বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম:
উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলি, যুবক হাসমত উল্লাহ রক্তাক্তSOC – Shadow of Change-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন: সভাপতি সোহান, সম্পাদক লুৎফুর। ‎পালংখালীতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক মিলনমেলাব্যবহৃত টিস্যু পকেটে রাখি, পরিবেশ রক্ষা আমাদের অভ্যাসের প্রতিফলন: গাজীপুরের জেলা প্রশাসকটেকনাফে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের বড় সাফল্য: বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেটসহ অস্ত্র উদ্ধারগাজীপুরে কিশোর অটোরিকশাচালক শুভকে গ/লা কে/টে হ/ত্যাপেশার মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে উখিয়ায় ওষুধ প্রতিনিধিদের বিশাল মানববন্ধনবান্দরবানে শিক্ষকদের অনিয়ম ও জরাজীর্ণ ভবনে ধুঁকছে মাংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টেকনাফে র‌্যাবের অভিযান: চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার মূল হোতা জাহাঙ্গীর গ্রেফতারপর্যটন ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত: বদলে যাচ্ছে হবিগঞ্জের প্রবেশদ্বার শায়েস্তাগঞ্জদুর্গম রুমায় উন্নয়নের দাবি, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় পাহাড়ের মানুষটঙ্গী থেকে নিখোঁজ হওয়া ৩ শিশু বরিশাল থেকে উদ্ধারধুনটে শীর্ষ মাদক কারবারি বেল্লাল গ্রেপ্তার৫০ কোটি টাকার মামলার জালে সাংবাদিকতা: হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনটেকনাফে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: বিদেশী রাইফেল ও ৭০ হাজার ইয়াবা জব্দ

স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন

অব্যবহৃত ৬ শিশু হাসপাতাল চালুর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
অব্যবহৃত ৬ শিশু হাসপাতাল চালুর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৫৮

দেশের শিশু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্য খাতের অচলাবস্থা নিরসনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ১২ এপ্রিল দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমে ‘৩২০ কোটি টাকা খরচে ৬ শিশু হাসপাতালের ভবন পড়ে আছে’ শীর্ষক একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি দেশের রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও কুমিল্লায় নির্মিত আধুনিক ছয়টি হাসপাতাল ভবন বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত এই বিশাল অবকাঠামো কেন জনসেবায় আসছে না, তা নিয়ে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এবং স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নির্দেশনা প্রদান করেন যে, অনতিবিলম্বে এই ছয়টি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তা জনসাধারণের চিকিৎসার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। তিনি কেবল মৌখিক নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং আগামী ২ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন ও অগ্রগতির সার্বিক প্রতিবেদন তাঁর দপ্তরে পেশ করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকের আলোচনায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, বর্তমানে আংশিক চালু থাকা ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটিকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করতে হবে। এছাড়াও রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালসহ অন্যান্য থমকে থাকা স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলো দ্রুত কার্যকর করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতা সহ্য করা হবে না।

উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে নীলফামারীতে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চীনা দূতাবাসকে সম্পৃক্ত করে এই মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নীলফামারী সদর উপজেলায় নির্মিতব্য এই হাসপাতালটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ‘প্রতিটি জেলায় আধুনিক সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠা’র লক্ষ্যের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, প্রায় ২ কোটি জনগোষ্ঠীর এই উত্তরাঞ্চলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবার অভাব দীর্ঘদিনের। এই হাসপাতালটি নির্মিত হলে এটি একটি আঞ্চলিক রেফারেল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে এবং জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য মানুষকে আর রাজধানীমুখী হতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী ও কৌশলগত পদক্ষেপ দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য কাঠামোকে শক্তিশালী করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশেষ করে শিশু হাসপাতালগুলো সচল হলে দেশের মা ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসে এটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলি, যুবক হাসমত উল্লাহ রক্তাক্ত

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলি, যুবক হাসমত উল্লাহ রক্তাক্ত

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবার অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীদের গুলিতে হাসমত উল্লাহ (২২) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে বালুখালী ৮-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই অতর্কিত হামলার ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় ক্যাম্পজুড়ে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আহত হাসমত উল্লাহ ওই ক্যাম্পের বি-৪৩ ব্লকের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বালুখালী ক্যাম্প-০৮ ইস্ট এলাকায় আরসা (ARA) প্রধান নবী হোসেনের ভাই ভুলুর বসতঘরের সামনে অবস্থান করছিলেন হাসমত উল্লাহ। ঠিক সেই মুহূর্তে একদল অজ্ঞাত সন্ত্রাসী সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গুলিবর্ষণের এই ঘটনায় হাসমত উল্লাহর ডান হাতে দুটি গুলি বিদ্ধ হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা এবং এপিবিএন পুলিশের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে ক্যাম্প সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত কুতুপালং এমএসএফ (MSF) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক যুবক আহত হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান এই সশস্ত্র হামলা ও সহিংসতার ঘটনা সাধারণ বাসিন্দাদের জীবনের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

SOC – Shadow of Change-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন: সভাপতি সোহান, সম্পাদক লুৎফুর। ‎

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
SOC – Shadow of Change-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন: সভাপতি সোহান, সম্পাদক লুৎফুর। ‎

সামাজিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন SOC – Shadow of Change-এর নতুন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে আগামী মেয়াদের জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়।

‎নবগঠিত এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কামরান আলী চৌধুরী সোহান। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন এম লুৎফুর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফাইজাবুল আফ্রিদি ফাহিম।

‎সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হয়েছে। নবনির্বাচিত এই কমিটি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এবং সামাজিক উন্নয়নে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে সাধারণ সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

‎নবনির্বাচিত সভাপতি কামরান আলী চৌধুরী সোহান বলেন, “আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।”

‎নতুন এই নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভকামনা জানাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে, এই সুযোগ্য নেতৃত্বের হাত ধরে ‘Shadow of Change’ তাদের নতুন দিগন্তের পথে সফলভাবে এগিয়ে যাবে।

পালংখালীতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক মিলনমেলা

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
পালংখালীতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক মিলনমেলা

উখিয়ার পালংখালীতে আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উঠান বৈঠকে উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ।

“মানসম্মত শিক্ষা, জাতির প্রতিজ্ঞা”—এই দৃঢ় অঙ্গীকারকে হৃদয়ে ধারণ করে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়ায় এক ব্যতিক্রমী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুদের পঠন দক্ষতার উন্নয়ন, বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ এবং প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকাল ৪টায় পূর্ব ফারিরবিলের করাচি পাড়াস্থ সাইফুলের বাড়িতে আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে যা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম সিরাজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও প্রাক্তন সভাপতি হেলাল উদ্দিন। আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ জাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে বক্তারা শিশুদের মেধা বিকাশে কেবল বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর না করে অভিভাবকদের নিয়মিত তদারকির ওপর বিশেষ জোর দেন।

বৈঠকে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা বৃদ্ধি। শিশুদের রিডিং পড়ার সক্ষমতা বাড়াতে বাড়িতে নিয়মিত অনুশীলন করানোর জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া প্রতিদিন শিক্ষার্থীকে সময়মতো বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং ঝরে পড়া রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেওয়া হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, শুধু ক্লাসের পাঠ্যবই নয়, বরং শিশুর সৃজনশীল মেধা বিকাশে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। অভিভাবকরা সরাসরি শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় তাদের সন্তানদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উখিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম সিরাজী বলেন, একটি শিক্ষিত জাতি গঠনের মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করতে এবং শিক্ষার প্রকৃত গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে শুধু শ্রেণিকক্ষই যথেষ্ট নয়, অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সচেতন হতে হবে। তিনি আরও বলেন, আজকের এই উঠান বৈঠক সেই সচেতনতা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। উপস্থিত অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে নিজেদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ জাহান।

উখিয়ার দুর্গম এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই উঠান বৈঠক একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। শিক্ষক ও অভিভাবকদের এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চল থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নেমে আসবে এবং মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হবে।