরক্ষিত বন রোহিঙ্গাদের বসতি নির্মাণের কারণে ধ্বংস হয়েছে। আবার রোহিঙ্গাদের অবস্থান স্থানীয় বাংলাদেশীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাদ্য ও কাজের সুযোগের অভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় নিম্ন আয়ের অনেক মজুর কাজ হারাচ্ছেন। কারণ পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গারা অনেক কম দামেও শ্রম বিক্রিতে আগ্রহী।
‎সরজমিন তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, কক্সবাজার অঞ্চলে গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, লবণ চাষ, কৃষি বা নির্মাণসহ যেসব খাতে শ্রমিক প্রয়োজন, সেখানে রোহিঙ্গারা কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এতে স্থানীয়রা বেকার হয়ে অমানবিকতার কারনে সামাজিক অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।

সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানে মাদক চোরাচালানের প্রবণতা দিনদিন বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। জানা যায়, সীমানার ওই পাড়ে গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বর্তমান নিয়ন্ত্রণকারীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইয়াবার মতো মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এক্ষেত্রে সস্তায় মাদক বহনকারী হিসেবে রোহিঙ্গারা ব্যবহৃত হচ্ছে।

‎২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং নিরাপত্তার ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে। বর্দমান প্রেক্ষাপটে, জনগনের ভোটে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে আমাদের দাবি ও প্রত্যাশা সরকার যেন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে প্রত্যাবাসন রোডম্যাপ তৈরি করে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘বিশেষ কমিশন’ বা উচ্চপর্যায়ের দপ্তর গঠন করা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপরাধ, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান ও অস্ত্র ব্যবসা বন্ধে কঠোর আইন-শৃঙ্খলার ব্যবস্থা করা।

‎ রোহিঙ্গা আগমনের ফলে স্থানীয়দের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীবিকায় যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা নিরসনে বিশেষ অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান।
‎ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকার স্থানীয় যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

‎২০২৫-২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (ঔজচ) বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক দাতা ও জাতিসংঘকে (টঘঐঈজ) প্রয়োজনীয় অর্থায়নে বাধ্য করা।

‎ঘনবসতিপূর্ণ কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া আরও জোরদার ও নিরাপদ করা।
‎রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, পানি, চিকিৎসা, শিক্ষা) নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা।

‎ক্যাম্প নির্মাণের ফলে যে পরিমাণ বনাঞ্চল ধ্বংস হয়েছে, তা পুনঃবৃক্ষায়নের মাধ্যমে পরিবেশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া।
‎কক্সবাজারের রাস্তাঘাট ও স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ করা। [১, ২]
‎রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল মানবিক সংকট নয়, এটি একটি জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উচিত হবে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং একই সাথে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

‎লেখকঃ এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী, সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম, মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি ও চেয়ারম্যান পালংখালী ইউনিয়ন,পরিষদ, উখিয়া,কক্সবাজার।

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলি, যুবক হাসমত উল্লাহ রক্তাক্ত

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলি, যুবক হাসমত উল্লাহ রক্তাক্ত

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবার অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীদের গুলিতে হাসমত উল্লাহ (২২) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে বালুখালী ৮-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই অতর্কিত হামলার ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় ক্যাম্পজুড়ে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আহত হাসমত উল্লাহ ওই ক্যাম্পের বি-৪৩ ব্লকের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বালুখালী ক্যাম্প-০৮ ইস্ট এলাকায় আরসা (ARA) প্রধান নবী হোসেনের ভাই ভুলুর বসতঘরের সামনে অবস্থান করছিলেন হাসমত উল্লাহ। ঠিক সেই মুহূর্তে একদল অজ্ঞাত সন্ত্রাসী সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গুলিবর্ষণের এই ঘটনায় হাসমত উল্লাহর ডান হাতে দুটি গুলি বিদ্ধ হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা এবং এপিবিএন পুলিশের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে ক্যাম্প সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত কুতুপালং এমএসএফ (MSF) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক যুবক আহত হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান এই সশস্ত্র হামলা ও সহিংসতার ঘটনা সাধারণ বাসিন্দাদের জীবনের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

SOC – Shadow of Change-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন: সভাপতি সোহান, সম্পাদক লুৎফুর। ‎

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
SOC – Shadow of Change-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন: সভাপতি সোহান, সম্পাদক লুৎফুর। ‎

সামাজিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন SOC – Shadow of Change-এর নতুন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে আগামী মেয়াদের জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়।

‎নবগঠিত এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কামরান আলী চৌধুরী সোহান। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন এম লুৎফুর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফাইজাবুল আফ্রিদি ফাহিম।

‎সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হয়েছে। নবনির্বাচিত এই কমিটি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এবং সামাজিক উন্নয়নে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে সাধারণ সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

‎নবনির্বাচিত সভাপতি কামরান আলী চৌধুরী সোহান বলেন, “আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।”

‎নতুন এই নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভকামনা জানাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে, এই সুযোগ্য নেতৃত্বের হাত ধরে ‘Shadow of Change’ তাদের নতুন দিগন্তের পথে সফলভাবে এগিয়ে যাবে।

পালংখালীতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক মিলনমেলা

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
পালংখালীতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক মিলনমেলা

উখিয়ার পালংখালীতে আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উঠান বৈঠকে উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ।

“মানসম্মত শিক্ষা, জাতির প্রতিজ্ঞা”—এই দৃঢ় অঙ্গীকারকে হৃদয়ে ধারণ করে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়ায় এক ব্যতিক্রমী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুদের পঠন দক্ষতার উন্নয়ন, বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ এবং প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকাল ৪টায় পূর্ব ফারিরবিলের করাচি পাড়াস্থ সাইফুলের বাড়িতে আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে যা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম সিরাজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও প্রাক্তন সভাপতি হেলাল উদ্দিন। আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ জাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে বক্তারা শিশুদের মেধা বিকাশে কেবল বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর না করে অভিভাবকদের নিয়মিত তদারকির ওপর বিশেষ জোর দেন।

বৈঠকে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা বৃদ্ধি। শিশুদের রিডিং পড়ার সক্ষমতা বাড়াতে বাড়িতে নিয়মিত অনুশীলন করানোর জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া প্রতিদিন শিক্ষার্থীকে সময়মতো বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং ঝরে পড়া রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেওয়া হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, শুধু ক্লাসের পাঠ্যবই নয়, বরং শিশুর সৃজনশীল মেধা বিকাশে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। অভিভাবকরা সরাসরি শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় তাদের সন্তানদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উখিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম সিরাজী বলেন, একটি শিক্ষিত জাতি গঠনের মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করতে এবং শিক্ষার প্রকৃত গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে শুধু শ্রেণিকক্ষই যথেষ্ট নয়, অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সচেতন হতে হবে। তিনি আরও বলেন, আজকের এই উঠান বৈঠক সেই সচেতনতা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। উপস্থিত অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে নিজেদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ জাহান।

উখিয়ার দুর্গম এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই উঠান বৈঠক একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। শিক্ষক ও অভিভাবকদের এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চল থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নেমে আসবে এবং মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হবে।